১৩:৫৭:৫৩

সিরিয়া এবং মালির সংকট সমাধানে সহায়তার জন্য জাতিসংঘের আহ্বান

শুনুন /

জাতিসংঘ মহাসচিব সিরিয়া এবং মালির সংকট সমাধানে সাহায্য করার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সুইৎজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে তাঁর বক্তৃতায় তিনি বলেন যে সিরিয়ার সামরিক সংঘাত দেশটির বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর বিরুপ প্রভাব ফেলছে, যাতে ইতোমধ্যেই ষাট হাজারেরও বেশী লোকের প্রাণহানি ঘটেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন যে রাজনৈতিকভাবে এই সংকটের সমাধান হতে হবে এবং সিরিয়ার সরকার ও বিরোধীগোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র পাঠানো বন্ধের জন্য তিনি সব সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

মালি সম্পর্কে মি বান হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন যে দেশটি সশস্ত্র বিদ্রোহীদের কাছ থেকে মারাত্মক হুমকির মধ্যে রয়েছে এবং এরই মধ্যে সেখানে সাড়ে তিন লাখ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।

মি বান বলেন যে মালি তার ভৌগোলিক অখন্ডতা রক্ষা এবং সাংবিধানিক শৃঙ্খলা পুনরুজ্জীবনে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছে। উগ্র গোষ্ঠীগুলোর দক্ষিণমুখী অগ্রযাত্রার পটভূমিতে সেখানে সৈন্য পাঠানোর এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফ্রান্স।

মি বান বলেন যে আফ্রিকান ইউনিয়নের সহায়তা এবং সৈন্য পাঠানোর মাধ্যমে ও ইকোওয়াসের সাংগঠনিক উদ্যোগে আফ্রিকার নেতৃত্বে মালির জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা মিশন আফিসমা গঠিত হচ্ছে।

ইকোওয়াস হচ্ছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর অর্থনৈতিক জোট।

মি বান বলেন যে মালির প্রয়োজনের সময় তাকে সহায়তা দিতে জাতিসংঘ পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন যে এসব সহায়তা দেওয়া হবে নিরাপত্তা উদ্যোগ এবং মানবিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে।

২০১৩ তে বিশ্ব অর্থনীতি কিছুটা গতি পাবে : আই এম এফ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল তার বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাষের হালনাগাদ করে বলেছে যে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের বাধা চলতিবছরে কিছুটা লাঘব হতে থাকায় ২০১৩ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি পর্য্যায়ক্রমে শক্তিশালী হবে।

তবে, আই এম এফ বলেছে যে মন্দা থেকে উত্তরণের গতি হবে ধীর এবং সেকারণে অর্থনীতির নিম্নগামীতা ঠেকাতে নীতিগত পদক্ষেপের সমন্বয় ঘটাতে হবে।

রিপোর্টে বলা হয় যে নীতিগত পদক্ষেপের কারণে ইউরো অঞ্চল এবং যুক্তরাষ্ট্রের কঠিন সংকট কিছুটা কমেছে।

এতে বলা হয় যে কার্য্যকর নীতিমালার কারণে কিছু উদীয়মান অর্থনীতি এবং উন্নয়নশীল দেশে প্রবৃদ্ধিতে গতিসঞ্চার হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রেও মন্দা থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়া ঠিকপথে রয়েছে। আই এম এফের পূর্বাভাষে বলা হয় যে চলতিবছরে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির হার হবে তিন দশমিক পাঁচ, যা ২০১২ তে ছিলো তিন দশমিক দুই।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্য্যক্রমে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান

শান্তিরক্ষা কার্য্যক্রম বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদে এক বিতর্কের সূচনায় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে আরো বেশী সংখ্যায় নারী এবং গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মি বান বলেন যে জাতিসংঘের এসব মিশনকে আরো ভালোভাবে পরিচালনা, তার পরিকল্পনা ও সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিভাগ এবং ডিপার্টমেন্ট অব ফিল্ড সাপোর্ট একসাথে কাজ করছে।

মি বান বলেন যে সদস্য রাষ্ট্রগুলো যদি ঠিক সময়ে ঠিকমতো অংশগ্রহণে সম্মত হয় তাহলে আমরা আরো দ্রুততার সাথে শান্তিরক্ষীদের মোতায়েন এবং তাদের আরো ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারি।

মি বান বলেন যে আমাদের এসব কার্য্যক্রমে অংশ নেবার জন্য আরো বেশী সংখ্যক নারীকে পাঠানোর জন্য আমি আমার আহ্বানের পুনরুল্লেখ করছি।

মি বান বলেন যে আমি নারী-পুরুষের সাম্যের প্রবক্তা হিসাবে গর্ববোধ করি এবং আমি সেই দিনটির সূচনা করতে চাই যেদিন নারীদের পূর্ণাঙ্গ অংশগ্রহণ – বিশেষ করে নেতৃত্বের আসনে আসীন হওয়ার সুবাদে শান্তিরক্ষা কার্য্যক্রম উপকৃত হবে।

মি বান বলেন যে জাতিসংঘ – শান্তিরক্ষা মিশনের কার্য্যক্রম সময়ে সময়ে পর্য্যালোচনা করবে যাতে করে বাস্তব পরিস্থিতি এবং নতুন ম্যান্ডেটের চাহিদা পূরণের ক্ষমতা অর্জনে দক্ষতা ও যোগ্যতার যর্থাথ মিশ্রণ ঘটে।

নিরাপত্তা পরিষদে শান্তিরক্ষা মিশনে বহুমাত্রিক কৌশল অনুমোদন

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে টেকসই স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে ভিত্তি গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীবাহিনীর জন্য নতুন এক কৌশল নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত হয়েছে।

সোমবার সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রস্তাবে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্য্যক্রমের লক্ষ্য যুদ্ধোত্তরকালে শান্তি বিনির্মাণে সহায়ক হওয়ার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

প্রস্তাবে বলা হয় যে শান্তিরক্ষা কার্য্যক্রম সশস্ত্র লড়াইয়ের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং টেকসই শান্তি ও উন্নয়নের লক্ষ্যেই পরিচালিত হওয়া উচিৎ।

নিরাপত্তা পরিষদের সভার সভাপতি, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব, জলিল আব্বাস বলেন যে এই বৈঠক অনুষ্ঠান এবং এই প্রস্তাব উত্থাপনের উদ্দেশ্য তিনটি।

মি আব্বাস বলেন যে প্রথমত: সংঘাত মোকাবেলায় জাতিসংঘের হাতে থাকা সবচেয়ে কার্য্যকর হাতিয়ারহচ্ছে শান্তিরক্ষা মিশন; দ্বিতীয়ত: বিভিন্নধরণের পরিস্থিতির সাথে আরো ভালোভাবে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য গত কয়েক যুগে শান্তিরক্ষা কার্য্যক্রম তার প্রথাগত ধারা থেকে বেরিয়ে এসে এখন বহুমাত্রিক রুপ নিয়েছে।

মি আব্বাস বলেন যে শান্তি আনয়নের প্রাথমিক দায়িত্বের পাশাপাশি শান্তি বিনির্মাণেও তাদের ক্ষমতাবৃদ্ধি ঘটছে। তৃতীয়ত; গত বাহান্ন বছরে পাকিস্তান শান্তিরক্ষা কার্য্যক্রমের প্রতি তার দৃঢ় অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটিয়েছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় মিশনে অংশ নিয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবে বলা হয় যে বহুমাত্রিক শান্তিরক্ষা মিশনকে ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতার লক্ষ্যে নানাধরণের কার্য্যক্রমে সহায়তার অনুমোদন বা ম্যান্ডেট দেওয়া যেতে পারে।

বৈশ্বিক প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে : আঙ্কটাড

জাতিসংঘের বাণিজ্যও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা, আঙ্কটাড বলছে যে ২০১২ সালে বিশ্বে প্রত্রক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ বা এফ ডি আই প্রায় আঠারো শতাংশ পরিমাণে কমেছে।

গ্লোবাল ইনভেষ্টমেন্ট ট্রেন্ডস এন্ড প্রসপেক্টস রিপোর্টে আঙ্কটাড বলছে যে এই বিনিয়োগ প্রবাহের মাত্রা ২০০৯ সালে যে সর্বনিম্ন পর্য্যায়ে পৌঁছেছিলো এখন তা প্রায় তার কাছাকাছি।

আঙ্কটাডের বিনিয়োগ এবং উদ্যোগ বিভাগের পরিচালক, জেমস ঝান বলছেন যে প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বৈশ্বিক মন্দা উত্তরণের ধারা পথচ্যূত হয়েছে।

মি ঝান বলেন যে ২০০৯ সালে আমরা এফ ডি আই প্রবাহ সর্বনিম্ন পর্য্যায়ে নেমে যেতে দেখেছি। এর পরিমাণ ২০০৯ সালে ছিলো এক দশমিক দুই ট্রিলিয়ন ডলার।এখন এই পরিমাণ এক দশমিক তিন ট্রিলিয়ন ডলার। ২০১১ সালে তা ছিলো এক দশমিক ছয় ট্রিলিয়ন ডলার।

মি ঝান বলেন যে আমরা ভেবেছিলাম মন্দা থেকে একটা জোরালো উত্তরণ ঘটবে , কিন্তু, এখন মনে হচ্ছে বৈশ্বিক প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগের ধারায় উত্তরণ ঘটতে আরো অনেক সময় প্রয়োজন হবে।

মি ঝান বলেন যে এফ ডি আই প্রবাহে ভাটা পড়ার প্রদান কারণ হচ্ছে বিনিয়োগকারীদের জন্য নীতিগত অনিশ্চয়তা এবং অর্থনীতির মৌলভিত্তির দূর্বলতা।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন