১৮:১৬:৫৭

মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসী শ্রমিকরা জবরদস্তির শিকার : আইএলও

শুনুন /

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও জানিয়েছে যে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রায় ছয় লাখ অভিবাসী শ্রমিক জবরদস্তিমূলক শ্রম আদায়ের শিকার হচ্ছেন।

বুধবার প্রকাশিত ঐ অঞ্চলের অভিবাসী শ্রমিকদের অবস্থা সম্পর্কে আই এল ও'র সর্বসাম্প্রতিক রিপোর্টটিতে বলা হয় যে প্রায়শ:ই এসব শ্রমিকরা শঠতার শিকার হয়ে ফাঁদে পড়ে জবরদস্তি শ্রম ও যৌন শোষণের শিকার হন এবং তাঁদেরকে সেখান থেকে যেতে দেওয়া হয় না।

রিপোর্টে বলা হয় যে মধ্যপ্রাচ্যে যদিও অভিবাসী শ্রমিকদের উপস্থিতির হার সবচেয়ে বেশি তবুও সেখানকার শ্রম আইনের দূর্বলতার কারণে এসব শ্রমিকরা শোষণের ঝুঁকির মুখে পড়েন।

আই এল ও বলছে যে অভিবাসী শ্রমিকরা চুক্তি বাতিল অথবা অন্যকোন চাকরি নিতে চাইলে তাঁদেরকে আটক করা অথবা দেশে ফেরৎ পাঠানোর হুমকির মুখোমুখি হতে হয়।

আই এল ও'র হেলেন হ্যারফ-ট্যাভেল বলছেন যে আরব দেশগুলোর অনেকজায়গায় সংগঠন করার অধিকার না থাকায় শ্রমিকদের অভিযোগ তুলে ধরার সুযোগ নেই।

হেলেন হ্যারফ-ট্যাভেল বলেন যে মধ্যপ্রাচ্যে যাঁরা পাচার হচ্ছেন তাঁদেরকে অপহরণ করা হয় না। কিন্তু, তাঁরা হলেন কম দক্ষ অভিবাসী শ্রমিক যাঁরা একটা ভালো কাজ খুঁজছেন।

তিনি বলেন যে তাঁদেরকে একটা নির্দিষ্ট চাকরি কিম্বা কাজের এবং থাকার পরিবেশের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় কিন্তু সেই দেশটিতে পৌঁছানোর পর তাঁরা বুঝতে পারেন যে তাঁদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে। তাঁরা তখন এমন এক ফাঁদে আটকে যান যেখানে তাঁরা শ্রম দিতে বাধ্য হন এবং চাইলেও সেখান থেকে চলে যেতে পারেন না।

হেলেন হ্যারফ-ট্যাভেল বলেন যে আমরা যদি গৃহস্থালী কাজের দিকে নজর দেই তাহলে দেখা যায় যে গৃহকর্মীদেরকে শ্রম আইনের আওতায় স্বীকৃতি দিয়েছে একমাত্র জর্ডান।

তিনি বলেন যে অন্যরা যেসব খসড়া করেছে এবং সেগুলো নিয়ে আলোচনা করছে তাতে গৃহকর্ম বা কৃষিকাজের মতো বিষয়গুলোকে শ্রম আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে ঘাটতি রয়ে গেছে।

আই এল ও ঐ অঞ্চলে কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া তদারকি, দুর্ব্যবহারসহ অভিবাসী এবং নিয়োগকর্তাদের অভিযোগ তদন্ত এবং নিষ্পত্তির ক্ষমতা শ্রম মন্ত্রণালয়গুলোকে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের সমর্থন চেয়েছেন।

বুধবার আপোষরফার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারব্যবস্থার ভূমিকা বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এক বিতর্কের সূচনায় মি বান একথা বলেন।

একটি সমাজ ঠিক কখন তার সংঘাতের উৎস পর্য্যাপ্ত পরিমাণে অনুসন্ধান করে জনগণের অভিযোগের নিষ্পত্তি করতে পারবে তা জানা কঠিন হতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

মি বান সাধারণ পরিষদকে বলেন যে সংঘাত অবসানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে সময় ব্যয় এবং চেষ্টার পরও প্রায়শই দেখা যায় যে তখনও টান টান আবেগ ও উত্তেজনা বজায় রয়েছে যা সামান্য উস্কানিতেই জ্বলে উঠতে পারে।

মি বান বলেন যে একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক অপরাধ বিচারের ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তাকে সমর্থন করা ছাড়া শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের মর্য্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য অর্জনের আশা করা যায় না।

মি বান বলেন যে আমি এই কক্ষে উপস্থিত সবাই এবং বিশ্বব্যাপী আমাদের সহযোগীদের সবার প্রতি এই ব্যবস্থাকে শক্তিশালী ও সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি।

মি বান বলেন যে সেটা আমাদের সবার দায়িত্ব , সেটাতেই আমাদের সবার স্বার্থ ।

মহাসচিব বলেন যে সংঘাতের সময় সংঘটিত অপরাধের বিচারের জন্যই ট্রাইব্যুনাল এবং আদালত গঠিত হয়েছে।

তিনি বলেন যে বিচারের এসব উপকরণকে সমর্থনের অর্থ হচ্ছে সেগুলোকে মর্য্যাদা দেওয়া এবং তাদের স্বাধীনতা, নিরপেক্ষতা ও সততার বিষয়কে প্রশ্নবিদ্ধ না করা।

বিশ্ব খাদ্য মূল্য সূচক এক শতাংশ বেড়েছে

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও বলছে যে মার্চ মাসে বিশ্বে খাদ্য দ্রব্যের মূল্যসূচক এক শতাংশ পরিমাণে বেড়েছে।

সংস্থা বলছে যে প্রধানত দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্য এগারো শতাংশ বেড়ে যাওয়ার কারণেই সূচকের এই বৃদ্ধি।

খাদ্যমূল্যের সূচকে বিভিন্নধরণের পণ্যের মধ্যে দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের প্রভাব প্রায় সতেরো শতাংশ।

এফ এ ও'র খাদ্য মূল্য সূচকে শষ্যদানা, চিনি, দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্য এবং মাংসসহ কিছু খাদ্যদ্রব্যের মূল্য পরিবর্তনকে হিসাবে নেওয়া হয়।

এফ এ ও বলছে যে ফেব্রুয়ারী মাসে খাদ্যশস্যের দাম অপরিবর্তিত ছিলো।

মানব উন্নয়নে বনায়নের অবদান বাড়ছে : এফ এ ও

তুরস্কের ইস্তান্বুলে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া জাতিসংঘ বন ফোরামে মানব উন্নয়নে বনাঞ্চলের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক অবদানের উন্নততর রেকর্ড সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও'র বনবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী মহাপরিচালক এবং বনবিষয়ে সহযোগিতার ফোরাম কোলাবোরেটিভ পার্টনারশিপ অন ফরেষ্টস এর চেয়ারম্যান, ডোয়ার্ডো রোহাস-ব্রিয়ালেস বলেন যে বন সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ব্যাবস্থা পর্য্যালোচনার পথ এই ফোরামে উন্মোচিত হবে।

মি রোহাস ব্রিয়ালেস বলেন যে কার্য্যত বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে পরিবেশবান্ধব প্রবৃদ্ধি, দারিদ্র দুরীকরণ এবং টেকসই উন্নয়নে বন এবং বনায়নের অবদান ক্রমশই তার স্বীকৃতি লাভ করছে। তারপরও আমাদের উন্নততর রেকর্ড সংরক্ষণের ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে করে মানব উন্নয়নে বনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবদানকে আরো দক্ষতার সাথে ছড়িয়েদেওয়া যায়।

নাগরিকত্বহীন ব্যাক্তির মর্য্যাদা নির্ধারণে যুক্তরাজ্যের নতুন পদ্ধতির প্রশংসায় ইউএনএইচসিআর

নাগরিকত্বহীন ব্যাক্তির মর্য্যাদা নির্ধারণে যুক্তরাজ্য যে নতুন পদ্ধতি চালু করেছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা – ইউ এন এইচ সি আর তাকে স্বাগত জানিয়েছে।

গত ছয়ই এপ্রিল থেকে কার্য্যকর হওয়া এই পদ্ধতিটি দেশটিতে অবস্থানরত নাগরিকত্বহীন লোকেদের জন্য কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা ব্যাখ্যা করেন ইউ এন এইচ সি আরের মুখপাত্র মেলিসা ফ্লেমিং।

মেলিসা ফ্লেমিং বলেন যে যে বা যাঁরা কোন নথিপত্র ছাড়া , স্বীকৃতি ছাড়া, আইনগতভাবে একটা সংকটের মধ্যে পড়ে সমাজের প্রান্তিক অবস্থানে অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যে তাঁদের উপস্থিতি এর মধ্য দিয়ে বৈধতা পাবে।

এটিকে একটি যুগান্তকারিী পদক্ষেপ অভিহিত করে মিস ফ্লেমিং বলেন যে বিশ্বে এখন এধরণের রাষ্ট্রহীন লোকের সংখ্যা এক কোটি কুড়ি লাখ। নাগরিকত্বহীন লোকেরা যেসব দেশে বাস করছেন তাঁরা সাধারণত সেখানেই থেকে যান – যদিও কেউ কেউ অভিবাসন করে থাকেন।

মিস ফ্লেমিং বলেন যে নাগরিকত্বহীন ব্যাক্তি কোন দেশে অভিবাসন করতে চাইলে দেখা যায় যে তার আশ্রয়প্রার্থনার আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে কেননা তিনি যুদ্ধরত কোন দেশ থেকে আসেননি।

তিনি বলেন যে দেখা যায় এসব লোকজন রাস্তায় জীবনযাপন করছেন অথবা তাদেরকে কোন শিবিরে আটকে রাখা হয়েছে। তিনি জানান যে অনেক দেশ যুক্তরাজ্যের মতো ব্যবস্থা অনুসরণের অঙ্গীকার করেছে।

এইডস, যক্ষা ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে ১৫০০ কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ

এইডস, যক্ষা এবং ম্যালেরিয়া প্রতিরোধে গঠিত বৈশ্বিক তহবিল জানিয়েছে যে যেসব দেশ এই সব সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই করছে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল সময়ে তাদেরকে কার্য্যকর সহায়তা দেওয়ার জন্য তারা দেড় হাজার কোটি ডলার সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

সরকার, নাগরিক সমাজ এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠান এবং ভূক্তভোগী জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করার কাজে নিয়োজিত এই তহবিলের পক্ষে সোমবার ব্রাসেলসে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

এই তহবিলের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এইডস, যক্ষা এবং ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যেটুকু অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে তাতে গতিসঞ্চার করতে তাঁরা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

অনেক দেশ আর্থিক সংকটের সম্মুখীন এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে তহবিলের পক্ষ থেকে বলা হয় স্বাস্থ্যখাতে বিনিয়োগের মূল্য অনেক বেশি।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন