১৮:১৪:৩৬

জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের এক ধাপ উন্নতি

শুনুন /

জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান গতবছরে একধাপ উন্নীত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার মেক্সিকো সিটিতে প্রকাশিত মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০১৩ 'র মানব উন্নয়ন সূচকের শীর্ষে গতবছরের মতোই আছে নরওয়ে। তারপর ক্রমানুসারে রয়েছে অষ্ট্রেলিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র। সূচকের সর্বনিম্নে আছে নিজের, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র এবং মোজাম্বিক।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি – ইউ এন ডি পি প্রণীত এই সূচকে গড় আয়ূ, স্বাক্ষরতা, স্কুলে ভর্তি এবং মাথাপ্রতি মোট জাতীয় উৎপাদনকে বিবেচনায় নেওয়া হয়।

দি রাইজ অব দি সাউথ : হিউম্যান প্রগ্রেস ইন এ ডাইর্ভাস ওয়ার্ল্ড শীর্ষক এই রিপোর্টে বলা হয়েছে যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নজিরবিহীন প্রবৃদ্ধি কোটি কোটি লোককে দারিদ্র থেকে বের করে আনার মাধ্যমে বিশ্বব্যবস্থার নতুন রুপ দিচ্ছে।

রিপোর্টে বলা হয় যে ২০১০ সালে চীন জাপানকে অতিক্রম করে বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান অর্থনীতির অবস্থান গ্রহণ করেছে।রিপোর্টের রচয়িতা খালিদ মালিক বলছিলেন যে এটা বড়ধরণের একটা পরিবর্তন।

মি মালিক বলেন যে বিষয়গুলোতে কীধরণের নাটকীয় পরিবর্তন ঘটছে তা তুলে ধরার জন্য যেটা বলা যায় তাহোল উত্তর গোলার্ধের দেশগুলোর নিজেদের মধ্যে যতোটা বাণিজ্য হয়েছে তার চেয়ে বেশী বাণিজ্য হয়েছে দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলোর মধ্যে।এটা একটা বড় পরিবর্তন যা গত এক দশকে – কার্য্যত সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঘটেছে।

মি মালিক বলেন যে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত এবং চীন বা ব্রিকস দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির কথা সবাই বলে থাকেন , কিন্তু এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ঘটেছে এই ব্রিকসের বাইরেও প্রায় চল্লিশটি দেশে এবং সেসব জায়গায় মানবসম্পদ উন্নয়নের ধারা গতিলাভ করেছে।

সড়ক নিরাপত্তার ভালো আইন আছে মাত্র ২৮টি দেশে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লুএইচ ও বলছে যে সড়ক দূর্ঘটনার কারণ মৌলিক ঝুঁকিগুলো মোকাবেলায় সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন রয়েছে খুব কম দেশেই।

সংস্থা বলছে যে বিশ্বব্যাপী সড়ক দূর্ঘটনায় প্রতিবছর দশ লাখেরও বেশী মানুষের মৃত্যু ঘটছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংস্থার এক প্রতিবেদনে দেখা যায় যে ৮৮টি দেশ যেখানে সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে , সেখানে ৮৭টি দেশে এই মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অন্যতম পরিচালক, ইতিয়েন ক্রুগ বলেন যে সড়ক দূর্ঘটনা মানুষের সৃষ্টি এবং তা মোকাবেলায় কী করা প্রয়োজন সেটাও সবাই জানেন।

ইতিয়েন ক্রুগ বলেন যে আমি মাদকাসক্ত অবস্থায় গাড়ীচালনা, গতিসীমা না মানা, সিটবেল্ট এবং মোটরসাইকেলের ক্ষেত্রে হেলমেট না পরা , শিশুদের জন্য বিশেষ আসনের ব্যবস্থা না করার মতো বিষয়গুলোর কথা বলছি। এগুলো হোল মৌলিক পাঁচটি আচরণগত কারণ।আমরা দেখেছি এসব মৌলিক কারণগুলোর দিকে নজর দিয়ে উপযুক্ত আইন রয়েছে এমন দেশ রয়েছে মাত্র আঠাশটি। এটা হোল বিশ্বের মোট দেশগুলোর মাত্র পনেরো শতাংশ এবং বিশ্ব জনসংখ্যার দিক থেকে এরা মাত্র সাত শতাংশ জনগোষ্ঠীকে প্রতিনিধিত্ব করে। এর অর্থ হোল বিশ্বের জনসংখ্যার তিরানব্বুই শতাংশের জন্যই পর্য্যাপ্ত আইনগত সুরক্ষার ব্যবস্থা নেই।

ইতিয়েন ক্রগ বলেন যে শুধু ভালো আইন থাকাটাই জরুরী নয় , সেগুলো প্রয়োগেরও ব্যবস্থা থাকতে হবে।

দুর্নীতি মৃত্যু ঘটায়: জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধান

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, নাভি পিল্লাই বলেছেন যে সব মানবাধিকার বাস্তবায়নের পথে দূর্নীতি যে একটি বিরাট বাধা সেবিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

বুধবার জেনেভায় মানবাধিকার ভোগ করার ক্ষেত্রে দূর্নীতির নেতিবাচক প্রভাব বিষয়ে এক প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে পিস পিল্লাই বলেন যে স্বচ্ছ্বতা, জবাবদিহিতা, বৈষম্যহীন এবং সমাজজীবনের সবক্ষেত্রে সব সম্প্রদায়ের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণের বিষয়গুলোর মতো মানবাধিকারের মৌলিক নীতিগুলো লংঘন করে দূর্নীতি।

মিস পিল্লাই বলেন যে দূর্নীতি মৃত্যু ঘটায়। দূর্নীতির মাধ্যমে প্রতিবছর যে পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয় তা বিশ্বের সব ক্ষুধার্ত মানুষকে খাওয়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থের আশি গুণেরও বেশী।

মিস পিল্লাই বলেন যে প্রতিরাতে প্রায় সাতাশি কোটি লোক ক্ষুধার্ত অবস্থায় ঘুমাতে যায় – যাদের অনেকেই শিশু। দূর্নীতি তাদেরকে খাদ্যের অধিকার এবং কোন কোন ক্ষেত্রে জীবনধারণের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে।

মিস পিল্লাই বলেন যে শুধু দূর্নীতি এবং চুরির কারণে বিশ্বব্যাপী নিরাপদ খাওয়ারর পানি সরবরাহ এবং পয়নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করার প্রকল্পের ব্যয় চল্লিশ শতাংশ বেড়ে যায় ।

মিস পিল্লাই বলেন যে উন্নয়ন এবং মানবাধিকারের ওপর দূর্নীতির প্রভাব বহুমাত্রিক এবং সেকারণে এর জবাবও বহুমাত্রিক হওয়া প্রয়োজন।

২০০০ সাল থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলো থেকে বেআইনীভাবে অর্থপাচার হয়েছে ৮৪ হাজার চারশো কোটি ডলার – যা ঐসব দেশের মোট প্রাপ্ত সাহায্যের দশগুণ।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে অভিবাসীদের অবদান গুরুত্বপূর্ণ

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা – আই ও এম এর প্রধান, উইলিয়াম লুসি সুইং বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একান্নটি দেশের সরকারী প্রতিনিধিদের এক সভায় বলেছেন যে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনীতিতে অভিবাসীরা টাকা পাঠানোর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়সীমা ২০১৫'র পর কী হবে সেবিষয়ে জাতিসংঘ যে বিশ্বব্যাপী এগারোটি বিষয়ভিত্তিক পরামর্শসভা আয়োজন করেছে তার অংশ হিসাবে ঢাকায় এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

আই ও এম'র মুখপাত্র জুম্বে ওমর জুম্বে বলেন যে ২০১৫ সালের মধ্যে দৈনিক এক ডলারের নীচে জীবনযাপন করা দরিদ্র মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনাসহ সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অনেক বিষয়ের ওপরই অভিবাসনের প্রভাব পড়ে থাকে।

জুম্বে ওমর জুম্বে বলেন যে আমরা যখন পরিসংখ্যান দেখি তখন দেখা যায় যে ২০১২ সালে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে আভবাসীরা যে টাকা পাঠিয়েছেন তার পরিমাণ চাল্লিশ হাজার ছশো কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে এবং এই পরিমাণটি উন্নত দেশগুলো থেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে যাওয়া প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ এবং প্রত্যক্ষ সাহায্যের মোট অর্থের চেয়ে বেশী। এর মধ্যে শুধুমাত্র আফ্রিকার অংশই হচ্ছে ছয় হাজার কোটি ডলার।

জুম্বে ওমর জুম্বে বলেন যে এসব অর্থ শিশুশিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা সহ সাধারণ কল্যাণমূলক খাতে কাজে লাগছে।

দূর্যোগের ক্ষতি বেড়েই চলেছে : জাতিসংঘ

চরম দূর্যোগের কারণে শিল্প এবং ব্যাক্তিগত সম্পদের যে ক্ষতি হয়, ২০১২ সালে তা প্রথমবারের মতো পরপর তৃতীয় বছরে দশ হাজার শতকোটি ছাড়িয়ে গেছে। দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে জাতিসংঘ দপ্তর তার সর্বসাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এই তথ্য দিয়েছে।

দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে জাতিসংঘ দপ্তরের পরিচালক, এলিজাবেথ লংওয়ার্থ বলেন যে গত তেত্রিশ বছরের অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং নব্বুইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময় থেকে ক্ষয়ক্ষতির দিকে তাকালে দেখা যায় এটা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়ে গেছে এবং এর উর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

এলিজাবেথ লংওয়ার্থ বলেন যে আমরা যদি গতবছরের দিকে তাকাই যখন কোন শহর এলাকায় ব্যাপক আকারের ভূমিকম্প ঘটেনি – সেসময়েও আর্থিকক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে আনুমানিক তেরো হাজার আটশো কোটি ডলার। দূর্ভাবনার বিষয় হোল গতবছর ছিলো অপেক্ষাকৃত কম দূর্যোগের বছর ।

দুর্যোগের ঝুঁকি হ্রাস বিষয়ে জাতিসংঘ দপ্তর জানায় যে গতবছর সবচেয়ে মারাত্মক দূর্যোগ ছিলো ডিসেম্বরে ফিলিপিন্সের টাইফুন ভোপা যাতে ১৯০০ জনের বেশী লোক মারা গেছেন।

সংস্থার হিসাবে ২০১২ তে বিশ্বে তিনশোর মতো দূর্যোগ ঘটেছে যাতে ৯৩০০ লোকের প্রাণহানি এবং ক্ষতি হয়েছে তেরো হাজার আটশো কোটি ডলার।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন