১৬:২০:৫৪

ফিলিস্তিনী এলাকায় ইজরায়েলী বসতিস্থাপন মানবাধিকার লংঘন : জাতিসংঘ

শুনুন /

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের একটি দল বলেছে যে অধিকৃত এলাকায় ইজরায়েলী বসতি অব্যাহত রাখা ফিলিস্তিনীদের মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন – যা যুদ্ধাপরাধ হিসাবে গণ্য করা যায়।

তবে, প্যানেল সদস্যরা বলেছেন যে এবিষয়ে কোন বিচারিক কার্য্যক্রমের সিদ্ধান্ত নিতে পারে একমাত্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, আই সি সি।

গতবছরের জুন মাসে মানবাধিকার কাউন্সিল ফ্রান্স, পাকিস্তান এবং বতসোয়ানার বিচারকদের সমন্বয়ে এই প্যানেল গঠন করেছিলো।

ফিলিস্তিনী এবং ইজরায়েলীসহ ভুক্তভোগী, শিক্ষাবিদ এবং আইনজীবিদের সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে প্রস্তুতকৃত এসম্পর্কিত একটি রিপোর্ট প্যানেল বৃহস্পতিবার জেনিভায় প্রকাশ করে।

প্যানেলের চেয়ারম্যান, ক্রিষ্টিন শ্যানেট সাংবাদিকদের বলেন ইজরায়েলের অবিলম্বে নিশর্তভাবে বসতিস্থাপনের সব কার্য্যক্রম বন্ধ করা উচিৎ।

মিস শ্যানেট বলেন যে জেনিভা কনভেনশনের ৪৯ ধারা অনুযায়ী অধিকৃত এলাকায় বেসামরিক জনগোষ্ঠীকে স্থানান্তর নিষিদ্ধ। এটা নিজেদের ভাগ্য নির্ধারণের অধিকার র্চচার ক্ষেত্রে একটি বাধা বলেই তা নিষিদ্ধ।

মিস শ্যানেট বলেন যে মানচিত্রের দিকে তাকালেই আপনি দেখতে পাবেন যে এসব বসতি কীভাবে ফিলিস্তিনী ভূমির ধারাবাহিকতাকে ভেঙ্গে দিচ্ছে।এটি হলে ধীরে ধীরে পরিচালিত আগ্রাসন।

মিস শ্যানেট বলেন যে আইসিসির বিধিমালার আট নম্বর ধারার অধীনে এগুলো অপরাধ। আইসিসি ষ্ট্যাটিটিউটের আট নম্বর ধারা হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের অংশ।

মিস শ্যানেট বলেন যে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত তাঁদের তথ্যানুসন্ধান মিশনের ম্যান্ডেটের অংশ নয়। মিশনের এই রিপোর্ট আগামী মার্চে কাউন্সিলের সভায় বিবেচিত হবে।

মানবাধিকার উন্নয়নে অর্থায়ন বৃদ্ধির আহ্বান

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার, নাভি পিল্লাই বৃহস্পতিবার জেনিভায় দাতাদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্ষিক আবেদনে তেরো কোটি ডলারেরও বেশী তহবিল যোগানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে বাড়তি সম্পদ পাওয়া গেলে আরো বেশীসংখ্যক পরিস্থিতিতে তাঁরা সাড়া দিতে সক্ষম হবেন।

তিনি জানান যে ২০১২ সালে সাড়ে সাত শতাংশ পরিমাণে ব্যয় কমানোর পরও তাঁর প্রতিষ্ঠান টানা তৃতীয়বছরের মতো বাজেট ঘাটতির মুখে পড়েছে।

মিস পিল্লাই দাতাদের বলেন যে ২০১৩ সালে তাঁর দাপ্তরিক বাজেটে বারো শতাংশ পরিমাণে অর্থাৎ প্রায় এক কোটি সত্তুর লাখ ডলার কাটছাঁট করা হয়েছে।

মিস পিল্লাই বলেন যে মানবাধিকার খাতে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের কার্য্যকর মূল্য যে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ তা দাতাদের বুঝতে হবে।

তিনি বলেন যে এটা খুবই দূর্ভাগ্যজনক যে কোন সংকট তৈরী হলে তাতে সাড়া দেওয়ার জন্য তহবিল সংগ্রহ যতোটা সহজ , সংকট ঠেকানোর লক্ষ্যে তহবিল যোগাড় করা ততোটাই কঠিন।

বিশ্ব পর্য্যটনে প্রবৃদ্ধি চার শতাংশ : শীর্ষে এশিয়া

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্য্যটন সংস্থা, ইউ এন ডাব্লু টি ও জানিয়েছে যে ২০১৩ সালে বিশ্বে পর্য্যটন খাতে জোরালো প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।

এশিয়া এবং প্রশান্ত-মহাসাগরীয় এলাকার উদীয়মান অর্থনীতিগুলো এক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে এবং ২০১২ সালে বিশ্বে পর্য্যটক আগমনের সংখ্যা বেড়েছে চার শতাংশ হারে।

ইউ এন ডাব্লু টি ও'র মার্সেলো রিসি বলছেন যে বিশ্বে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগের মধ্যে পর্য্যটন খাতকে সরকারীভাবে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিকে একটি প্রধান ভিত্তি হিসাবে বিবেচনা করা উচিৎ।

মি রিসি বলেন যে শুধু সংখ্যাগুলোর দিকে নজর দিলেই – দেখা যায় যে বিশ্বের সেবাখাতে রপ্তানীর ত্রিশ শতাংশই আসে পর্য্যটন থেকে। বিশ্বের প্রতি বারোটি চাকরীর মধ্যে একটি প্রত্যক্ষভাবে পর্য্যটনের সাথে সম্পর্কিত।

মি রিসি বলেন যে আন্তর্জাতিক পর্য্যটন বিশেষভাবে প্রসার লাভ করছে উন্নয়নশীল এবং উদীয়মান অর্থনীতিগুলোতে।

ইউ এন ডাব্লু টি ও বলছে যে আগামী ২০২০ সাল পর্য্যন্ত বিশ্বে পর্য্যটন খাতে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হবে চার শতাংশ হারে।

এশীয় গতিশীলতায় তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে বাণিজ্য বেড়েছে : আঙ্কটাড

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা, আঙ্কটাডের নতুন পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে তথ্যপ্রযুক্তি উপকরণের বৈশ্বিক রপ্তানী ২০১১ সালে প্রায় চার শতাংশ হারে বেড়ে এক দশমিক আট ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে এশিয়ার উন্নয়নশীল অঞ্চলের চাহিদার কারণে এসব উপকরণের বৈশ্বিক রপ্তানীর ৬৪ শতাংশই গেছে ঐ এলাকায় এবং এর আর্থিক পরিমাণ এক দশমিক দুই ট্রিলিয়ন ডলার।

আঙ্কটাড বলছে তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের মধ্যে- মোবাইল ফোন, স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিটস এবং নানাধরণের খুচরো যন্ত্রাংশ বর্তমানে বৈশ্বিক রপ্তানীর এগারো শতাংশ।

তথ্যপ্রযুক্তি পণ্যের ক্ষেত্রে রপ্তানীকারকদের শীর্ষ দশের অংশ হচ্ছে প্রায় আশি ভাগ এবং এদের মধ্যে এগিয়ে আছে চীন যার এই খাতে রপ্তানীর পরিমাণ ঐবছরে ছিলো পঞ্চাশ হাজার আটশো কোটি ডলার।

২০১১ সালে এশিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি উপকরণ আমদানির পরিমাণ ছিলো পঁচাশি হাজার তিনশো কোটি ডলারের – যা বিশ্বব্যাপী এসব পণ্য আমদানীর চুয়াল্লিশ শতাংশ।

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য ঝুঁকি মোকাবেলায় জোরালো উদ্যোগগ্রহণের আহ্বান

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা , এফ এ ও বলছে যে বার্ড ফ্লু এবং পশুপাখীদের অন্যান্য বিপজ্জনক রোগ নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদার করা না হলে ২০০৬ এর বার্ড ফ্লু প্রাদূর্ভাবের পুনরাবির্ভাবের ঝুঁকি রয়েছে।

এশিয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যের কিছু দেশে এইচ ফাইভ এন ওয়ান ভাইরাসের বড় বড় সংক্রমণ এলাকা এখনও বিদ্যমান থাকায় এক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করে এফ এ ও বলছে পর্য্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা না থাকলে ২০০৬ সালের মতোই তার বিস্তার আবারো চরমে পৌঁছুতে পারে – যখন তেষট্টিটি দেশে এর সংক্রমণ ঘটেছিলো।

এফ এ ও'র প্রধান প্রাণী চিকিৎসক, হুয়ান লুব্রথ বলেন যে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক মন্দা অব্যাহত থাকার অর্থ হচ্ছে এইচ ফাইভ এন ওয়ান, বার্ড ফ্লু এবং পশুপাখিতে যেসব রোগের উৎস সেগুলোর ঝুঁকির বিরুদ্ধে প্রতিষেধক কার্য্যক্রমের জন্য অর্থের প্রাপ্যতা কমে যাওয়া।

হুয়ান লুব্রথ বলেন যে এটা যে শুধু আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রে নয় , সব দেশের নিজেদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

অন্য অনেক প্রাণীবাহিত রোগের মতো এইচ ফাইভ এন ওয়ান রোগও মানবদেহে সংক্রমিত হতে পারে এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী ২০০৩ থেকে ২০১১ সালে মধ্যে বিশ্বে এইরোগে আক্রান্ত হয়েছেন পাঁচশোরও বেশী লোক এবং তাঁদের মধ্যে মারা গেছেন তিনশোজনেরও বেশী ।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন