১৮:২৮:৩৭

শান্তি বিনির্মাণে অগ্রগতি হয়েছে : বান

শুনুন /

সংঘাত-উত্তর শান্তি বিনির্মাণের বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের উন্মুক্ত বিতর্কে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে শান্তি বিনির্মাণ এজেন্ডায় জাতিসংঘ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে , কিন্তু তা সত্ত্বেও বড়ধরণের চ্যালেঞ্জ এখনও রয়ে গেছে।

তিনি বলেন অনেক দেশেই সশস্ত্র সংঘাত অবসানের পর বহুবছর ধরেই অস্থিরতা অব্যাহত থাকে যাতে উঁচুহারে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি ঘটে থাকে। তিনি বলেন যে ২০০০ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে সংঘটিত সহিংসতার নব্বুই শতাংশই ঘটেছে সেসব দেশে যেসব দেশে আগে গৃহযুদ্ধ হয়েছিলো।

মি বান বলেন যে সহিংসতার পুনরাবৃত্তির কারণ দেশভেদে ভিন্ন হয়ে থাকলেও সেখানে একটি অভিন্ন সূত্র পাওয়া যায় – যা হচ্ছে সংঘাতের পটভূমিতে সৃষ্ট আস্থার ঘাটতি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে, রাষ্ট্র এবং আন্তর্জাতিক শরীকদের মধ্যে এই আস্থার ঘাটতি দেখা দেয়।

মি বান বলেন যে অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধে এবং অধিকতর সহনশীল রাষ্ট্র ও সমাজের জন্য তিনটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলো হচ্ছে ,সবাইকে অর্ন্তভুক্ত করার নীতি, প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং অব্যাহত আন্তর্জাতিক সহায়তা।

মহাসচিব বান বলেন যে শান্তি গড়ায় অর্ন্তভুক্তিমূলক কৌশলের সূচনা হয় রাজনৈতিক সমঝোতা এবং সংঘাতের সব পক্ষগুলোকে এটা বোঝানোর মাধ্যমে যে তাদের মূল লক্ষ্যগুলো সহিংসতার বদলে শুধুমাত্র সংলাপ ও দরকষাকষির মাধ্যমেই অর্জন সম্ভব।

আন্তর্জাতিক মানব সংহতি দিবসে বৈচিত্রের ঐক্য উদযাপন

আন্তর্জাতিক মানব সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে বিশ্বব্যাপী মানুষ দাবি করছে রাজনৈতিক স্বাধীনতা, জবাবদিহিতা এবং সমতা।

মহাসচিব বলেন যে একটি অধিকতর নিরাপদ, টেকসই এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের লক্ষ্যে বিশ্ব একজোট হলে সবচেয়ে ভালো আকারের সমাধান সম্ভব। তিনি বলেন যে আমাদের পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত বিশ্বের সমস্যা সমাধানে সংহতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ।

২০০৫ সালে সাধারণ পরিষদে গৃহীত এক প্রস্তাবের মাধ্যমে চালু হওয়া এই দিবসটিতে দারিদ্রের বিরুদ্ধে লড়াই এবং ভূমি মাইন নিষিদ্ধ করার মতো বিষয়গুলোর প্রসারে প্রচারাভিযান পরিচালনায় সবাইকে উৎসাহিত করা হয়ে থাকে।

২০১২ তে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি দূর্বল হয়েছে : জাতিসংঘ

২০১২ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে দূর্বল হয়েছে এবং আগামী দুই বছরেও তা নিস্তেজ থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে । মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতিসংঘের সর্বসাম্প্রতিক ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক সিচুয়েশন এন্ড প্রসপেক্টাসে একথা বলা হয়েছে।

রিপোর্টে বলা হয় যে ২০১৩ সালে বিশ্ব অর্থনীতি দুই দশমিক চার শতাংশ এবং ২০১৪ সালে তিন দশমিক দুই শতাংশ হবে যা দেড়বছর আগে জাতিসংঘের পূর্বাভাষ থেকে অনক কম।

রিপোর্টে হুঁশিয়ার করে বলা হয় যে অনেক দেশে বেকারত্বের যে সমস্যা অব্যাহত আছে তা মোকাবেলার জন্য এই প্রবৃদ্ধির হার মোটেও যথেষ্ট হবে না।

জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক এন্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স এর দলপতি রব ভস বলেন যে কয়েকটি মূল বিষয় হচ্ছে তিনটি কেন্দ্রীয় বার্তা। প্রথমত: চলতিবছর সম্পর্কে যেমনটি ভাবা হয়েছিলো, আমরা বৈশ্বিক অর্থনীতির গতি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় শ্লথ হতে দেখেছি। ইউরোপের অনেকটাই ঋণ, স্বল্প প্রবৃদ্ধি এবং উঁচুমাত্রায় বেকারত্বের এক দুষ্টচক্রের ফাঁদে আটকা পড়ার কারণে আবারও মন্দায় নিপতিত হয়েছে। কিন্তু, এটা আরও ব্যাপক।এছাড়াও, চীন, ব্রাজিল এবং ভারতসহ উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর অনেক জায়গাতেই চলতিবছরে প্রবৃদ্ধির হার কমতে শুরু করেছে – যার আংশিক কারণ হচ্ছে বৈশ্বিক নিম্নগতি আর বাকী কারণ হচ্ছে তাদের অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জসমূহ।

রিপোর্টে হুঁশিয়ারী দিয়ে বলা হয় যে বেকারত্বের সংকট মোকাবেলায় ভিন্ন নীতিমালা প্রয়োজন, কেননা, বিদ্যমান নীতিসমূহের মাধ্যমে এবং চলমান প্রবৃদ্ধির ধারায় ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ২০০৮-০৯ 'র মহামন্দায় হারানো চাকরীগুলো ফিরে পেতে অন্তত পাঁচবছর লেগে যাবে।

পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর হামলার নিন্দা

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও এবং জাতিসংঘের শিশু তহবিল – ইউনিসেফ পাকিস্তানে স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর একাধিক হামলার ঘটনার নিন্দা করেছে যেগুলোতে ছজনের মৃত্যু হয়েছে।

করাচী, সিন্ধু প্রদেশ এবং পেশওয়ারসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় পরিচালিত এসব হামলায় পোলিও টিকাদান কর্মসূচিতে নিয়োজিতদের মধ্যে অন্তত ছ'জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

ডাব্লু এইচ ও এবং ইউনিসেফ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে যে এধরণের হামলা পাকিস্তানের সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠী – বিশেষ করে শিশুদেরকে – জীবনরক্ষাকারী মৌলিক সেবা থেকে বঞ্চিত করছে।

বিবৃতিতে সংস্থা দুটি ক্ষতিগ্রস্ত সম্প্রদায়গুলোর নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষা এবং একটি নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য সাধ্যমতো চেষ্টা করার আহ্বান জানায়।

বিশ্বে মাত্র তিনটি দেশে পোলিও এখনও সমস্যা হিসাবে রয়ে গেছে – যেগুলো হোল আফগানিস্তান, নাইজেরিয়া এবং পাকিস্তান।

ম্যালেরিয়াবিরোধী লড়াইয়ে গতি কমছে : ডাব্লু এইচ ও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও তার সর্বসাম্প্রতিক বার্ষিক প্রতিবেদন, ওয়ার্ল্ড ম্যালেরিয়া রিপোর্টে বলেছে যে ম্যালেরিয়ার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ ও তা ঠেকানোর বৈশ্বিক উদ্যোগ গতি হারাতে শুরু করেছে, যার ফলে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় সংক্রামক ব্যাধির বিরুদ্ধে গত দশকে অর্জিত অগ্রগতি নস্যাৎ হয়ে যাওয়ার আশংকা তৈরি হয়েছে।

ডাব্লু এইচ ও বলছে যে সাব-সাহারান আফ্রিকায় ২০১০ সালে যেখানে সর্ব্বোচ্চ সাড়ে চৌদ্দ কোটি মশারি বিতরণ করা হয়েছিলো সেখানে চলতি বছরে তা ছয় কোটি ষাট লাখে নেমে এসেছে। আফ্রিকায় যেখানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন প্রায় সাত কোটি সত্তুর লাখ লোক সেখানে ঘরের মধ্যে মশকনিধনকারী স্প্রে ছিটানোর ব্যবস্থা পৌঁছেছে মাত্র সত্তুর লাখের কাছে।

সংস্থা বলছে যে ম্যালেরিয়ার চিকিৎসাকে সার্বজনীন করতে হলে আগামী দশকে বার্ষিক পাঁচশো কোটি ডলার করে প্রয়োজন হবে , কিন্তু, বর্তমানে তার মাত্র অর্ধেক অর্থায়ন সম্ভব হচ্ছে।

ডাব্লু এইচ ওর রিচার্ড সিবুলস্কিস বলেন যে ম্যালেরিয়ার বোঝা কমানোর বৈশ্বিক লক্ষ্য অর্জন কোনভাবেই সম্ভব হবে না যদি না সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে অগ্রগতি জোরদার করা যায়।

মি সিবুলস্কিস বলছিলেন যে ২০১৫ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া সংক্রমণের হার ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে পঞ্চাশটি দেশ। এই পঞ্চাশটি দেশ হচ্ছে ম্যালেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে এমন নিরানব্বুইটি দেশের মধ্যে। আরেকটি ইতিবাচক অর্জন হচ্ছে বিভিন্ন দেশে দ্রুত রোগ চিহ্ণিতকরণের পরীক্ষা ব্যবস্থার বৃদ্ধি এবং চিকিৎসায় নানারকম থেরাপি দেওয়ার ব্যবস্থার সম্প্রসারণ।এর অর্থ হচ্ছে বেশী সংখ্যক লোক রোগনির্ণায়ক পরীক্ষা করাতে পারছেন এবং বেশী সংখ্যক আক্রান্ত রোগী ম্যালেরিয়ার কার্য্যকর চিকিৎসা পাচ্ছেন।

মি সিবুলস্কিস বলেন যে মূলত যেসব হাতিয়ার আমাদের কাছে আছে তাতে আমাদের নিশ্চিত করা প্রয়োজন যে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থাগুলোতে যেন আমরা বিনিয়োগ বজায় রাখতে পারি – নাহলে ম্যালেরিয়া আবার মাথা চাড়া দেবে। আপিনি মশারি সরিয়ে নেওয়ার সাথে সাথে ম্যালিরিয়া ফিরে আসবে এবং স্প্রে বন্ধ করলে তা আরো ভয়ংকর রুপে ফেরৎ আসবে।

চৌদ্দটি দেশে ম্যালেরিয়ার বোঝা কেন্দ্রীভূত হয়ে আছে যেখানে এই রোগে আশি শতাংশ মৃত্যু ঘটে থাকে।সাব-সাহারা এলাকায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো হচ্ছে নাইজেরিয়া এবং কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র – আর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় হচ্ছে ভারত।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন