১৭:৫৪:৪৩

তামাকজাত পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য মোকাবেলায় নতুন সনদ

শুনুন /


বাংলাদেশের একটি কারখানায় কাগজে তামাক মুড়ে তৈরি করা হচ্ছে দেশীয় সিগারেট – যা বিড়ি নামে সুপরিচিত।দক্ষিণ এশিয়ায় এটি বেশ জনপ্রিয়। ছবি: আই আর আই এন/ মুশফিক ওয়াদুদ

বৃহস্পতিবার জেনেভায় তামাকজাত পণ্যের অবৈধ বাণিজ্য মোকাবেলায় একটি সনদ স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

দুই মাস আগে দক্ষিণ কোরিয়ার সোউলে ১৪০টি দেশ এই সনদ , দ্য প্রোটোকল টু এলিমিনেট ইলিসিট ট্রেড ইন টোব্যাকো প্রোডাক্টস অনুমোদন করে।

উৎস থেকে সরবরাহের ধারা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের বেআইনী বাণিজ্য বন্ধের লক্ষ্যে দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করাই হচ্ছে এই আন্তর্জাতিক চুক্তির লক্ষ্য।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক, ডঃ মার্গারেট চ্যান চারবছর ধরে আলাপ-আলোচনার পর এই সনদটি অনুমোদন করায় সদস্য দেশগুলোর প্রশংসা করেন।

ডঃ চ্যান বলেন যে আপনাদের দেশগুলোতে জনগণের স্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতিসাধনকারী এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে সুক্ষভাবে পরিচালিত অপরাধ দমন এবং পর্য্যায়ক্রমে তা নির্মূল করতে এই সনদ বিশ্বকে একটি নজীরবিহীন আইনী হাতিয়ার দিয়েছে।

ডঃ চ্যান বলেন যে চোরাচালান এবং বেআইনীভাবে উৎপাদনসহ সবধরণের অবৈধ বাণিজ্য সম্পর্কে বিধিমালা প্রণয়ন, কোনধরণের আচরণ বেআইনী হিসাবে বিবেচিত হবে তা সংজ্ঞায়িত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে সেগুলো বাস্তবায়ন সম্পর্কিত পদক্ষেপগুলোও এই সনদে নির্ধারণ করা হয়েছে।

এই সনদ ডাব্লু এইচ ও'র ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন টোব্যাকো কন্ট্রোলের অংশ।

উন্নয়নশীল দেশে পারদ স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে: ইউ এন ই পি

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি – ইউ এন ই পি'র নতুন গবেষণায় বলা হচ্ছে যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পারদের সংস্পর্শ ক্রমশই একটি স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

দ্য গ্লোবাল মার্কারি অ্যাসেসমেন্ট এ বলা হয়েছে যে সোনার খনি থেকে এই ক্ষতিকর ধাতুর নিঃসরণ ২০০৫ সাল থেকে দ্বিগুণ হয়েছে।সোনার মূল্যের উর্ধ্বগতি এবং সেবিষয়ে নতুন এবং উন্নত তথ্যপ্রবাহ এর অন্যতম একটি কারণ।

ইউ এন ই পি বলছে যে আফ্রিকা, এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকার কোন কোন অংশে ছোট আকারের খনিতে সোনা অনুসন্ধান এবং বিদ্যূৎ উৎপাদনের জন্য জ্বালানী পোড়ানোর কারণে পরিবেশে পারদ নিঃসরণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।

সংস্থা হুঁশিয়ারী দিয়ে বলছে পারদের সংস্পর্শে আসার কারণে এসব অঞ্চলে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে এক থেকে দেড় কোটি লোক এবং এঁদের মধ্যে ত্রিশ লাখ নারী ও শিশু।

সংস্থা বলছে দ্রুত শিল্পায়নের কারণে এশিয়া পারদ নিঃসরণের প্রধান অঞ্চলে পরিণত হয়েছে যেখানে বৈশ্বিক নিঃসরণের প্রায় অর্ধেকটাই ঘটে থাকে।

বিশ্বে গৃহকর্মীর সংখ্যা পাঁচ কোটি কুড়ি লাখ : আই এল ও

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও'র পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বে প্রায় পাঁচ কোটি কুড়ি লাখ – যাঁদের বেশীরভাগই নারী – গৃহকর্মী হিসাবে কর্মরত আছেন।এটি আই এল ও'র এধরণের প্রথম গবেষণা।

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে বিশ্বে যতোসংখ্যক নারী নানাধরণের চাকরীতে আছেন তার সাড়ে সাত শতাংশই হচ্ছে গৃহকর্মী। এই হার কোন কোন অঞ্চলে বিশেষ করে এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকা, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলে বেশী।

আই এল ও রিপোর্টে বলা হয় যে ১৯৯০ এর দশকের মাঝামাঝি থেকে ২০১০ সাল পর্য্যন্ত সময়ে বিশ্বব্যাপী গৃহকর্মীর সংখ্যা আরো এক কোটি নব্বুই লাখ বেড়েছে।

রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে এই খাতের আকার এতোটা বড় হওয়া সত্ত্বেও অনেক গৃহকর্মীকেই অনুন্নত কাজের পরিবেশ এবং পর্যাপ্ত আইনগত সুরক্ষা ছাড়াই কাজ করতে হয়।
কাজের পরিবেশ বিষয়ে আই এল ও'র বিশেষজ্ঞ মার্টিন ওয়েলৎজ বলেন যে তাঁদেরকে দুটো কাজ করতে হয়েছে : প্রথমত, গৃহকর্মীর সংখ্যা ধারণা করা – যেটি বিশ্বব্যাপী প্রায় পাঁচ কোটি ছাব্বিশ লাখ বলে অনুমান করা হয়। এরমধ্যে, লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল এবং এশিয়ায় সবচেয়ে বেশী সংখ্যায় গৃহকর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। এরপর রয়েছে আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আরব অঞ্চল।

মি ওলেৎজ বলেন যে দ্বিতীয় যেবিষয়টি তাঁদেরকে করতে হয়েছে তাহোল বিভিন্ন দেশে কী পরিমাণে আইনগত সুরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে সেই তথ্য সংগ্রহ করা এবং এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় ঘটানো। এর মধ্য দিয়েই বিশ্বে গৃহকর্মীর সংখ্যা এবং তাদের আইনগত সুরক্ষার মাত্রা সম্পর্কে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া গেছে।

পাঁচ কোটি কুড়ি লাখ গৃহকর্মীর এই সংখ্যায় পনেরো বছরের কমবয়েসী শিশু গৃহকর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয় নি। আই এল ও'র ২০০৮ সালের এক হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে শিশু গৃহকর্মীর সংখ্যা চুয়াত্তুর লাখ।

প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সৃষ্ট সুযোগ থেকে নারীরা বঞ্চিত হওয়ার ঝুঁকিতে

আই এল ও'র এক নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে বিশ্বে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে কর্মক্ষেত্রে নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি হলেও নারীরা সেগুলো থেকে পিছনে পড়ে যাবার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, যার মধ্যে নারীর ক্ষমতায়ন এবং নারী-পুরুষের মধ্যে সমতার বিষয়টিও রয়েছে, তা অর্জনে অগ্রগতি মূল্যায়ন করে প্রতিবেদন তৈরি করেছেন আই এল ও'র ক্লদ অ্যাকপোকাভি। তিনি বলছেন যে মানবিক এবং সামাজিক বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে নারী প্রতিনিধিত্ব কিছুটা বেশী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব কম।

মি অ্যাকপোকাভি বলেন যে এই অসাম্য দূর করার লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

আইএলও'র নারী-পুরুষের সাম্য বিষয়ক পরিচালক, জেন হজেস বলেন যে বিভিন্ন সমাজে নারী পুরুষের ভূমিকা সম্পর্কে বিদ্যমান ধারণা মেয়েদেরকে কোমল বিষয়গুলোর দিকে ঠেলে দেয়। এটি উন্নত এবং উন্নয়নশীল সবদেশেই দেখা যাচ্ছে জানিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে প্রকৌশল বা কম্পিউটার বা ভৌত বিজ্ঞান বিষয়ে পড়াশোনা করতে মেয়েরা ছেলেদের তুলনায় কমই আগ্রহী হয়।

শ্রমশোষণ মানবপাচারের প্রধান কারণ : আই ও এম

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা – আই ও এম এর এক নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে মানবপাচারের প্রধান কারণ হচ্ছে শ্রমশোষণ।

রিপোর্টে মানবপাচারের প্রবণতা বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে ২০১১ সালে মানবপাচারের যেসব ঘটনা সহায়তার জন্য আই ও এম এর গোচরে আনা হয়েছে সেগুলোর অর্ধেকই শ্রমশোষণজনিত।

আই ও এম এর মুখপাত্র, জুম্বে ওমারি জুম্বে বলেন যে আই ও এম এর দেড়শোটি মিশন থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দেখা গেছে এই সময়ে তিন হাজারেরও বেশী শ্রমশোষণের ঘটনায় সংস্থা সাহায্য করেছে – যেসংখ্যা মানবাপাচারের শিকার লোকজনের সাহায্য চাওয়ার নথিভুক্ত মোট ঘটনার তেত্রিশ শতাংশ।

মি জুম্বে বলছিলেন যে ২০১০ সাল থেকে আই ও এম যেসব ক্ষেত্রে সাহায্য করেছে সেসব মানবপাচারের ঘটনায় যৌনশোষণের চেয়ে শ্রমশোষণের হার বেশী। বিশ্ব এখনও মানবপাচারের এই নিষ্ঠুরতার মাত্রা সম্পর্কে অসচেতন।

আগামী জুন মাসে ২০১২ সালের মানবপাচার পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি নতুন রিপোর্ট প্রকাশিত হবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন