১৭:৩৬:২৭

জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা নিরসনের উপায় খোঁজার আহ্বান

শুনুন /

জাতিগত ও ধর্মীয় উত্তেজনা নিরসন এবং তার পরিণতিতে যাতে নৃশংসতা না ঘটে তা প্রতিরোধের উপায় খোঁজার জন্য জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জেনিভায় মানবাধিকার কাউন্সিলের উচ্চপর্য্যায়ের সভার সমাপ্তিকালে গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ উপদেষ্টা অ্যাডামা দিয়েং এই আহ্বান জানান।

মি দিয়েং বলেন যে ইহুদিনিধন, ক্যাম্বোডিয়া, রোয়ান্ডা এবং সেব্রেনিৎসার গণহত্যাগুলো থেকে শিক্ষা নিতে আমরা ব্যর্থ হয়েছি এবং তার ফল হিসাবে যেসব গণহত্যা ঘটতে চলেছে তার ইঙ্গিতগুলো আমরা উপেক্ষা করছি।

মি দিয়েং বলেন যে ইহুদিনিধনের ঘটনাটি ছিলো বিভৎস এবং একটি নজিরবিহীন অভিজ্ঞতা। তবে, তা ছিলো বিংশ শতাব্দির আগে বিভিন্ন জনগোষ্ঠী যে একইধরণের অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন তারই একটি চরম রুপ এবং ভবিষ্যতেও এর পুনরাবৃত্তি ঘটবে।

মি দিয়েং বলেন যে আমরা বিভিন্ন অঞ্চলে জাতিগত এবং ধর্মীয় উত্তেজনা বিপজ্জনকভাবে বাড়তে দেখছি এবং অনেক দেশেই চরম সহিংসতা ঘটতে দেখেছি যার মধ্যে কয়েকটি নাম হিসাবে উল্লেখ করা যায় গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইরাক, কিরঘিজস্তান, মালি, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সুদান এবং সিরিয়ার কথা।

তিনি বলেন যে আমরা অতীতের ব্যর্থতাকে ঠিক করতে না পারলেও সেগুলো থেকে অন্তত শিক্ষা নিতে পারি যাতে এধরণের নৃশংসতা আর ঘটতে না পারে সেরকম কোন ব্যবস্থা আমরা তৈরি করতে পারি।

মি দিয়েং বলেন যে এটা খুব সহজ কাজ নয় এবং এর জন্য প্রয়োজন রাজনৈতিক ইচ্ছা এবং আন্তরিক প্রত্যয়।

অবৈধ মাছধরা বন্ধে আন্তর্জাতিক নীতিমালা

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও রোমে বৃহস্পতিবার জানিয়েছে যে বেআইনী, প্রকাশ না করা এবং নিয়ন্ত্রণহীন মাছ ধরার সমস্যা মোকাবেলায় একটি আন্তর্জাতিক নীতিমালার বিষয়ে বিভিন্ন দেশ একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে।

যেসব দেশ মাছধরার নৌযানগুলোর রেজিষ্ট্রেশন করে তাদের জাতীয় পতাকা ব্যবহার করতে দেয় সেসব দেশগুলোর মধ্যে পাঁচবছরেরও বেশী সময় ধরে সমঝোতা প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা চলছিলো তাতে একটি স্বেচ্ছামূলক নীতিমালার বিষয়ে সবাই সম্মত হয়েছে।

মাছধরা নিয়ন্ত্রণ এবং পতাকা ব্যবহারের বিষয়ে নীতিমালা অনুসরণের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব মেনে চলতে উৎসাহিত করার বিষয় এই নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

নীতিমালা অমান্য করার জবাবে কীধরণের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে সেবিষয়েও এতে নির্দেশনা রয়েছে।

২০১৪ সালের জুন মাসে এফ এ ও'র মৎস্যবিষয়ক কমিটির আগামী অধিবেশনে এই নীতিমালা উপস্থাপন করা হবে।

ছত্রিশ কোটি লোক শ্রবণ প্রতিবন্ধী হয়ে যাচ্ছে : ডাব্লু এইচ ও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও'র প্রকাশিত এক হিসাবে দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বে ছত্রিশ কোটিরও বেশী লোকের শ্রবণশক্তি এমনভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে যে তাঁরা শ্রবণপ্রতিবন্ধী হয়ে পড়ছেন।

বুধবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বলা হয় যে বিশেষ করে মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোতে এধরণের শ্রবণপ্রতিবন্ধীত্বের প্রধান কারণ নানাধরণের সংক্রামক রোগ।
ডাব্লু এইচ ও বলছে যে হাম এবং মাম্পস এর মতো সংক্রামক ব্যাধি শ্রবণশক্তি নষ্টের কারণ হতে পারে।

অন্যান্য যেসব কারণে সচরাচর শ্রবণশক্তি নষ্ট হতে দেখা যায় সেগুলোর মধ্যে রয়েছে জোরালো শব্দ শোনা, জিনগত কারণ, গর্ভকালীন এবং শিশুজন্মের সময় সমস্যা, এবং ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।

ডাব্লু এইচ ও'র অন্ধত্ব এবং শ্রবণপ্রতিবন্ধীত্ব প্রতিরোধ বিষয়ক কার্য্যক্রমের একজন কর্মকর্তা ডঃ শেলি চাধা বলেন যে আমাদের জন্য ভাল খবর যেটা সেটা হোল স্বল্পখরচে সময়মত ব্যবস্থা নিলে যাঁরা শ্রবণশক্তি হারাচ্ছেন তাঁদের প্রায় অর্ধেকের ক্ষেত্রেই শ্রবণশক্তির ক্ষয় প্রতিরোধ করা সম্ভব। ছত্রিশ কোটির মধ্যে প্রায় বত্রিশ কোটিই শিশু বা পনেরো বছরের নিচে এবং বয়স যতো বাড়তে থাকে শ্রবণশক্তি কমে যাওয়ার হারটা ততোই বাড়তে থাকে। পঁয়ষট্টি বছরের বেশী বয়েসীদের মধ্যে প্রতি তিনজনে একজন শ্রবণশক্তি হারানোর কারণে প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন।

ডাব্লু এইচ ও বলছে যে শ্রবণশক্তি হারানোর হার সবচেয়ে বেশী দক্ষিণ এশিয়া, এশিয়ার প্রশান্ত-মহাসাগরীয় এলাকা এবং সাবসাহারান আফ্রিকায়।

শ্রবণশক্তি নষ্ট হওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতি বছর তেসরা মার্চ বিশ্ব কানের যত্ন নেওয়া দিবস পালন করা হয়ে থাকে।

অনৈক্য ও বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার জন্য তরুণদের প্রতি আহ্বান

জাতিসংঘের সভ্যতার জোট বা অ্যাল্যায়েন্স অব সিভিলাইজেশন এর পঞ্চম ফোরামে তরূণদের এক সমাবেশ উদ্বোধনের সময় মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন সহিষ্ণুতা এবং শ্রদ্ধার ভাষা ব্যবহারের জন্য বিশ্ব আপনাদের ওপর নির্ভরশীল।

তিনি বলেন যে অনৈক্য ও ঘৃণা ছড়ায় যারা তাদের কন্ঠস্বর ডুবিয়ে দেওয়ার জন্য তরুণদের সোচ্চার উচ্চারণ প্রয়োজন।

তিনি বলেন যে তরুণদের সাহস এবং নীতিনিষ্ঠ ভূমিকাই আমাদেরকে টেকসই উন্নয়ন ও সংহতির দিকে নিয়ে যাবে যার ওপর বিশ্ব নির্ভরশীল হবে।

মহাসচিব তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের পাঁচবছরের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসাবে জাতিসংঘ ব্যবস্থায় তরুণ সমাজের সাথে কাজ করাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টির ওপর জোর দেন।

মি বান বলেন যে আমরা আপনাদের কাছ থেকে শিখতে চাই এবং আপনাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হতে চাই। এবং আমরা আপনাদের জীবনমান উন্নয়ন, আপনাদের সমাজ এবং বিশ্বের কল্যাণে আপনাদের সাথে কাজ করতে চাই।

মি বান বলেন যে একসাথে কাজ করলে আমরা আরো সমৃদ্ধ, ন্যায়ভিত্তিক এবং শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যত গড়ে তুলতে সক্ষম হবো।

মি বান বলেন যে আপনাদেরকে আমাদের প্রয়োজন। সেজন্যেই আমাদেরকে পথ দেখানোর আহ্বান জানাতে আমি আজ এখানে এসেছি। বিশ্ব এখন – অর্থনৈতিক, জনগোষ্ঠীগত, রাজনৈতিক এবং পরিবেশগত একটি রুপান্তরের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

মি বান বলেন যে আমরা যদি বিভক্তি ও উগ্রপন্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে তাহলে আমাদের সামনে চ্যালেঞ্জটা যেমন ব্যাপক, সুযোগও তেমন প্রসারিত।
মি বান বলেন যে সংঘাতই হচ্ছে উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা।

২০১৫-উত্তর উন্নয়ন লক্ষ্যগুলো নতুন বাস্তবতার উপযোগী হতে হবে

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি – ইউ এন ডি পি'র প্রশাসক হেলেন ক্লার্ক বলেছেন যে বৈশ্বিক উন্নয়নের নতুন লক্ষ্যমাত্রায় একইসাথে বর্তমান বাস্তবতার প্রতিফলন ঘটানোর পাশাপাশি সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা বা মূল এমডিজি'র রুপকল্প এবং গতিশীলতার সমন্বয় করতে হবে।

এমডিজিকে কার্য্যকর করার বিষয়ে এক বৈশ্বিক সম্মেলনের সূচনা বক্তব্যে মিস ক্লার্ক বলেন এই শতাব্দীর প্রথম বারো বছরে খাদ্য, জ্বালানী, আবহাওয়া, অর্থনৈতিক , রাজনৈতিক এবং নিরাপত্তার সংকটগুলো আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে অজানা প্রতিকূলতার মুখে উন্নয়ন কতোটা ভঙ্গুর হতে পারে।

মিস ক্লার্ক বলেন যে এমডিজি আমাদেরকে শিক্ষা দিয়েছে যে আমাদের লক্ষ্য হতে হবে অনেক বড় এবং উঁচুতে। তাঁর মতে এসব লক্ষ্যের ওপর মানুষের এবং এই বিশ্বের কল্যাণ নির্ভর করে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন