১৬:৪৭:৩৬

মাতৃভাষা শিক্ষায় উৎসাহ দেওয়া প্রয়োজন: ইউনেস্কো

শুনুন /

এবছর, ২১শে ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য ছিলো ভাষা এবং বইয়ের মধ্যেকার যোগসূত্র অনুসন্ধান করা।

ইউনেস্কোর মহাপরিচালক, আইরিনা বোকোভা বলেছেন যে কিছু কিছু দেশে স্থানীয় ভাষায় বই এবং পাঠ্যপুস্তকের অভাব উন্নয়ন এবং সামাজিক অংশগ্রহণে বাধা সৃষ্টি করছে। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা লংঘনের প্রতিফলনও এতে দেখা যাচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মিস বোকোভা বলেন যে ডিজিটাল উপকরণসমূহ এক্ষেত্রে কিছুটা শূণ্যতা পূরণ করলেও তা যথেষ্ট নয়।

তিনি বলেন যে মাতৃভাষাসহ যতো বেশী ভাষায় সম্ভব বই এবং পাঠ্সামগ্রী বিতরণ করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা – ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন শুরু করে যার লক্ষ্য হচ্ছে ভাষাগত বৈচিত্র এবং বহুভাষায় শিক্ষা কার্য্যক্রমের প্রসার ঘটানো।

আধুনিক বিশ্বে ঔপনিবেশিকতার কোন স্থান নেই: বান

জাতিসংঘ মহাসচিব, বান কি মুন বলেছেন যে ঔপনিবেশকতা থেকে মুক্তির বিষয়ে সবাইকে নিয়ে নতুন ধরণের এক সংলাপ শুরুর এখন সময় এসেছে।

ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তির বিষয়ে বিশেষ কমিটির উদ্বোধনী অধিবেশনে মি বান একথা বলেন।

মহাসচিব বলেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অতীতের যেকোন সময় থেকে এখন আরো বেশী অনুভব করছে যে আধুনিক বিশ্বে ঔপনিবেশিকতার কোন স্থান নেই।

মি বান বলেন যে সংশ্লিষ্ট সবপক্ষগুলোকে নিয়ে – বিশেষ কমিটি, প্রশাসন পরিচালনাকারী কত্তৃপক্ষ এবং যেসব অঞ্চল স্বশাসিত নয় তাদের সবাইকে নিয়ে প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আলাদা আলাদাভাবে গঠনমূলক আলোচনা প্রয়োজন।

মি বান বলেন যে যেহেতু এই আন্ত:সরকার কমিটি ঔপনিবেশকতা থেকে মুক্তির বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত সেহেতু এই কমিটির কাছে প্রত্যাশা হচ্ছে তারা নতুন ও সৃজনশীল কৌশল উদ্ভাবন করে তার প্রতি রাজনৈতিক সমর্থন সংগঠিত করবেন।

মি বান বলেন আমরা জানি যে বিশ্ব এখন বড়ধরণের এক পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে। অনেক পুরোনো কাঠামো ভেঙ্গে পড়ছে। নতুন ব্যবস্থার রুপায়ণ ঘটছে।

মি বান বলেন যে ঔপনিবেশিকতা থেকে মুক্তির বিষয়ে আমাদেরকে ষোলোটি অঞ্চলের দিকে নজর দিতে হবে যেখানে স্বশাসন নেই।

মিয়ানমারে সত্য অনুসন্ধান কমিশন গঠনের আহ্বান

জাতিসংঘের মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত, টমাস এজিয়া কিনটানা দেশটিতে একটি সত্য অনুসন্ধান কমিশন গঠনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে এধরণের একটি কমিশন অতীতের সামরিক সরকারগুলোর আমলের সত্য, ন্যয়বিচার এবং জবাবদিহিতার বিষয়গুলো নিষ্পত্তি করতে পারে।

তিনি বলেন যে এটি জাতীয় আপোষরফার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ এবং এর মাধ্যমে অতীত থেকে শিক্ষাগ্রহণ ভবিষ্যতে মানবাধিকার লংঘন বন্ধ করতে পারে। বিশেষ দূত মিয়ানমারে তাঁর সপ্তমদফা সফর শেষ করার পর এসব কথা বলেন।

মি কিনটানার মতে দেশটিতে মানবাধিকার পরিস্থিতির উন্নতি হলেও মানবাধিকারের অনেকক্ষেত্রেই উল্লেখযোগ্য মাত্রায় ঘাটতি রয়ে গেছে।

সৌরবাতি: স্বল্পব্যায়ের পরিবেশবান্ধব সমাধান

বিদ্যূৎহীন আলো- কেরোসিন বাতি, ব্যাটারিচালিত ফ্লাশবাতি এবং মোমবাতি – এগুলো হচ্ছে জ্বালানীনির্ভর অন্যরকম আলো যার ওপর বিশ্বের একশো কোটিরও বেশী লোক নির্ভরশীল। জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক সংস্থা, ইউ এন ই পি বলছে যে এই বিপুল জনগোষ্ঠী বৈদ্যূতিক বাতি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত।

ইউএনইপির মুখপাত্র ব্রায়ান কল বলছেন যে এই ক্ষেত্রে অবস্থার পরিবর্তন ঘটছে।স্বল্পব্যায়ের সমাধান দিচ্ছে আধুনিক সৌরবাতি যার ফলে কার্বন নিঃসরণ , ঘরের ভিতরের বায়ূ দূষণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমছে। এতে করে অর্থ সাশ্রয়ও ঘটছে।

মি কল বলেন যে উদাহরণ হিসাবে আপনি যদি কেনিয়ার কথা ধরেন তাহলে কেনিয়া হচ্ছে এমন একটি দেশ যে বছরে কেরোসিনের জন্য ব্যয় করছে দুই কোটি চল্লিশ লাখ ডলার।

মি কল বলেন যে কেনিয়া যদি কেরোসিন বাতির ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করতে পারে তাহলে তারা মাত্র সাত মাসে ঐ খরচ তিুলে আনতে পারবে।

তিনি বলেন এর পাশাপাশি যেপরিমাণে কার্বন নিঃসরণ বন্ধ থাকবে তা পাঁচ লক্ষ মাঝারি আকারের গাড়ির দুষণের সমান।

ইউ এন ই পি এবিষয়ে গ্লোবাল অফ-গ্রিড লাইটিং এসোসিয়েশনের সাথে সহযোগিতার এক নতুন উদ্যোগের কথাও ঘোষণা করেছে।

জাতিসংঘে কিনওয়া বর্ষ পালনের সূচনা

অ্যান্ডিজ অঞ্চলে হাজার বছর ধরে প্রধান খাদ্য হিসাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে যে অসাধারণ শস্য সেই কিনওয়ার প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘ ২০১৩ সালকে আন্তর্জাতিক কিনওয়া বর্ষ হিসাবে পালনের সূচনা করেছে গত বুধবার।

এই বর্ষ উদ্বোধনের সময়ে মহাসচিব বান কি মুন তাঁর মন্তব্যে বলেছেন যে কিনওয়ার দুটি সুবিধা আছে। প্রথমত: এটা খুবই পুষ্টিসমৃদ্ধ, যাতে প্রয়োজনীয় তেল এবং অ্যামাইনো এসিড আছে আর এটা ক্যালসিয়াম, লোহা ও আমিষের চমৎকার উৎস।

মি বান বলেন যে দ্বিতীয়ত, কিনওয়া পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে সক্ষম। নানারকম জৈব ও আবহাওয়াগত পরিবেশে – এমনকি মাটিতে আদ্রতার স্বল্পতার মধ্যেও এটি উৎপাদন করা সম্ভব। ঊষ্ণায়মান বিশ্বের জন্য – যেখানে মরুকরণ এবং ভূমির গুণগত অবক্ষয় ক্রমশই বড়ধরণের সমস্যা হয়ে দেখা দিচ্ছে – সেখানে এর গুরুত্ব অনেক বেশী।

মি বান বলেন যে অনুর্বর জমিতেও এর সহনশীলতা অন্যান্য অঞ্চলের কৃষকদেরও মধ্যে একে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। তিনি বলেন যে সেকারণেই অ্যান্ডিজ অঞ্চল থেকে এর প্রসার ঘটেছে কেনিয়া, ভারত, উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন