১৮:১২:৫১

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা আর নয়: ইউ এন ওম্যান

শুনুন /

বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা – ইউ এন ওম্যান এর নির্বাহী পরিচালক, মিশেল ব্যাশেলেট এক বাণীতে নারীর হিংসামুক্ত জীবনযাপনের অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে তাদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন যে আমাদের সময়ের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধ করা – যার শিকার হচ্ছেন বিশ্বের প্রতি দশজনের মধ্যে সাতজন।

তিনি বলেন যে এবছরে বিশ্ব নারী দিবসে আমরা বলছি যে যথেষ্ট হয়েছে, আর নয়।

প্রতিবছর আটই মার্চ বিশ্ব নারী দিবস পালিত হয়ে থাকে।

বিশ্ব নারী দিবসে জাতিসংঘ নারী সংস্থার অ্যালবাম

বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী নারীদের উদ্দেশ্যে উৎসর্গীকৃত 'এক নারী' বা 'ওয়ান ওম্যান' শীর্ষক একটি অ্যালবাম প্রকাশ হচ্ছে আটই মার্চ – যার মূল বাণী হচ্ছে আমরা আলো ছড়াবো।

নারীর বিরুদ্ধে বৈষম্য মোকাবেলা এবং নারীর ক্ষমতায়নের প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ সংস্থা, ইউ এন ওম্যান এর জন্য এই অ্যালবামটিতে এশিয়া, আফ্রিকা, আমেরিকা এবং ইউরোপের পঁচিশজন শিল্পী অংশ নিয়েছেন।

চলতি বছরের বিশ্ব নারী দিবসের মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান ঘটানো।

এই অ্যালবামটির প্রকাশনা উপলক্ষ্যে ইউ এন ওম্যান এর নির্বাহী পরিচালক, মিশেল ব্যাশেলেট বলেছেন যে ওয়ান উইমেন আমাদেরকে আশা ও উদ্দীপনার বাণী শোনায়।

তিনি বলেন যে এটি সমতা, মানবাধিকার এবং মানবিক মর্য্যাদা যে আমাদের সবার জন্মগত অধিকার সেকথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।

সংখ্যালঘুরা বৈষম্যের শিকার : জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ

ধর্ম বা বিশ্বাসের স্বাধীনতা বিষয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ, হেইনার বিয়েলফেল্ড বলেছেন যে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা বিশ্বব্যাপী নানাধরণের বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে এ সপ্তাহের গোড়ার দিকে পেশ করা তাঁর প্রতিবেদন সম্পর্কে বৃহস্পতিবার জেনেভায় সাংবাদিকদের তিনি বলেন যে সংস্কারবদ্ধ ধারণা এবং কল্পকাহিনী দ্বারা পরিচালিত হয়ে সমাজের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা পদ্ধতিগত বৈষম্য এবং বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।

বিশেষজ্ঞ এক্ষেত্রে সরকারী চাকরি পাওয়া অথবা নিজের ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা যেসব বাধার সম্মুখীন হন তার প্রতি দিকনির্দেশ করেন।

মি বিয়েলফেল্ড বলেন যে অনেকসময় দোকান পুড়িয়ে দেওয়া হয়, তছনছ করা হয়। আবার, চাকরির ক্ষেত্র ছাড়াও পারিবারিক জীবনেও বৈষম্যের ঘটনা ঘটে।অনেক দেশেই বিশ্বাননির্ভর পারিবারিক আইনে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের কোন মর্য্যাদা দেওয়া হয় না।

মি বিয়েলফেল্ড বলেন এরকম ক্ষেত্রে বিয়ের জন্য তাদেরকে হয় অন্যদেশে যেতে হয় নয়তো নিজের ধর্ম বাদ দিয়ে অন্যের ধর্মীয় বিধিতে সেটি সম্পণ্ন করতে হয়। গুরুত্বপূর্ণ পারিবারিক বিষয়ে এর অনেক প্রভাব পড়ে যা প্রায়শই আমাদের চিন্তায় আসে না যেমন শিশুর অভিভাবকত্বের প্রশ্ন।

মি বিয়েলফেল্ড বলেন যে মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে আস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে এক্ষেত্রে ভীতিটা কাটিয়ে ওঠা প্রয়োজন।

তিনি রাষ্ট্র থেকে ধর্মকে আলাদা করারও আহ্বান জানান।

উত্তর কোরিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা কঠোরতর করলো নিরাপত্তা পরিষদ

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সর্বসম্মতভাবে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধ্জ্ঞা কঠোরতর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গতমাসে উত্তর কোরিয়ার পরিচালিত পারমাণবিক পরীক্ষার পটভূমিতে বৃহস্পতিবার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিষদে গৃহীত প্রস্তাব অনুসারে আর্থিক লেনদেন নিষিদ্ধকরণ, সফরের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ ছাড়াও সাগর বা আকাশপথে পণ্য পরিবহনের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এবং পারমাণবিক ও রাসায়নিক অস্ত্রের সাথে সম্পর্কিত সবধরণের প্রযুক্তি লেনদেনের ওপরও এই নিষেধাজ্ঞা কার্য্যকর হবে।

স্বাস্থ্য শিশুর অধিকার : জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান

বিশ্বে প্রতিবছর সত্তুর লাখের মতো শিশু পাঁচ বছর বয়স হবার আগেই যে মারা যাচ্ছে এটা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক কমিশনার নাভি পিল্লাই।

বৃহস্পতিবার জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের শিশু অধিকার বিষয়ক বার্ষিকসভায় মিস পিল্লাই বলেন যে শিশু অধিকার সনদসহ আন্তর্জাতিক সনদসমূহে স্বাস্থ্যের অধিকারকে সর্বজনীন মানবাধিকার হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

শিশু অধিকার সনদে বিধান রয়েছে যে শিশু ও নবজাতকের অকালমৃত্যু বন্ধ এবং শিশুদের জন্য ক্ষতিকর সব রীতির অবসান ঘটাতে রাষ্ট্রকে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।

মিস পিল্লাই বলেন যে পাঁচ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিশ্বে উনসত্তুর লাখ শিশু প্রতিবছর মারা যাচ্ছে – যাদের দুই-তৃতীয়াংশেরই মৃত্যুর কারণ এমনসব রোগ যেগুলো প্রতিরোধ এবং চিকিৎসা করা সম্ভব। গড় হিসাবে দেখলে, এসব সংখ্যার আড়ালে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্যগুলো ঢাকা পড়ে যায়।

মিস পিল্লাই বলেন যে উচ্চ-আয়ের দেশগুলোর তুলনায় স্বল্প-আয়ের দেশগুলোতে পঞ্চম জন্মদিনের আগেই একটি শিশুর মৃত্যুর ঝুঁকি আঠারোগুণ বেশী। সর্বোপরি, পুষ্টিহীনতার কারণে প্রতিঘন্টায় তিনশো শিশুর মৃত্যু ঘটছে।

মিস পিল্লাই বলেন যে শিশুদের কিছু নির্দিষ্ট গ্রুপের ক্ষেত্রে ঝুঁকিটা আনুপাতিকহারে অনেক বেশী।এসব গ্রুপের মধ্যে আছে প্রতিবন্ধী, অভিবাসী শিশু, অভিভাবকহীনভাবে বিভিন্ন সদনে থাকা শিশু এবং সহিংসতা ও যৌন শোষণের শিকার শিশুরা।

পানি-সম্পর্কিত দূর্যোগের জন্য প্রস্তিুতিগ্রহণের আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যেসব দেশ পানি-সম্পর্কিত দূর্যোগের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে তাদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে।

বুধবার মহাসচিব তাঁর পাঁচ-বছরের কার্য্যসূচিতে জাতীয় পর্য্যায়ে দূর্যোগের ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনায় সমর্থন দেওয়ার লক্ষ্যে পানি এবং দূর্যোগ বিষয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের প্রথম বিষয়ভিত্তিক অধিবেশনে একথা বলেন ।

অধিবেশনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে জাপানে ২০১১ সালের এগারোই মার্চের সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই ছিলেন।

মি বান বলেন যে ১১ই মার্চের দূর্যোগের পর থেকে জাপান বিশ্বের কাছে তাঁর অভিজ্ঞতা তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে এসেছে এই কারণে যাতে অন্য কোন দেশকে একইধরণের ধ্বংসের মুখোমুখি হতে না হয়। জাপান এক্ষেত্রে একা নয়। থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, নেদারল্যান্ডস, যুক্তরাষ্ট্র এবং মোজাম্বিক – এসব দেশগুলোর সবকটি পানি-সম্পর্কিত দূর্যোগের শিকার হয়েছে। দুর্যোগ এড়ানো, তার পূর্বাভাস দেওয়া, ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা এবং পূননির্মাণের বিষয়ে তাঁদের রয়েছে মূল্যবান অভিজ্ঞতা।

মি বান আগাম হুঁশিয়ারির ব্যবস্থা, দূর্যোগ বিষয়ক প্রশিক্ষণ এবং দুর্যোগ মোকাবেলায় সক্ষম অবকাঠামোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। তিনি একইসাথে আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলার দিকে নজর দেওয়ার বিষয়ও উল্লেখ করেন।

মহাসচিব বান ২০১৫ সালের মধ্যে আবহাওয়ার পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় আইনগত বাধ্যবাধকতা সম্পণ্ন একটি বৈশ্বিক সমঝোতায় উপনীত হওয়ার বিষয়ে বিশ্বনেতাদেরকে তাঁদের অঙ্গীকারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

সিরীয় শরণার্থীর সংখ্যা দশ লাখ ছাড়িয়েছে: ইউ এন এইচ সি আর

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা – ইউ এন এইচ সি আর জানিয়েছে যে সংঘাত থেকে রক্ষা পাওয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য দেশে পালিয়ে আসা সিরীয়দের সংখ্যা এখন দশ লাখ ছাড়িয়ে গেছে।

সংস্থা বলছে যে এসব শরণার্থীদের অর্ধেকই শিশু এবং তাদের অধিকাংশের বয়স এগারো বছরের নীচে।

সংস্থা জানায় এবছরের শুরু থেকে এপর্য্যন্ত চার লাখেরও বেশী সিরীয় শরণার্থী হয়েছেন- যাঁরা দেশের বাইরে এসেছেন পরিবারের সদস্যদেরকে হারিয়ে অথবা কোন অবলম্বন ছাড়া এবং সেকারণে তাঁরা মানসিকভাবে বিপর্য্যস্ত।

ইউ এন এইচ সি আর বলছে যে এসব সিরীয় শরণার্থীদের অধিকাংশই পালিয়ে গেছেন লেবানন, জর্ডান, তুরস্ক, ইরাক এবং মিশরে।

ক্রমবর্ধমান হারে তারা উত্তর আফ্রিকা এবং ইউরোপেও পাড়ি দিচ্ছেন বলে সংস্থা জানায়।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন