১৭:৩৩:১২

হামজনিত মৃত্যু কমেছে ৭১ শতাংশ, কিন্তু চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে: ডাব্লুএইচও

শুনুন /

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও বলছে যে গত দশকে হামের কারণে মৃত্যুর সংখ্যা কমলেও এই রোগ নির্মূলের কাজ কিছু কিছু অঞ্চলে থমকে আছে।

সংস্থার পরিসংখ্যানে দেখা যায় যে ২০০০ থেকে ২০১০ সালের মধ্যে হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে ৭১ শতাংশ এবং একইসময়ে নতুন সংক্রমণও হ্রাস পেয়েছে প্রায় ষাট শতাংশ।

হাম শিশুমৃত্যুর একটি প্রধান কারণ এবং ২০১৫ সালের মধ্যে এই রোগ নির্মূল করার জন্য সংস্থা শিশুদের দুই বার প্রতিষেধক সেবনের সুপারিশ করে আসছে।

কিন্তু, ডাব্লু এইচ ও'র অনুমান ২০১১ সালে প্রায় দুই কোটি শিশুকে তাদের প্রথমবারের প্রতিষেধক দেওয়া যায় নি। সংস্থার ডঃ রবার্ট পেরি বলছেন যে অনেকগুলো কারণে এসব শিশুদের প্রতিষেধক সেবন করা যায় নি।

ডঃ পেরি বলেন যে আমরা জানি যে শিশুদের প্রতিষেধক সেবনের বিষয়ে কোথাও কোথাও দ্বিধা অথবা একধরণের আত্মতৃপ্তি রয়েছে। অনেক দেশেই জনগোষ্ঠী বিদ্যমান স্বাস্থ্যকাঠামো বা নিয়মিত প্রতিষেধক সেবনের ব্যবস্থা থেকে ভালো সেবা পান না ।

ডঃ পেরি বলেন যে কিছু দেশ আছে যেসব জায়গায় সম্পদের সীমাবদ্ধতা অথবা দেশের ভিতরের অস্থিতিশীলতার কারণে পুরো জনগোষ্ঠীর কাছে তাদের স্বাস্থ্য বিভাগ কার্য্যকরভাবে পৌঁছাতে পারে না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে ২০১১ সালে যেসব শিশু প্রতিষেধক সেবন থেকে বাদ পড়েছেন তার অর্ধেকই পাঁচটি দেশের বাসিন্দা এবং এগুলো হোল গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, ইথিওপিয়া, ভারত, নাইজেরিয়া এবং পাকিস্তান। সংস্থা জানায় ঐ বছরে এসব দেশে বড় আকারে হামের সংক্রমণ ঘটেছে।

বিশ্ব অর্থনীতি নাজুক হলেও সবচেয়ে খারাপ পর্য্যায় পেরিয়ে এসেছে : বিশ্ব ব্যাংক

বিশ্ব ব্যাংকের এক নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে চারবছর আগে শুরু হওয়া বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সবচেয়ে খারাপ পর্য্যায়টি শেষ হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে, উচ্চ আয়ের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি এবং অস্থিরতার কারণে বিশ্ব অর্থনীতি এখনও নাজুক।

বিশ্ব ব্যাংকের সর্বসাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্ভাবনা শীর্ষক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধির হার শ্লথ হলেও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সম্ভাবনা দৃঢ়ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত ( যদিও প্রবৃদ্ধির হার মন্দাপূর্বকালের চেয়ে এক থেকে দুই শতাংশ কম)।

রিপোর্টে বলা হয় যে দ্রুত প্রবৃদ্ধির হার ফিরে পাওয়ার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোকে উৎপাদন বৃদ্ধিমুলক অভ্যন্তরীণ নীতিতে মনোযোগী হতে হবে।

বিশ্ব্যাংকের হিসাবে ২০১২তে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছিলো ২.৩ শতাংশ এবং ২০১৩ তে মোটামুটি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে, ২০১৪ তে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে হবে ৩.১ এবং ২০১৫ তে ৩.৩ শতাংশ।

এতে বলা হয় উন্নয়নশীল দেশগুলো গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম হারের প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ২০১২ তে যা ছিলো ৫.১ শতাংশ। চলতি বছরে তা বেড়ে হবে সাড়ে পাঁচ শতাংশ এবং ২০১৪ তে ৫.৭ ও ২০১৫ তে ৫.৮ শতাংশ।

সন্ত্রাস মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

নিরাপত্তা পরিষদে এক দীর্ঘ বিতর্কের শেষে সভাপতির বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে একটি টেকসই এবং পূর্ণাঙ্গ নীতিকৌশলই সংঘাত বা মানবাধিকার লংঘনের মতো যেসব পরিস্থিতি সন্ত্রাসের জন্ম দেয় সেগুলোসহ সন্ত্রাসবাদকে পরাস্ত করতে পারে।

পরিষদ গভীর উদ্বেগের সাথে উল্লেখ করে যে সন্ত্রাসবাদ এখনও বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তার প্রতি গুরুতর হুমকি হয়ে রয়েছে।

এতে জোর দিয়ে বলা হয় যে উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন যেকোন সন্ত্রাসী কার্য্যকলাপ অপরাধ এবং অযৌক্তিক।

পরিষদের সভাপতি পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মাসুদ খান বিতর্কে অংশ নেওয়া সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মতামতের সারমর্ম তুলে ধরেন।

রাষ্ট্রদূত খান বলছিলেন যে সন্ত্রাসবাদের নিন্দা ছিলো দ্ব্যর্থহীন, তা মোকাবেলায় মনোবল ছিলো দৃঢ় এবং সুস্পষ্ট।রাষ্ট্রদূত খান বলছিলেন যে অধিকতর কার্য্যকর সন্ত্রাসবিরোধী কার্য্যক্রমের জন্য একটি সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব এই আলোচনায় বারবার প্রাধান্য পেয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদে জোর দেওয়া হয় যে সন্ত্রাসবাদ পরাস্ত করতে হলে সন্ত্রাসী হুমকিকে বাধাগ্রস্ত, বিকল, বিচ্ছিন্ন ও অচল করে দেওয়ার লক্ষ্যে সব রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সমন্বিত ও অব্যাহত উদ্যোগ নিতে হবে। শুধুমাত্র সামরিক শক্তি বা নিরাপত্তা বাহিনীর দ্বারা আইনপ্রয়োগ অথবা গোয়েন্দা তৎপরতার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদকে পরাস্ত করা যাবে না উল্লেখ করে নিরাপত্তা পরিষদ যেসব পরিস্থিতি সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটায় সেগুলো মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।

উপেক্ষিত সতেরোটি রোগ নির্মূলে নাটকীয় অগ্রগতি: ডাব্লু এইচ ও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও তার এক সর্বসাম্প্রতিক রিপোর্টে বলেছে যে উপেক্ষিত সতেরোটি গ্রীষ্মমন্ডলীয় রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নজিরবিহীন অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এবং তা সম্ভব হয়েছে নতুন এক বৈশ্বিক কৌশল এবং শরীকদের সহায়তায় গুণসম্পন্ন এবং কার্য্যকর মূল্যে ওষুধের নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে।
এসব রোগের সবচেয়ে বড় শিকার হয়ে থাকেন দরিদ্র জনগোষ্ঠী এবং এগুলোর বৈশ্বিক প্রভাব মোকাবেলায় অব্যাহত চেষ্টার পরিণতিতে এগুলোর অনেকটাই এখন নির্মূল হওয়ার কাছাকাছি অবস্থায় রয়েছে।

এই রিপোর্টে এসব রোগের নিয়ন্ত্রণ, রোগমুক্তি এবং নির্মূলকরণের অগ্রগতির গতিধারা চিহ্নিত করা হয়েছে। দুটি রোগের বৈশ্বিক পর্য্যায়ে নির্মূল সম্পন্ন হওয়ার লক্ষ্য হচ্ছে ২০১৫ এবং ২০২০ সাল। আরো পাঁচটি রোগের বিষয়ে ২০১৫ সাল পর্য্যন্ত ছটি লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে এবং আরো নটি রোগের জন্য দশটি লক্ষ্য ঠিক হয়েছে ২০২০ সাল। এসব লক্ষ্যমাত্রার কোনটি অঞ্চলভিত্তিক এবং আবার কোনটি বৈশ্বিক।

ডাব্লু এই ও'র উপেক্ষিত গ্রীষ্ণমন্ডলীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক ডঃ লরেঞ্জো স্যাভিয়োলি বলেন  যে নাটকীয়ভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে।যেটা হয়েছে তাহোল বিতরণের জন্য আমরা উন্নত মানের প্রচুর ওষুধ পেয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলো এসব নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মসূচিতে অর্থ যোগান দিচ্ছে। যেসব দেশে এসব রোগের প্রার্দূভাব রয়েছে তারাও এগুলো মোকাবেলায় আন্তরিকভাবে এগিয়ে এসেছে।

ডঃ স্যাভিয়োলি বলেন যে এসম্পর্কে ধারণা দিতে এই রিপোর্টে আমরা প্রমাণ দিয়েছি যে প্রতিবছর কীভাবে বিশ্বের দরিদ্র অংশের দরিদ্রতম লোকেদের মধ্যে প্রায় সত্তুর কোটির কাছে সবচেয়ে ভালো চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।

ডাব্লু এইচ ও'র মহাপরিচালক, ডঃ মার্গারেট চ্যান বলেন যে এখনকার চ্যালেঞ্জ হচ্ছে যেসব দেশে এসব রোগের প্রাদূর্ভাব রয়েছে সেসব দেশের জাতীয় কর্মসূচিকে শক্তিশালী করা এবং সরবরাহব্যবস্থাকে ঠিক করা যাতে যখন যার প্রয়োজন হবে তখন যেন তাকে ওষুধ পৌঁছে দেওয়া যায়।

পশ্চিম তীরে ইজরায়েলী বসতি বেআইনী : জাতিসংঘ

জাতিসংঘ মহাসচিব, বান কি মুন বলেছেন যে পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতিগুলো আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।

কথিত ই-ওয়ান অঞ্চলে ইজরায়েলী বসতি নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণার পর তৈরি হওয়া উদ্বেগের পটভূমিতে মহাসচিবের মুখপাত্রের দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে একথা বলা হয়।এবিষয়ে গত দোসরা ডিসেম্বর মহাসচিব তাঁর বিবৃতিতে গভীর হতাশা প্রকাশ করেছিলেন।

জাতিসংঘের মুখপাত্র এডোয়ার্ডো ডেল বুয়ে ঐ বিবৃতিটি পাঠ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয় যে জাতিসংঘ মহাসচিব ই-ওয়ান এলাকায় এধরণের যেকোন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিলের জন্য পুনরায় আহ্বান জানাচ্ছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ই-ওয়ান এলাকায় সাম্প্রতিক ফিলিস্তিনী বিক্ষোভ এবং ইজরায়েলীদের সেসব বিক্ষোভকারীদের অপসারণ মোটামুটি অহিংস ছিলো।

মহাসচিব প্রতিবাদ অব্যাহত রাখার ক্ষেত্রে শান্তি বজায় রাখা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকারের প্রতি পূর্ণ সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

বিবৃতিতে বলা হয় যে ঐ অঞ্চলের জন্য সময়টা এখন কঠিন এবং সংশ্লিষ্ট সবার উচিৎ আন্তরিকভাবে চেষ্টা করা যাতে এমন পরিবেশ সৃষ্টি হয় যেখানে অর্থপূর্ণ শান্তি আলোচনা আবারো শুরু হতে পারে এবং শান্তিপ্রক্রিয়ার ভবিষ্যত যেন অক্ষূণ্ন থাকে – যা বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন