১৭:৫৮:২২

মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রতি সাধারণ পরিষদের শ্রদ্ধার্ঘ্য

শুনুন /

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ মঙ্গলবার ছাব্বিশে মার্চ বাংলাদেশের মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লূর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছে। রাষ্ট্রপতি রহমান গতসপ্তাহে মৃত্যুবরণ করেন।

স্মরণসভায় মি রহমান তাঁর দেশ এবং জনগণের প্রতি পঞ্চাশ বছর ধরে যে সেবা করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন তার প্রশংসা করেন।

মহাসচিব বান বলেন যে রাষ্ট্রপতি রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন।তিনি এই স্বাধীনতার জন্য কাজ করেছেন এবং তিনি ছিলেন দেশটির নেতৃস্থানীয় রাজনীতিকদের অন্যতম। শেষজীবনে রাষ্ট্রপতির পদ ছিলো তাঁর পুরষ্কার – তাঁর সারাজীবনের নিষ্ঠার স্বীকৃতি। আমরা আজ তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি, কিন্তু একইসাথে আমরা এই ভেবে কিছুটা স্বান্তনা পেতে পারি যে যেদেশটি প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি ভূমিকা রেখেছেন সেই দেশটি দিনে দিনে শক্তিশালী হয়ে উঠছে।

মহাসচিব একইসাথে গত শুক্রবারে বাংলাদেশে টর্ণেডোতে নিহতদের জন্য শোকপ্রকাশ করে বলেন যে এই দুর্যোগ দেশটি জলবায়ূ পরিবর্তনের যে ঝুঁকির মুখে রয়েছে সেকথাটিই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

তিনি বলেন যে দুর্যোগ প্রস্তুতি এবং তার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর লক্ষ্যে যেসব প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা বাংলাদেশ গড়ে তুলছে তাতে দেশটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে এবং টেকসই উন্নয়নে নেতৃত্বের স্থান করে নিয়েছে। সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্য মাত্রা অর্জনেও দেশটি বড়ধরণের সাফল্য অর্জন করেছে।

ডিজিটাল বিভেদ দূরে সহায়তার জন্য তরুণদের প্রতি মহাসচিবের আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে রুপান্তর এবং তোলপাড়ের সময় বিশ্ব নাগরিকের ভূমিকা গ্রহণ করে তরুণরা বিশ্বকে সহায়তা করতে পারে।

বুধবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বিশ্বের তরুণদের জন্য বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সংস্কৃতিকে কাজে লাগানোর বিষয়ে এক ফোরামে মি বান বলেন যে তরুণরা সবসময়েই আদর্শবাদী এবং তারা পরিবর্তনের দাবিতে সামাজিক নেটওয়ার্কগুলোকে কাজে লাগাতে পারে।

মি বান বলেন যে আমি আজ এখানে এতোসব ট্যাবলেট এবং ফোন দেখে খুবই আনন্দিত। তবে, অনেক তরুণই এসব প্রযুক্তি থেকে বঞ্চিত। এই ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার জন্য আপনাদেরকে অবশ্যই উদ্যোগী হতে হবে। আমাদেরকে নারী এবং বালিকাদের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি দিতে হবে। বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাদের প্রতিভাও যেকোন পুরুষ এবং বালকের সমান। স্ত্রী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেকেই পরীক্ষাগারের কোট গায়ে চড়াতে পারে – যে কেউই অণুবীক্ষণ যন্ত্রের মধ্য দিয়ে দেখতে পারে।

মি বান তরুণদেরকে তাদের নিজস্ব উপায়ে জীবন গড়ে নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করে বলেন যে জাতিসংঘের আদর্শগুলো অর্থাৎ, শান্তি, উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের বিষয়গুলো তাদেরকে কখনোই ভুললে চলবে না।

কেনিয়ায় গবাদি পশুর জন্য মশারি

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও জানিয়েছে যে কেনিয়ার ক্ষুদ্র আকারের পশু খামারগুলোতে কীটনাশক-পরিশোধিত মশারি ব্যবহারের ফলে পশু এবং জনস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সুফল পাওয়া গেছে।

সংস্থা জানায় যে মশারি গৃহপালিত পশুকে মশা-মাছি এবং অন্যান্য কীটপতঙ্গের আক্রমণ থেকে রক্ষা করার মাধ্যমে যখন রোগ সংক্রমণ প্রতিরোধ করছে তখন তাদের দুধের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।কেনিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে কিসি শহরে কিছু কৃষক এই সুফল পেয়েছেন।

এফ এ ও বলছে যে কৃষকরা জানিয়েছে যে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে মাছির মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে স্তনপ্রদাহের মতো যে রোগের বিস্তার দেখা যায় মশারির ব্যবহারে তা অর্ধেক কমে গেছে এবং তাদের পরিবারগুলোতেও ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমেছে চল্লিশ শতাংশ।

ঐসব কৃষকদের একজন মেরি ওয়েন্ডো বলেন যে তাঁর গাভীগুলোর ওপর মাছির উৎপাতের কারণে তাঁর অনেক ভোগান্তি হচ্ছিলো। গরুর দুধ দোয়ানোর সময় সেগুলো সারাক্ষণ লাথি মারতো এবং দুধ ধরে রাখতো।

মেরি ওয়ান্ডো বলেন যে মশারি দেওয়ার পর থেকে আমি এখন সহজেই দুধ দোয়াতে পারছি এবং গাভীগুলোও সহজেই দুধ দিচ্ছে। দুধ দোয়ানোর সময় গাভীগুলো এখন ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে এবং আমাকে আর ঝামেলা করে না।

এফ এ ও বলছে যে যেসব কীটনাশক মশারি পরিশোধনে ব্যবহার করা হয় তা পরিবেশবান্ধব এবং পোষা জীবজন্তুর গলার কলারে যেসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহৃত হয় এখানেও সেই একই পদার্থ ব্যবহার করা হয়।

সংস্থা জানায় আফ্রিকার অন্যান্য দেশ থেকেও প্রশিক্ষণার্থীরা এখন এবিষয়ে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

প্রযুক্তি বিষয়ক বিরোধ নিষ্পত্তি ব্যয়বহুল : ডাব্লু আই পি ও

বিশ্ব মেধাস্বত্ত্ব সংস্থা – ডাব্লু আই পি ও বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে জানিয়েছে যে বিশ্বে প্রযুক্তিগত বিরোধের সংখ্যা কম হলেও সাধারণত তা নিষ্পত্তির বিষয়টি ব্যয়বহুল এবং সময়সাপেক্ষ।

ডাব্লুআইপিও বিশ্বের ষাটটি দেশের চারশোজনের মধ্যে পরিচালিত এক সমীক্ষায় দেখেছে প্রযুক্তি বিষয়ক চুক্তিগুলোর ক্ষেত্রে বিরোধ দেখা দেওয়ার পরিমাণ দুই শতাংশেরও কম এবং এসব বিরোধ সাধারণত লাইসেন্স, গবেষণা এবং উন্নয়নের বিষয়গুলোতে যথেষ্ট তথ্য প্রকাশ না করার বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে।

তবে, বিরোধ দেখা দিলে তার আইনগত নিষ্পত্তির বিষয়টি অত্যন্ত ব্যয়বহুল। স্বদেশে মামলায় গড়ে খরচ হয় চার লাখ পঁচাত্তর হাজার ডলার, আর বিদেশে এই খরচ দাঁড়ায় সাড়ে আট লাখ ডলার। এছাড়া, পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে তিন বছরেরও বেশি।

জাতিসংঘ কর্মকর্তার মিয়ানমারের দাঙ্গাপীড়িত অঞ্চল সফর

মিয়ানমারের যে কেন্দ্রীয় শহর মেইকটিলায় বৌদ্ধ এবং মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে দাঙ্গায় ত্রিশজনেরও বেশি লোক নিহত হয়েছেন জাতিসংঘের একজন উর্ধ্বতন কর্মকর্তা সম্প্রতি সেই অঞ্চল সফর করেছেন।

মিয়ানমার বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ দূত, বিজয় নাম্বিয়ার মঙ্গলবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের জানান যে সেখানে সহিংসতার সময় তিনি দেশটিতে ছিলেন। মি নাম্বিয়ার বলেন যে সরকারের অনুমতি নিয়ে সপ্তাহান্তে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্তদের – যাঁরা প্রধানত মুসলমান এবং এখন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন – তাঁদের সাথে কথা বলেছেন।

মি নাম্বিয়ার থাইল্যান্ড থেকে টেলিফোনে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেন।

মি নাম্বিয়ার বলেন যে অনেকদিক থেকেই সেখানকার পরিস্থিতি বিপর্য্যয়কর, লোকজন মানসিকভাবে বিপর্য্যস্ত। তবে, একটা বিষয় আমি লক্ষ্য করেছি যে তারা খুবই অবাক হয়েছে।অনেক প্রজন্ম ধরে তারা সেখানে বৌদ্ধ প্রতিবেশীদের সাথে বসবাস করে আসছে এবং সেকারণে এটা তারা বুঝতে পারছে না এধরণের ঘটনা কেন ঘটলো।

মি নাম্বিয়ার বলেন যে তিনি যাঁদের সাথে কথা বলেছেন তাঁরা এমন ধারণাই দিয়েছেন যে হামলাকারীরা ছিলো বহিরাগত এবং তাঁদেরকে চেনা যায়নি। এটা স্পষ্ট যে তাঁদেরকে লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে এবং হামলার শিকার হয়েছেন প্রধানত মুসলমানরা।

মি নাম্বিয়ার বলেন যে একটি আশ্রয়কেন্দ্রে বৌদ্ধরাও ছিলেন কিন্তু, হামলার শিকার হয়েছেন প্রধানত মুসলমানরা এবং এটা মনে হয়েছে অত্যন্ত নিষ্ঠুর পন্থায় এসব হামলা পরিচালিত হয়েছে।

মি নাম্বিয়ার জানান যে মিয়ানমার কতৃপক্ষ প্রায় কুড়িজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত চলছে।তিনি জানান যে তিনি প্রেসিডেন্ট থান শোয়ের সাথে দেখা করেছেন এবং প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন যে কঠোরভাবে এধরণের সহিংসতার বিস্তার রোধ করা হবে।

মৃত্যুদন্ড বন্ধের জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহ্বান

জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ আর্জাতিক বাধ্যবাধকতা অনুযায়ী মৃত্যুদন্ড বন্ধ রাখার জন্য ইন্দোনেশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বিচারবহির্ভূত ফাঁসি বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যা পোর্টিয়ার, ক্রিষ্টোফার হেইনস বলেছেন যে একটি দেশ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সনদের বাধ্যবাধকতা পূরণ না করে কোন মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর করলে তা বেআইনী হিসাবে গণ্য হবে।

ইন্দোনেশিয়া সম্প্রতি মাদকসম্পর্কিত অভিযোগে চারবছরের মধ্যে প্রথম একজনের মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর করেছে।

মি হেইনস জানান যে এবছরেই আরো কুড়িজনের মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর করার কথা রয়েছে বলে দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ বলেন যে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে মৃত্যুদন্ড হচ্ছে চরম শাস্তি এবং তা শুধু উদ্দেশ্যমূলক হত্যাকান্ডের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে এবং ন্যয়বিচারের ভিত্তিতেই দেওয়া যায়।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন