১৬:৪৩:১২

শ্রীলংকার মানবাধিকার পরিস্থিতিতে জাতিসংঘের উদ্বেগ

শুনুন /

শ্রীলংকার মানবাধিকার রেকর্ডের সমালোচনা করে একটি প্রস্তাবের খসড়া জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে গৃহীত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের উত্থাপিত এই প্রস্তাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লংঘনের অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ এবং বিশ্বাসযোগ্য তদন্তের জন্য শ্রীলংকা সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এইলিন চেম্বারলিন বলেন যে শ্রীলংকা যতোটুকু অগ্রগতি অর্জন করেছে এই প্রস্তাবে তার স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, তবে এখনও অনেক কিছু করতে হবে।

রাষ্ট্রদূত চেম্বারলিন বলেন যে সমঝোতা প্রতিষ্ঠা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং অবনতিশীল মানবাধিকার পরিস্থিতির কারণে যে উদ্বেগ বৃদ্ধি পাচ্ছে তা মোকাবেলায় শ্রীলংকাকে অবশ্যই কার্য্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শ্রীলংকায় মানবাধিকার লংঘনের যেসব খবর পাওয়া যাচ্ছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড, নির্যাতন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, শান্তিপূর্ণ সভা ও সংগঠনের অধিকারে বাধা দেওয়া।

মানবাধিকার পরিষদে শ্রীলংকার দূত, মহিন্দা সামারাসিংহে এই প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জোরালো আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত সামারাসিংহে বলেন যে শ্রীলংকার জনগণের কল্যাণ বিষয়ে যাঁরা আন্তরিকভাবে উদ্বিগ্ন তাঁদের উচিৎ হবে এই পরিষদে আলাদা করে বিষয়টিতে মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব না দিয়ে সমঝোতার প্রক্রিয়াকে উৎসাহ দেওয়া।প্রস্তাবের পক্ষে পঁচিশটি রাষ্ট্র ভোট দেয়এ বং তেরোটি বিপক্ষে এবং ভোটদানে বিরত থাকে আটটি রাষ্ট্র।

এর একদিন আগে, বুধবার জাতিসংঘ মহাসচিব এবং জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের পক্ষে এক রিপোর্টে শ্রীলংকার গৃহযুদ্ধকালীন মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগগুলোর বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক তদন্তের জন্য পুনরায় আহ্বান জানানো হয়।

জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদে রিপোর্টটি পেশ করার সময় বলা হয় যে শ্রীলংকা মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগগুলোর বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক উপ-হাইকমিশনার মিস কিউং-হোয়া ক্যাং বলেন যে সমঝোতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় অনেক কিছুই করণীয় আছে।

মিস কিউং-হোয়া ক্যাং বলেন যে মহাসচিবের নিয়োজিত শ্রীলংকায় জবাবদিহিতা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ প্যানেল মানবাধিকারের যেসব গুরুতর লংঘনের ঘটনা চিহ্নিত করেছে সেগুলোর বিষয়ে কোন অর্থপূর্ণ ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। সরকার যেসব সামরিক আদালত গঠন করেছিলো সেগুলো প্রয়োজনীয় স্বাধীনতার অভাবে সশস্ত্রবাহিনীকে অব্যাহতি দিয়েছে। এছাড়া, ২০০৬ এ ত্রিণকোমালিতে পাঁচজন ছাত্র এবং মুত্তুরে সতোরোজন মানবিক সেবাকর্মীকে হত্যার মতো অনেকগুলো পুরোনো অভিযোগের এখনও কোন নিষ্পত্তি হয় নি।

মিস কিউং-হোয়া ক্যাং বলেন যে গতবছরে বিচারক এবং আইনজীবিদের ওপর হামলার মাধ্যমে আইনের শাসনকে দূর্বল করে দেওয়া হয়েছে এবং মুসলমান ও খৃষ্টানদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও অসহিষ্ণুতার ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নেপালে দায়মুক্তির আইন সংশোধনে জাতিসংঘের আহ্বান

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, নাভি পিল্লাই নেপালে গুরুতর মানবাধিকার লংঘনের দায়ে অভিযুক্তদের দায়মুক্তি দেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে একটি ট্রুথ এন্ড রিকন্সিলিয়েশন কমিশন গঠনের আইন প্রণয়নের বিষয়ে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছেন।

তিনি একইসাথে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন বিধানগুলো বাতিল করার জন্য দেশটির সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মিস পিল্লাই বলেন যে এধরণের ক্ষমাঘোষণা বা দায়মুক্তি শুধু যে আন্তর্জাতিক আইনের মূলনীতিগুলোর লংঘনই নয়, তা নেপালের স্থায়ী শান্তিপ্রতিষ্ঠার ভিত্তিমূলকেও দূর্বল করে দেবে।

তিনি বলেন যে যাঁদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তাদেরকে দায়মুক্তি দেওয়ার অর্থ হোল হাজার হাজার নেপালীকে সত্য এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত করা – যা টেকসই শান্তিপ্রতিষ্ঠার পথ উন্মোচনে সহায়ক হবে না।

১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্য্যন্ত সময়ে ঘটা মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য এই কমিশন গঠনের লক্ষ্যে গতসপ্তাহে নেপালের সরকার একটি আইন পাশ করে।

এক দশক ধরা চলা ঐ সহিংসতায় কমপক্ষে তেরো হাজার ব্যাক্তির প্রাণহানি ঘটে এবং এখনও তেরোশো জনের বেশী লোক নিখোঁজ রয়েছেন।

অর্থাভাবে যক্ষানিরোধ কার্য্যক্রম হুমকির মুখে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও এবং গ্লোবাল ফান্ডস টু ফাইট এইডস, টিবি এন্ড ম্যালেরিয়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে যে যক্ষা মোকাবেলায় ইতোমধ্যে যে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে তা অর্থের অভাবে হুমকির মুখে পড়েছে।বিশেষ করে ওষুধের কার্য্যকারিতারোধক নতুন জাতের রোগ মোকাবেলার কার্য্যক্রম এই হুমকির সম্মুখীন।

তাঁরা বলছেন যে টিবি নিরোধ এবং তার চিকিৎসার জন্য বছরে অন্ততে একশো ষাট কোটি ডলার প্রয়োজন।

ডাব্লু এইচ ও'র মহাপরিচালক, মার্গারেট চ্যান বলেছেন যে ১৯৯১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে পাঁচ কোটি একুশ লাখ যক্ষারোগীর সফল চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে এবং দুই কোটি একুশ লাখ জীবন রক্ষা পেয়েছে।

তবে, তিনি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন একাধিক ওষুধের কার্য্যকারিতারোধক যক্ষার আর্বিভাবের কারণে রোগচিহ্ণিত করা এবং উন্নত প্রতিষেধকের ব্যবস্থা করা না গেলে তা মারাত্মক হুমকি তৈরি করবে।

ডঃ চ্যান বলেন যে বিশ্বব্যাপী যক্ষায় আক্রান্ত নতুন রোগীদের চার শতাংশের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে তাদের রোগ একাধিক ওষুধের কার্য্যকারিতারোধক। এবং এর অর্থ হচ্ছে এসব এমডিআর যক্ষা একজনের দেহ থেকে সরাসরি অন্য আরেকজনের দেহে সংক্রমিত হচ্ছে।

ডঃ চ্যান বলেন যে কোন কোন দেশে দেখা যাচ্ছে নতুন রোগীদের ৩৫ শতাংশই এমডিআর টিবির শিকার। এথেকে সবাই ধারণা করতে পারেন যে কীধরণের বিপদের ঝুঁকিতে আমরা রয়েছি।মি চ্যান বলছিলেন যে যেসব দেশ যক্ষা নিয়ন্ত্রণে সফল হয়েছে আমাদেরকে সেখান থেকে শিক্ষা নিয়ে ঐসব দেশকে সাহায্য করা দরকার যেখানে এমডিআর টিবি একটি নিত্যকার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যে ব্যাকটেরিয়ার কারণে যক্ষা হয় সেটি ১৮৮২ সালে যেই দিনে জার্মান বিজ্ঞানী ডঃ রবার্ট কচ আবিষ্কার করেছিলেন সেই চব্বিশে মার্চ বিশ্ব যক্ষা দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

ভাগাভাগিতেই সুখ

আন্তর্জাতিক সুখ দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন তাঁর বাণীতে বলেছেন মানবিক উদ্যমের মূলে রয়েছে সুখ অন্বেষণের বিষয়টি। তিনি বলেন যে বিশ্বের সব প্রান্তেই মানুষ ভয় এবং অভাব থেকে মুক্ত থেকে প্রকৃতির সাথে তাল মিলিয়ে পরিপূর্ণ এবং সুখময় জীবন প্রত্যাশা করে। কিন্তু, চরম দারিদ্র, সামাজিক- অর্থনৈতিক সংকট, সহিংসতা এবং অপরাধ, পরিবেশগত অবক্ষয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অব্যাহত হুমকির কারণে মৌলিক বস্তুগত কল্যাণ অধরাই থেকে যায়।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব অনুসারে এবছরই বিশে মার্চ প্রথম বিশ্ব সুখ দিবস পালিত হয়।

জাতিসংঘের সুখ এবং মানসম্পন্ন জীবন বিষয়ক দূত লিও বোরম্যান দ্য ওর্য়াল্ড বুক অব হ্যাপিনেস নামের একটি বইয়ের সম্পাদক। মি বোরম্যান বলেন যে কোন দেশে মানবাধিকার না থাকলে সেখানে সুখী হওয়া সম্ভব নয়।তবে, বিশ্বের অনেক দেশই আছে যেখানে মানবাধিকার থাকলেও মানুষ সুখী নয়।

মানুষ কিসে সুখী হয় এমন এক প্রশ্নের জবাবে মি বোরম্যান বলেন যে কেউ যদি বলে সে সুখের সমাধান পেয়েছে , সে জানে যাদুকরী ফর্মূলা – তাহলে তাকে বিশ্বাস করবেন না – সে মিথ্যা বলছে।এধরণের কোন যাদুকরী ফর্মূলা নেই। নিজের সুখ খুঁজে নেবার জন্য বহুরকমের উপায় আছে।

সুখের সংজ্ঞা সম্পর্কে লিও বোরম্যান জানান যে বিশ্বে প্রায় তিন হাজার অধ্যাপক সুখ সম্পর্কে গবেষণা করেছেন।এক হাজার শব্দের মধ্যে সুখ এর বর্ণনা তুলে ধরার জন্য বিশ্বের দেড়শোটি দেশ থেকে প্রস্তাব আহ্বানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন যে একজন প্রফেসর সুখ সম্পর্কে তিনি যা জানেন তার সারসংক্ষেপ মাত্র দুটি শব্দে সংকলন করে দেন। আমরা জানতাম না যে সুখ হচ্ছে অন্য লোকজন সম্পর্কে। সুখ শুধু নিজেকে নিয়ে নয়।এটা অন্য কেউ। 'সুখ ভাগাভাগি' করে নেওয়াই হচ্ছে সুখ।

 

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন