১৬:০২:২০

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসানে শতকোটির জাগরণ

শুনুন /

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার ইতি টানতে চৌদ্দই ফেব্রুয়ারী বিশ্বব্যাপী নারী ও পুরুষদের উঠে দাঁড়িয়ে একসাথে নৃত্যে তাল মেলানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে শতকোটির জাগরণ বা ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং প্রচারিভযানে এদিন যোগ দেন 'নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসানে ঐক্যবদ্ধ হও' নামের আন্দোলন এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তর।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা – ইউ এন উইমেন এর প্রধান, মিশেল ব্যাশেলেট এদিন বিশ্বের নারী ও মেয়েদের সাথে একজোট হয়ে উঠে দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

মিস ব্যাশেলেট বলেন যে আমি পারিবারিক সহিংসতাকে না বলছি। ধর্ষণ এবং যৌন অপরাধকে না বলছি। মানবপাচারকে না বলছি। মেয়েদের যৌনাঙ্গের ক্ষতিসাধনকে না বলছি। জবরদস্তি এবং অপ্রাপ্তবয়সে বিয়েকে না বলছি। আমি লজ্জা, কালিমা, অপমান এবং বৈষম্যের অবসান ঘটাতে জেগে উঠছি। আমি জেগে উঠছি নিপীড়ণের শিকার এবং নির্যাতন থেকে বেঁচে আসা প্রত্যেকের জন্য।

মিস ব্যাশেলেট বলেন যে প্রতিটি মেয়ে এবং নারী যাবে নির্ভয়ে এবং মুক্তভাবে জীবনযাপন করতে পারে সেজন্যে তাদের অধিকার এবং মানবাধিকারের স্বপক্ষে আমি জেগে উঠছি।

যুক্তরাষ্ট্রের তারকা ইভ এন্সলারের ভি-ডে সংগঠনের আহ্বানে এই শতকোটির জাগরণ আন্দোলন পরিচালিত হচ্ছে।

তরুণদের দাবি জবাবদিহিতা এবং অধিকতর স্বাধীনতা : বান

ওয়াশিংটনে গ্লোবাল লিডারশিপ কোয়ালিশনে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে আমরা এখন একটা পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় রয়েছি। তিনি বলেন যে এটা অর্থনৈতিক কেননা প্রবৃদ্ধির নতুন ভরকেন্দ্র আবির্ভূত হচ্ছে।

তিনি বলেন যে এই পরিবর্তন জনগোষ্ঠীর গঠনপ্রকৃতিতেও রয়েছে, কেননা কোন কোন অঞ্চলে জনগোষ্ঠী বার্ধক্যের মুখে উপনীত হওয়ায় ভারসাম্য এখন তরুণদের দিকে ঝুঁকছে – যাঁদের অনেকেই বেকার এবং সম্পদহীনতার শিকার।

মি বান বলেন যে তৃতীয় আরেকটি পরিবর্তন হচ্ছে রাজনৈতিক – যেখানে তরুণরা অধিকতর স্বাধীনতা ও সুযোগ দাবি করছে। তারা চায় জবাবদিহিতা এবং দেশের ভাবিষ্যত উন্নয়নে তাঁদের মতপ্রকাশের সুযোগ।

এরপর রয়েছে পরিবেশগত পরিবর্তন। মহাসচিব বলেন যে সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের যে সময়সীমা সেই ২০১৫ পরবর্তী কালের জন্য উন্নয়ন এজেন্ডা নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে।

পানি বিষয়ে সহযোগিতার আন্তর্জাতিক বর্ষ শুরু

নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বর্ষের উদ্বোধনের সময় হাঙ্গেরির রাষ্ট্রদূত সাবা করোসি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন যে ব্যবহারকারীর সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বাড়তে থাকায় বিশ্ব একটি পানি সংকটের দিকে নিপতিত হচ্ছে।

খরা ও বন্যার মতো পানিবিষয়ক চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগ এখন যতো ঘন ঘন ঘটছে এবং এর মাত্রা বেড়ে যাওয়ার যে আশঙ্কা তাতে শিগগিরই বিশ্বের আড়াইশো কোটির মতো লোক পানিসংকটের মধ্যে জীবনযাপনে বাধ্য হবেন।

সাবা করোসি বলেন যে আমরা আস্তে আস্তে একটা পানিসংকটের দিকে এগুচ্ছি। দশ হাজার বছর আগেও যতোটা পানি পাওয়া যেতো এখনও ততোটাই পাওয়া যাচ্ছে , কিন্তু ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেড়েছে তখনকার তুলনায় আট হাজার গুণ বেশী।

সাবা করোসি বলেন যে ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে খাদ্য উৎপাদন বাড়বে প্রায় পঞ্চাশ শতাংশ এবং মনে রাখা প্রয়োজন বর্তমানে পানির ৭৫ শতাংশই খরচ হয় কৃষিতে।
২০১০ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে এই সহযোগিতা বর্ষের লক্ষ্য হিসাবে পানি ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জগুলো চিহ্ণিত করা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা নির্ধারণ করা হয়।

এই বর্ষের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় এবিষয়ে নেতৃত্বদানকারী সংস্থা ইউনেস্কোর সদর দপ্তর প্যারিসে।

ক্ষুধামুক্ত বিশ্ব গড়াই হবে ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়নের লক্ষ্য

২০১৫-উত্তর বৈশ্বিক উন্নয়ন এজেন্ডা বিষয়ে বহুপাক্ষিক এক পরামর্শসভায় ভবিষ্যত উন্নয়ন উদ্যোগগুলোতে খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টিকে কেন্দ্রীয় বিষয় হিসাবে গণ্য করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এই পরামর্শসভার উদ্বোধন করে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও'র মহাপরিচালক, হোসে গ্রাজিয়ানো ড্য সিলভা ২০১৫ পরবর্তী উন্নয়ন অগ্রাধিকারগুলোর ক্ষেত্রে ক্ষুধার পূর্ণ অবসানের অঙ্গীকার করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। ২০০০ সালে যে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো তাতে ২০১৫ সালের মধ্যেই বিশ্বকে ক্ষুধামুক্ত করার কথা ছিলো।

মি ডি সিলভা বলেন যে জাতিসংঘ মহাসচিবের ক্ষুধামুক্তি বা জিরো হাঙ্গার চ্যালেঞ্জের সাথে সামঞ্জস্য রেখে উন্নয়ন সহযোগীদের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় আমরা যে লক্ষ্য অর্জনে সম্মত হচ্ছি তা হোল সম্পূর্ণভাবে ক্ষুধা, খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টির অভাব দূরীকরণ এর চেয়ে কম কোন কিছুতে আমরা সন্তুষ্ট হবো না।

বেতারের মাহাত্ম্য উদযাপনে জাতিসংঘ মহাসচিবের আহ্বান

বিশ্ব বেতার দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বেতারের শক্তির মহত্ব উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে একশো বছর আগে এটি আবিষ্কারের পর থেকে বেতার কল্পনাশক্তিকে জাগ্রত করেছে, পরিবর্তনের দুয়ার খুলে দিয়েছে এবং জীবনরক্ষাকারী তথ্যের উৎস হিসাবে ভূমিকা রেখে এসেছে।

কোরীয় যুদ্ধের সময় তাঁর বাল্যকালের স্মৃতি স্মরণ করে তিনি বলেন যে সেসময় বিশ্বের প্রতি তাঁর চোখ এবং কান খুলে দিয়েছিলো বেতার।

মি বান বলেন যে বেতার আন্ন্দ দেয়, শিক্ষা দেয় এবং সচেতন করে।গণতান্ত্রিক ভাবপ্রকাশকে তা উৎসাহ দেয় এবং ভাবনাকে প্রভাবিত করে। শর্টওয়েভ থেকে শুরু করে এফ এম কিম্বা উপগ্রহনির্ভর সম্প্রচার – এরসবই মানুষ যেখানেই থাকুক তাঁদের মধ্যে সংযোগ ঘটায়।

মি বান বলেন যে সংঘাতের পরিস্থিতি এবং সংকটের সময়ে বেতার বিপণ্ন জনগোষ্ঠীগুলোর জ্ন্য হয়ে যায় প্রাণপ্রবাহ। বেতার একইসাথে মূল্যবান এবং মূল্যসাশ্রয়ী।

মহাসচিব বলেন যে জাতিসংঘ তার প্রথম দিন থেকেই বিশ্বের সব মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য বেতারকে ব্যবহার করে আসছে।

তিনি বলেন যে টেকসই উন্নয়ন থেকে শুরু করে শিশুদের সুরক্ষা, শান্তিরক্ষা এবং সংঘাত নিরসনের মতো সববিষয়ে জাতিসংঘের অবস্থান ও ভূমিকা তুলে ধরার কাজ করছে জাতিসংঘ রেডিও।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন