১৪:১৬:১৬

বিপজ্জনক হারে উষ্ণায়নের ঝুঁকি এড়ানোর সময় ফুরিয়ে আসছে: বান

শুনুন /

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন ২০১৫ সালের মধ্যে জলবায়ূ পরিবর্তন বিষয়ে একটি সার্বজনীন চুক্তিতে উপনীত হওয়ার উদ্দেশ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জনযোগ্য লক্ষ্যের প্রতি মনোযোগী হওয়ার জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

দোহায় মি বান বলেন যে এসব অর্জনযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ এবং ক্ষতিকর গ্যাসগুলোর অবস্থান কমানোর লক্ষ্যে ১৯৯৭ তে গৃহীত কিয়োটো চুক্তির দ্বিতীয় মেয়াদ ঠিক করায় সমঝোতায় পৌছানো এবং তার প্রতি অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়া।

মি বান বলেন যে দ্বিতীয়টি হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে কার্য্যক্রমের সরকারী এবং বেসরকারী উৎস থেকে দীর্ঘমেয়াদী অর্থায়ন – ২০২০ সাল নাগাদ বছরে দশ হাজার কোটি ডলারের সংস্থান করা। তৃতীয়ত, সবুজ পরিবেশ তহবিল এবং ক্লাইমেট টেকনোলজি সেন্টার এন্ড নেটওয়ার্ককে পূর্ণরুপে গড়ে তোলা। চতূর্থতঃ ২০১৫ সালের মধ্যে একটি বৈশ্বিক এবং আইনগতভাবে প্রতিপালনযোগ্য সনদের বিষয়ে আলোচনা যে ঠিকভাবে এগুচ্ছে তার প্রতিফলন ঘটানো।এবং পঞ্চমত: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুপ প্রভাব মোকাবেলার প্রক্রিয়া এবং উষ্ণায়নের মাত্রা দুই ডিগ্রিতে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের মধ্যে সামঞ্জস্য আনা।

বিপজ্জনক মাত্রায় উষ্ণায়নের বিপদ এড়ানোর সুযোগ নেওয়ার সময় ফুরিয়ে আসছে বলেও মি বান হুঁশিয়ারী দেন।

দূর্যোগ প্রস্তুতিতে বাংলাদেশের প্রশংসা

জাতিসংঘের জরুরী ত্রাণ কার্য্যক্রমের সমন্বয়কারী ভ্যালেরি অ্যামোস বলেছেন যে বাংলাদেশে গত কুড়ি বছরে আনুমানিক সাড়ে তেরো কোটি লোক দূর্যোগের শিকার হয়েছেন, কিন্তু, সরকার স্থানীয় পর্যায়ে জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিনিয়োগের মাধ্যমে চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করে চলেছে এবং অন্যান্য দেশ বাংলাদেশ থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

বাংলাদেশে দূর্যোগ প্রস্তুতির বিষয়ে আলোচনা এবং প্রস্তুতিমূলক কার্য্যক্রমগুলোর ক্ষেত্রে সরকার কিভাবে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করেছেন তা জানার জন্য মিস অ্যামোস বাংলাদেশ সফর করেন।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে একটি ঘূর্ণিঝড়ে যেখানে এক লাখ চল্লিশ হাজারেরও বেশী লোকের মৃত্যু হয়েছিলো সেখানে বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপের মাধ্যমে দূর্যোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমাতে সক্ষম হওয়ায় বাংলাদেশকে দূর্যোগ প্রস্তুতির ক্ষেত্রে বৈশ্বিক পর্য্যায়ে প্রশংসা করা হয়ে থাকে। ২০০৭ সালে যখন একইরকম আরেকটি ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশে আঘাত হানে তখন স্বেচ্ছাসেবকরা হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ এলাকায় সরিয়ে নেওয়ায় অসংখ্য জীবন রক্ষা পায়। ঐ দূর্যোগে চার হাজার লোকের প্রাণহানি ঘটে।

মিস অ্যামোস বলেন যে প্রস্তুতির মাধ্যমে কীভাবে জীবনরক্ষা করা যায় এটা হোল তার সবচেয়ে শক্তিশালী দৃষ্টান্ত।

বাংলাদেশের পঁচিশ হাজার স্বেচ্ছাসেবকের প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে এই প্রস্তুতি যে ব্যয়বহুল হতে হবে এমন কোন কথা নেই।

মানবাধিকারের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই দায়িত্বশীল ব্যবসার নিদর্শন

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার নাভি পিল্লাই বলেছেন যে অধিকতর রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবির পাশাপাশি আসে ব্যবসা ও বেসরকারী খাতসহ সবার ওপর আইনের প্রয়োগের দাবি।

জেনিভায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত ফোরাম অন বিজনেস এন্ড হিউম্যান রাইটসের শুরুতে মিস পিল্লাই বলেন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন অনুযায়ী ব্যবসা বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোসহ কোন তৃতীয় পক্ষ দ্বারা নাগরিকদের মানবাধিকার যাতে নিগৃহীত হতে না পারে সেজন্যে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সরকারের।:

মিস পিল্লাই বলেন যে মানুষ মুক্তি চায় – আতঙ্ক থেকে মুক্তি চায়, অভাব থেকে মুক্তি চায়। আর এগুলোর জন্য প্রাথমিক দায়িত্ব হচ্ছে তাঁদের, যাঁরা ক্ষমতার অধিকারী।

মিস পিল্লাই বলেন যে তাঁদের দাবি আইনের শাসন যেন অর্থনৈতিক অঙ্গনসহ সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় , আমাদের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য যেন তাঁদের মর্য্যাদার দাবি। দায়িত্বশীল ব্যবসার অর্থ হচ্ছে মানবাধিকারের প্রতি মর্য্যাদা দেখিয়ে কাজ করা যাতে ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যের সাথে সমাজের কল্যাণের বিষয়টি যুক্ত থাকে।

মিস পিল্লাই বলেন যে বাজারকেও আইনের শাসনের আওতাধীন হতে হবে এবং বড়দাগে যেসব মূল্যবোধ তাতে প্রোথিত থাকা দরকার তার মধ্যে সবার ওপরে থাকবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার। এগুলো কোন সরকারের নতুন গৃহীত আইনগত বাধ্যবাধকতার বিষয় নয় – এগুলো বহুযুগ ধরেই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিধিমালায় অন্তর্ভুক্ত আছে।

ব্যবসায়িক কার্য্যক্রঁমে মানবাধিকারের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাবের ঝুঁকি মোকাবেলায় বৈশ্বিক মান নির্দেশ করে এরকম আন্তর্জাতিকভাবে সম্মত নীতিমালার আলোকে ব্যবসা ও মানবাধিকারের দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে সহায়তার লক্ষ্যেই এই ফোরাম আয়োজিত হয়।

স্বেচ্ছাসেবকদের ভূমিকার প্রশংসা

যে লাখ লাখ স্বেচ্ছাসেবক সাহায্যের জন্য অপেক্ষমান মানুষদের জন্য এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করছেন তাঁদেরকে স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে পাঁচই ডিসেম্বর পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস।

দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন তাঁর বার্তায় বলেন যেখানেই সাহায্যের জন্য কষ্টপীড়িত মানুষ অপেক্ষমান – যুদ্ধক্ষেত্র এবং ক্লাসরুম, হাসপাতাল এবং গৃহ – সবজায়গাতেই আছেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

মি বান বলেন তিনি জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবকদের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ যাঁরা সংঘাত ঠেকাতে কাজ করছেন, যুদ্ধ পরবর্তী সমাজ পুর্নগঠন ও টেকসই উন্নয়ন এবং অন্যান্য সংকটময় পরিস্থিতিতে সাহায্য করছেন।

জাতিসংঘ স্বেচ্ছাসেবকদের সংস্থা ইউ এন ভি এর মুখপাত্র জেনিফার ষ্ট্যাপার বলেন যে জাতিসংঘের উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে এবং শান্তিরক্ষা মিশনে প্রতিবছর সাড়ে সাত হাজারেরও বেশী নারী ও পুরুষ তাঁদের সময় এবং বিশেষজ্ঞসেবা দিয়ে থাকেন। বিশ্বের একশো ত্রিশটি দেশে তাঁরা কাজ করছেন এবং তাঁদের অধিকাংশই এসেছেন উন্নয়নশীল দেশ থেকে। ইউ এন ভি মাঠপর্য্যায়ে স্বেচ্ছাসেবকদের সহায়তা দেয় এবং সবজায়গায় তাদেরকে স্বীকৃতি দেবার জন্য আহ্বান জানায়।

মহাসচিব বান বলেন যে স্বেচ্ছাসেবার এই কালোত্তীর্ণ ভূমিকা আজকের ডিজিটাল যুগে নতুন মাত্রা পেয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগ কিম্বা একটা মোবাইল ফোন থাকলে যেকেউই এক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারেন।

রাখাইনের পরিস্থিতি ভয়াবহ: ভ্যালেরি অ্যামোস

জাতিসংঘের মানবিক কার্য্যক্রমের প্রধান মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে বাস্তুচ্যূত জনগোষ্ঠীর অবস্থাকে 'ভয়াবহ' হিসাবে বর্ণনা করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

জাতিসংঘের জরুরী ত্রাণ কার্য্যক্রমের সমন্বয়কারী ভ্যালেরি অ্যামোস বলেছেন যে তিনি নিম্নমানের আশ্রয়শিবির – যেখানে পয়ঃব্যবস্থা ভালো নয় সেরকম কেন্দ্রে ঠাসাঠাসি করে হাজার হাজার লোককে থাকতে দেখেছেন – যাদের কোন কাজ নেই, শিশুদের স্কুল নেই এবং তারা নিষেধাজ্ঞার কারণে শিবিরের বাইরে বেরুতে পারেনা।

সহকারী মহাসচিব অ্যামোস একজন উর্ধ্বতন সরকারী কর্মকর্তাকে সাথে নিয়ে সীমান্ত এলাকা সফর করেন যেখানে শিবিরগুলোতে সত্তুর হাজারেরও বেশী লোক আশ্রয় নিয়েছেন। সেখানে সরকার এবং জাতিসংঘ সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।

মিস অ্যামোস বলেন যে জনগোষ্ঠীগুলোর মধ্যে এখনও উত্তেজনা চরমে রয়েছে। তিনি সম্প্রদায়গুলোকে আলাদা করে রাখার জন্য সব জায়গায় বিপুল সংখ্যায় সেনা মোতায়েন থাকতে দেখে মর্মাহত হন।

তিনি বলেন যে এখানে জরুরীভিত্তিতে আপোষরফা প্রয়োজন।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন