১৭:২২:৪২

বিশ্বে পর্যটকসংখ্যা শতকোটি ছাড়ালো

শুনুন /

জাতিসংঘের পর্য্যটনবিষয়ক সংস্থা , ওয়ার্ল্ড ট্যুরিজম অর্গানাইজেশন – ইউ এন ডাব্লু টি ও জানিয়েছে যে তেরোই ডিসেম্বর বিশ্বের শতকোটিতম পর্য্যটক সীমান্ত অতিক্রম করেছেন।

ইউ এন ডাব্লু টি ওর মার্সেলো রিসি বলছেন যে বেড়ানো পছন্দ করেন সবাই ।

জাতিসংঘ রেডিওর জেরি অ্যাডামসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন ভ্রমণের আর্থ-সামাজিক প্রভাব এতোটাই ব্যাপক যে এটি এখন জাতিসংঘ কার্য্যক্রমের একটি অংশ হিসাবে গৃহীত হয়েছে।

মি রিসি বলছিলেন যে অর্থনৈতিক বিশ্বায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের অন্যতম একটি স্মারক হচ্ছে এই পর্যটন এবং এটি একটি প্রবণতা হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে গত পঁচিশ থেকে ত্রিশ বছরে।জাতিসংঘের অধীনে বিশ্ব পর্য্যটন সংস্থার অভ্যূদয় তাই কোন কাকতালীয় ঘটনা নয়।

বৈশ্বিক মন্দা সত্ত্বেও ২০১২ সালে পর্য্যটন খাতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত ছিলো বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রগতিতে নারীরা সমভাবে লাভবান হয় নি: জাতিসংঘ

অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনায় উন্নয়নে নারীদের কেন্দ্রীয় ভূমিকা বিষয়ে দুদিনের এক বৈঠক শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক এন্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স – ডেসা , জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা – ইউ এন উইমেন এবং অষ্ট্রীয় সরকার যৌথভাবে এই বৈঠক আয়োজন করেছে।

জাতীয় এবং স্থানীয় সরকারগুলো , নারী সংগঠন এবং বেসরকারী খাতের প্রতিনিধিরা এই সভায় অংশ নিচ্ছেন।

সভায় নারীদের বিরুদ্ধে বৈষম্য দূর করা এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে নীতিমালা তৈরির লক্ষ্যে সুপারিশমালা প্রণয়ণের কথা রয়েছে।

ডেসার প্রধান উ হংবো জাতিসংঘ রেডিওকে বলেন যে গত দশকে আমরা অনেক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দেখেছি কিন্তু তাতে এপর্য্যন্ত ঐ উন্নয়ন থেকে নারীরা সমভাবে উপকৃত হয় নি।কিছু কিছু দেশে কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা দেখেছি যে নারী, কিশোরী এবং মেয়ে শিশুরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।শিক্ষা ,কাজ এবং অর্থনৈতিক সম্পদের ক্ষেত্রে তাদের সমান সুবিধা নেই।

মি উ বলেন জাতীয় এবং স্থানীয় সরকার পর্য্যায়ে সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ মোটেও পর্যাপ্ত নয়।

বিশ্বব্যাপী নারীদের ওপর বেকারত্বের চাপ বাড়ছে: আই এল ও

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও মঙ্গলবার প্রকাশিত সাম্প্রতিকতম এক রিপোর্টে বলছে যে বিশ্বব্যাপী পুরুষদের চেয়ে নারীদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশী।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা – ইউ এন উইমেন এর সাথে যৌথভাবে প্রস্তুত করা এই রিপোর্টে বলা হয়েছে আগামী বছরগুলোতে এই পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন ঘটবে বলে মনে হয় না।

আই এল ও'র নির্বাহী পরিচালক , জোসে ম্যানুয়েল সালাজার বলেন যে ২০০২ থেকে ২০০৭ পর্য্যন্ত পাঁচবছরে নারীদের বেকারত্বের হার ছিলো পাঁচ দশমিক আট শতাংশ। আর এই একইসময়ে পুরূষদের মধ্যে বেকারত্বের হার ছিলো পাঁচ দশমিক তিন শতাংশ। বেকারত্বে নারী ও পুরূষের মধ্যে ব্যবধান ছিলো শূণ্য দশমিক পাঁচ শতাংশ।

মি সালাজার জানান যে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটে এই ব্যবধান বেড়ে হয়েছে শূণ্য দশমিক সাত শতাংশ। এর ফলে আনুমানিক প্রায় এক কোটি ত্রিশ লক্ষ মহিলা চাকরীহারা হয়েছেন।

প্রতিবেদনে প্রত্যেকটি দেশের জন্য আলাদা নীতিমালা তৈরীর আহ্বান জানানো হয় – কেননা অন্যান্য বিষয়গুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণে নারী ও পুরূষের মধ্যে এই বৈষম্য তৈরী হয়।

নারীদের ওপর এইডসের প্রভাব বেশি : ইউএনএইডস

'উইমেন আউট লাউড' শীর্ষক এক রিপোর্টে নারীদের ওপর এইচ আই ভি'র প্রভাব এবং আক্রান্ত মহিলারা এইডসের বিস্তাররোধে কী ভূমিকা রাখতে পারেন সেবিষয়টি বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ইউ এন এইডস কতৃক প্রকাশিত এই রিপোর্টে সবর্সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত এবং বিশেষজ্ঞদের মতামত তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মিশেল সিডিবে বলেন এইচআইভির সংক্রমণ শূণ্যে নামিয়ে আনা, বৈষম্য দূর করা এবং এইডসজনিত মৃত্যুর হার শূণ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্যে নারী ও মেয়েদের জন্য জোরালো পদক্ষেপ প্রয়োজন।

এইচআইভি এখনও নারীদের জীবনে বৈষম্যমূলক মাত্রায় প্রভাব ফেলছে এবং সন্তান জন্মদানে সক্ষম নারীদের মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে রয়েছে। পনেরো থেকে চব্বিশ বছর বয়েসী মেয়েদের মধ্যে এই সংক্রমণের হার সমবয়সী পুরুষদের দ্বিগুণ।

সাংস্কৃতিক সম্পদের পাচার বন্ধে প্রস্তাব

সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ পাচার বন্ধে বৈশ্বিক উদ্যোগ সত্ত্বেও তা কীভাবে অব্যাহত আছে বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে কূটনীতিকরা তার বিবরণ শুনেছেন।

যেই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পদ সেই দেশে ফেরৎ দেওয়া বা তার পুনরুজ্জীবনের বিষয়ে একটি খসড়া প্রস্তাব পরিষদে উত্থাপন করে গ্রীক রাষ্ট্রদূত অ্যানাসটাসিস মিটসিয়ালিস উল্লেখ করেন যে এসব সম্পদ পাচারের ঝুঁকি সংকট এবং সংঘাতের সময় বাড়ে সবচেয়ে বেশী।

যেহেতু সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য একটি দেশের মূল্যবোধ, ঐতিহ্য এবং বিশ্ববোধের প্রতিনিধিত্ব করে সেহেতু তিনি তাকে দেশটির ইতিহাসের প্রতিবিম্ব হিসাবে বর্ণনা করেন।

অ্যানাসটাসিস মিটসিয়ালিস বলেন যে সেটা তাঞ্জানিয়ার ম্যাকোন্ডে মুখোশই হোক অথবা ইটালীর এট্রুস্কান ভাস কিম্বা গ্রীসের পার্থেনন ফ্রিজ – এগুলোর সবই একটি জাতির কালের যাত্রার সাক্ষী। কিন্তু. এগুলো যাতে তাদের শৈল্পিক, নান্দনিক এবং সামাজিক ভূমিকা যাতে অব্যাহত রাখতে পারে সেজন্যে এগুলোকে কেন্দ্র করে বেআইনী কার্য্যকলাপ এবং তার অবৈধ ব্যবহার বন্ধ করা এবং সেগুলোকে তার আদিস্থানে ফিরিয়ে দেওয়া এবং পুনরুজ্জীবনের ব্যবস্থা অবশ্যই প্রয়োজন। তানাহলে তারা মানবতার সমন্বিত চেতনাকে আর উদ্বুদ্ধ করতে পারবে না।

প্রস্তাবটিতে বৈশ্বিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যমন্ডিত সম্পদের ওপর সাম্প্রতিক হামলারও নিন্দা করা হয়।

বৈদেশিক ঋণ বিশেষজ্ঞের হুঁশিয়ারী

জাতিসংঘের বৈদেশিক ঋণ এবং মানবাধিকার বিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ বিপদাপণ্ন কোম্পানী কিম্বা ব্যাপকভাবে ঋণগ্রস্ত দেশের বকেয়া দেনা ক্রয়কারী তথাকথিত 'ভালচার ফান্ড' এর কঠোর সমালোচনা করেছেন।

কেফাস লুমিনা বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ভালচার ফান্ডের কার্য্যক্রম ব্যাখ্যা করে বলেন যে এসব কোম্পানী সেকেন্ডারি বাজার থেকে প্রকৃত ঋণ দায় যতোটা তার চেয়ে কমমূল্যে ঋণপত্র কিনে নেয়। তারপর তারা ঋণপত্রের পূর্ণমূল্য , তার সাথে সুদ, জরিমানা এবং আইনগত ব্যবস্থার খরচ ইত্যাদি দাবি করে এবং তারা ঐসব কোম্পানী বা দেশের সম্পদ ক্রোকেরও উদ্যোগ নেয়।

মি লুমিনা যুক্তরাজ্য এবং চ্যানেল আইল্যান্ডসের মধ্যে জার্সির দৃষ্টান্ত অনুসরণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান যেখানে কথিত ভালচার ফান্ডগুলোর আদালতের মাধ্যমে বাড়তি অর্থ আদায়ের পদক্ষেপগ্রহণ আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ হয়েছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন