১৬:৫৬:৪৭

বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের আহ্বান: আপনার রক্তচাপ জানুন, ঝুঁকি কমান

শুনুন /

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও জানিয়েছে যে বিশ্বে একশো কোটিরও বেশি লোক রক্তের উচ্চচাপ বা হাইপারটেনশনের শিকার।

সংস্থা জানায় রক্তের উচ্চচাপে ভোগার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি দেখা যায় আফ্রিকায় যেখানে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এর হার হচ্ছে প্রায় ছেচল্লিশ শতাংশ।

সাতই এপ্রিল, বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসের প্রাক্কালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রক্তের উচ্চচাপজনিত রোগ প্রতিরোধের কার্য্যক্রম জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে।হৃদরোগ, কিডনি অচল হয়ে যাওয়া এবং অন্ধত্বের অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে রক্তের উচ্চচাপ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মানুষ যখন তার রক্তচাপের মাত্রা সম্পর্কে সচেতন থাকে তখন সে তা নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা নিতে পারে।

উঁচু রক্তচাপের ঝুঁকি কীভাবে কমানো যায় তা ব্যাখ্যা করেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডঃ শান্তি মেন্ডিজ।

ডঃ মেন্ডিজ বলেন যে অধিকাংশ সময়েই পরিস্থিতি জটিল না হওয়া পর্য্যন্ত কোন উপসর্গ দেখা যায় না।এবং এর অর্থ হচ্ছে আপনাকে আপনার সংখ্যাগুলো জানতে হবে।

ডঃ মেন্ডিজ বলেন যে সবাইকেই নিজেদের রক্তচাপের মাপ নিতে হবে, বিশেষ করে, যাঁদের বয়স চল্লিশের ওপর কেননা ঐ বয়সের পর রক্তচাপ বৃদ্ধির একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

ডঃ মেন্ডিজ বলেন যে কতোগুলো ঝুঁকির উৎস সম্পর্কে আপনার জীবনধারায় সঠিক ব্যবস্থা নিলে – বিশেষ করে লবণ খাওয়া কমানো, অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও পটাশিয়ামসমৃদ্ধ ফল এবং সবজি খাওয়া, অ্যালকোহলের ক্ষতিকর ব্যবহার কমানো, ওজন ঠিক রাখার জন্য যথেষ্ট পরিমাণে শারীরিক সক্রিয়তা বজায় রাখা এবং বাড়তি আহার না করা – যেগুলোর সবই রক্তচাপ বাড়িয়ে দিতে পারে।

২০১১'র সেপ্টেম্বরে সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধানদের শীর্ষসম্মেলনে গৃহীত সংক্রমণ ঘটে না এমন সব রোগের বিষয়ে জাতিসংঘ ঘোষণার আলোকে সবাইকে রক্তচাপের মাপ জানতে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই প্রচারাভিযান শুরু করেছে।

নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তার প্রাথমিক দায়িত্ব সরকারের : এফ এ ও প্রধান

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি বিষয়ক সংস্থা, এফ এ ও'র মহাপরিচালক হোসে গ্রাজিয়ানো ডি সিলভা বলেছেন যে নাগরিকদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে সরকারের এবং সেক্ষেত্রে জাতীয় নেতৃত্ব এবং তাদের উদ্যোগ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়সীমা ২০১৫ সাল পার হওয়ার পর বিশ্বে ক্ষুধা মোকাবেলায় কৌশল কি হওয়া উচিৎ সেবিষয়ে বৃহস্পতিবার এক উচ্চপর্য্যায়ের বৈঠকে মি ডি সিলভা এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন যে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা আমাদেরকে সামনে এগিয়ে দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু, এখনও বিশ্বে সাতাশি কোট লোক ক্ষুধার শিকার। ক্ষুধার বিরুদ্ধে সংগ্রাম শেষ হতে এখনও অনেক বাকি।

মি ডি সিলভা বলেন যে খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার বিষয়ে একমাত্র কার্য্যকর জবাব হচ্ছে জাতীয় পর্য্যায়ে রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্য্যায়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং দাতাদের সমর্থনে সেই অঙ্গীকারকে সুদৃঢ়করণ।

এফ এ ও মহাপরিচালক বলেন যে যেহেতু বিশ্বে সবাইকে খাওয়ানোর মতো পর্য্যাপ্ত খাদ্য উৎপাদিত হয় সেহেতু এখন প্রয়োজন সবার খাদ্যপ্রাপ্তি এবং স্থানীয়ভাবে সবার পর্য্যাপ্ত পুষ্টির ব্যবস্থা করা।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বৈশ্বিক অস্ত্র বাণিজ্য সনদ পাশ

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ প্রথাগত অস্ত্রের বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে মঙ্গলবার একটি বৈশ্বিক অস্ত্র বাণিজ্য সনদ অনুমোদন করেছে। যেসব অস্ত্র এই সনদের আওতায় পড়বে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে রণক্ষেত্রের ট্যাংক, যুদ্ধে ব্যবহার্য্য সশস্ত্র যান, বড়-ক্যালিবারের গোলা নিক্ষেপে সক্ষম পদ্ধতি, যুদ্ধবিমান, হামলা চালাতে সক্ষম হেলিকপ্টার, যুদ্ধজাহাজ, ক্ষেপণাস্ত্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপক , ক্ষুদ্র অস্ত্র এবং হালকা অস্ত্র।

প্রস্তাবটির পক্ষে ভোট পড়ে ১৫৪টি। বিপক্ষে ভোট দেয় তিনটি দেশ – গণতান্ত্রিক গণপ্রজাতন্ত্রী কোরিয়া, ইরান এবং সিরিয়া। তেইশটি দেশ ভোটদানে বিরত থাকে।

দুই সপ্তাহ ধরে আলাপ-আলোচনার পরও অস্ত্র বাণিজ্য বিষয়ে জাতিসংঘ সম্মেলনের চূড়ান্ত অধিবেশনে গত শুক্রবার ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে কোন মতৈক্য না হওয়ায় সাধারণ পরিষদে বিষয়টিতে এই প্রস্তাব গৃহীত হয়।

সাধারণ পরিষদের সভাপতি, ভূক জেরেমিচ, অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী প্রতিনিধিদের বলেন যে সনদের ভাষা জোরালো এবং বাস্তবায়নযোগ্য।

রাষ্ট্রদূত জেরেমিচ বলেন যে বহুদিক থেকেই এটি ভিত্তিস্থাপনকারী।এই সনদ বলছে যে অস্ত্র রপ্তানীকারীদেশগুলো তাদের অস্ত্র বিক্রি এবং স্থানান্তরের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে। যেসব অস্ত্র তাঁরা বিক্রি করছেন সেসব অস্ত্র মানবাধিকার ক্ষুণ্ন করা এবং মানবাধিকার আইন লংঘনে ব্যবহৃত হবে কিনা তার একটি সমীক্ষা চালাতেও তাঁরা বাধ্য থাকবেন।

দেশের ভিতরে বা আন্তর্জাতিক পরিসরে অস্ত্র কেনা বা বেচার ক্ষেত্রে এই সনদের স্বাক্ষরদাতাদের নিয়ন্ত্রণমূলক অধিকার এতে রক্ষা করা হয়েছে।

কোন পরিস্থিতিতে কোন রাষ্ট্রের নাগরিকরা অস্ত্র রাখতে পারবে বা তা ব্যবহার করতে পারবে সেটা নির্ধারণেও রাষ্ট্রের অধিকার এই সনদে রক্ষিত হয়েছে।

মাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টিতে জাতিসংঘ অঙ্গীকারাবদ্ধ

মাইন এবং যুদ্ধে ব্যবহৃত বিস্ফোরক-অবশিষ্টের ঝুঁকি দূর করা শান্তিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।
চৌঠা এপ্রিল মাইন কার্য্যক্রম সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ , মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন যে মাইন এবং যুদ্ধের অন্যান্য বিস্ফোরক-অবশিষ্টের বিপদ থেকে বিশ্বকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এসব বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে জাতিসংঘ অঙ্গীকারাবদ্ধ।

জাতিসংঘের মাইন অপসারণ কার্য্যক্রম, ইউ এন এম এ এস এর পরিচালক, অ্যাগ্নিস মারসাইলু বলেন যে এই দিবসটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে পৃথিবীতে এই ঝুঁকির দূষণ কতোটা বিস্তৃত।

অ্যাগ্নিস মারসাইলু বলেন যে বিশ্বব্যাপী বহু দেশে অনেকেই পানি আনতে যেতে পারেন না অথবা পানি আনতে গেলে অঙ্গহানির ঝুঁকি নিতে হয়। বাচ্চারা খেলতে পারে না অথবা মায়েরা ঘুমাতে পারেন না – কারণ তাঁদের বাচ্চারা জায়গাটা নিরাপদ কিনা সেটা না জেনেই বাইরে খেলতে যায়।

১৯৯৭ সাল থেকে আন্তর্জাতিক মাইন বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

ছেলেদের অটিজমের ঝুঁকি চারগুণ বেশি

দোসরা এপ্রিল জাতিসংঘে বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবসে অটিজমের ওপর আলোকপাত করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও অটিজমের বনর্ণায় বলেছে যে এটা এমন একটি অবস্থা যা জীবনের প্রথমদিককার বছরগুলোতেই স্পষ্ট হতে থাকে।এটা একধরণের স্নায়বিক বৈকল্যের কারণে ঘটে থাকে যা মস্তিষ্কের কার্য্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সব অঞ্চলেই অটিজমের হার অনেক বেশি এবং এটা শিশুদের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে – যার প্রতিফলন পরিবার, জনগোষ্ঠী এবং সমাজেরও ওপর পড়ছে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আবুল কালাম আব্দুল মোমেন বলছেন যে প্রতি অষ্টাশি জন শিশুর মধ্যে একজন এবং প্রতি চুয়ান্ন জন ছেলের মধ্যে একজন এই অটিজমের শিকার।

রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন যে ছেলেদের অটিজমের শিকার হওয়ার আশঙ্কা চার গুণ বেশি। অটিজমের কারণে বছরে ব্যয় হচ্ছে তেরো হাজার সাতশো কোটি ডলার এবং এটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে। দুঃখজনকভাবে, গবেষণা বাজেটের পাঁচ শতাংশেরও কম পেয়ে থাকে এই বিষয়টি এবং অনেকেই মনে করেন যে এই রোগ থেকে কোন মুক্তি নেই।

মহাসচিব বান কি মুনের মতে বর্তমান গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে রোগের প্রাথমিক পর্য্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া গেলে অটিষ্টিক ব্যাক্তির ক্ষমতা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পায়।

বিশ্বে সবচেয়ে বেশি ভ্রমণ করেন চীনারা

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্য্যটন সংস্থা – ইউ এন ডাব্লু টি ও বলছে যে চীনারা হলেন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভ্রমণকারী।

সংস্থা বলছে বিশ্ব পর্য্যটন বাজারের এক নম্বর উৎস এখন চীন।

২০১২ সালে বিদেশ ভ্রমণে চীনের ব্যয় দশ হাজার দুশো কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

দুই হাজার সালে বিদেশে চীনা ভ্রমণকারীর সংখ্যা যেখানে ছিলো এক কোটি সেখানে ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট কোটি ত্রিশ লাখে।

বিদেশে চীনা পর্য্যটকদের ব্যয়ও দুই হাজার সালের তুলনায় বেড়েছে আটগুণ।

সংস্থাটি বলছে যে দ্রুত নগরায়ণ, আয়ের উদ্বৃত্ত এবং বিদেশ সফরের ওপর নিয়ন্ত্রণ শিথিল হওয়াই চীনা ভ্রমণকারীদের এই প্রবৃদ্ধির কারণ ।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন