১৮:৫৩:৪২

দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেছে : বান

শুনুন /

পঁয়ষট্টি বছর আগে যে ভূখন্ডকে দুটি রাষ্ট্রে বিভক্ত করার প্রস্তাবটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়েছিলো সেই দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের স্বপ্ন দূঃখজনকভাবে অপূর্ণই রয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। ২৯ শে নভেম্বর ফিলিস্তিনী জনগণের সাথে সংহতি ঘোষণার আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে মি বান এই মন্তব্য করেন।

মহাসচিব যে বিষয়টির ওপর গুরুত্ব দেন তাহোল মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তন ঘটছে এবং তা ঘটছে দ্রুতগতিতে। তিনি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেন যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং ইজরায়েল ও ফিলিস্তিনীদের জন্য শান্তির লক্ষ্যে তৎপরতা জোরদার করা এখন আরো জরুরি হয়ে পড়েছে।

মি বান বলেন যে এখন যা প্রয়োজন তাহোল রাজনৈতিক আকাঙ্খা এবং সাহস। নেতাদেরকে অবশ্যই ঐতিহাসিক দায়িত্ব এবং স্বপ্নের চেতনার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।

মি বান বলেন যে ইজরায়েলী এবং ফিলিস্তিনীদেরকে কিছুই না ছাড়ার মানসিকতা ত্যাগ করে শান্তির পথে অগ্রসর হতে হবে।

মি বান বলেন যে এটাই উভয় অংশের জনগণের জন্য সবচেয়ে বড় আশা জাগানোর পথ।

মহাসচিব বান বলেন যে দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান এবং অর্থপূর্ণ আলোচনা শুরুর জন্য পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে অনেক কাজ এখনও বাকী।

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে চলতি বছরেও রেকর্ড : ডাব্লু এম ও

আর্কটিক সাগরের বরফ দ্রুত গলে যাওয়া এবং বিশ্বের সর্বত্র ঘটতে থাকা আবহাওয়ার বহুমুখী চরম আচরণ যে বাস্তবতার দিকে নির্দেশ করে তাহোল 'আমাদের চোখের সামনেই আবহাওয়ার পরিবর্তন ঘটছে'। বৈশ্বিক

আবহাওয়ার উপর সর্বসাম্প্রতিক বিবৃতিতে বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা , ডাব্লু এম ও একথা বলেছে।

সংস্থা বলছে বৈশ্বিক তাপমাত্রার উর্ধ্বমুখীপ্রবণতা অব্যাহত রয়েছে এবং ২০১২'র প্রথম দশমাসে এই বৃদ্ধির পরিমাণ ১৮৫০ সালে রেকর্ড রাখার সময় থেকে নবম উষ্ণতম সময়ের রেকর্ড ।

ডাব্লু এম ও বলছে চলতি বছরের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে আর্কটিক সাগরে এক কোটি বিশ লাখ বর্গকিলোমিটার এলাকার সমপরিমাণ বরফ গলে সাগরের পানিতে রুপান্তরিত হয়েছে। ডাব্লু এম ওর প্রধান মিশেল যারু বলেন যে এটা হচ্ছে বৈশ্বিক আবহাওয়া পরিবর্তনের সুদূরপ্রসারী প্রভাবের ইঙ্গিত।

মিশেল যারু বলেন যে এবছরের শুরুটা হয়েছে লা নিনা দিয়ে যা প্রথম চারমাস স্থায়ী হয়ে পরে অদৃশ্য হয়েছে। তাসত্ত্বেও আমরা দশম উষ্ণতম সময়ের মধ্যে রয়েছি। আর্কটিক সাগরের বরফ গলার পরিমাণ এবার আগের বছরের চেয়ে অনেক বেশী। সুতরাং, এটা একটা তাৎপর্য্যপূর্ণ বিষয়। এবং এর প্রভাব ভবিষ্যতে দেখা যাবে, কেননা এবছরের শীতকালে বরফ আবার জমবে, কিন্তু, তা হবে তাজা বরফ। সুতরাং, এই বরফ ভবিষ্যতে দ্রুত গলে যাবার ঝুঁকি থাকবে।সুতরাং, এখানে নিশ্চিতভাবে যে বার্তা মিলছে তাহোল আর্কটিকে বরফ গলার ক্ষেত্রে এই ধারা যে শুধু অব্যাহত থাকবে তা নয় বরং তা গতি পাবে – কেননা এটি বৈশ্বিক তাপমাত্রার সাথে সম্পর্কিত।

দেশে টাকা পাঠাতে প্রবাসীদের খরচ অনেক বেশী : আঙ্কটাড

স্বল্পোন্নত দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসী শ্রমিকরা স্বদেশে যে টাকা পাঠান তার একটা বড় অংশ প্রশাসনিক খাতে খরচ হয়ে যায় বলে জলছে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা, আঙ্কটাড এর একটি রিপোর্ট ।

রিপোর্টে বলা হয় যে আফ্রিকার কোন দেশে টাকা পাঠানোর খরচ বৈশ্বিক গড়ের তিনগুণ। আঙ্কটাড বলছে যে এই প্রশাসনিক খরচ যদি বৈশ্বিক গড়ের পর্য্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হোত তাহলে ২০১০ সালে সাব-সাহারান আফ্রিকায় আরো ছশো কোটি ডলার বাড়তি অর্থ যেতো।

আঙ্কটাড বলছে যে আন্তর্জাতিক পরিসরে অর্থ লেনদেনে কয়েকটি কোম্পানীর একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণের কারনে এই সেবাখাতে খরচ এতো বেশী হচ্ছে।

আঙ্কটাডের মহাসচিব, সুপাচাই পানিৎচপাকদি বলছেন যে অন্তত ৪৮টি স্বল্পোন্নত দেশের ব্যাংকিং এবং আর্থিক সেবাখাতের উন্নয়ন প্রয়োজন যাতে করে প্রবাসীরা উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে বিনিয়োগ করতে পারে।

মি পানিৎচপাকদি বলেন যে আমাদের সুপারিশ হচ্ছে আরো বেশী সংখ্যায় আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা যার মধ্যে ক্ষুদ্রঋণ দাতা প্রতিষ্ঠান, ক্রেডিট ইউনিয়ন এবং ডাকঘরগুলোও থাকবে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ডাকবিভাগের ব্যাপকভিত্তিক নেটওয়ার্ক থাকায় প্রবাসীদের জন্য সরাসরি পরিবারের কাছে টাকা পাঠানো সহজ হবে। মি পানিৎচপাকদি বলেন যে প্রবাসীদের টাকা যেমন পরিবারগুলোর আয়ে সাহায্য করে ঠিক তেমনি তা থেকে দারিদ্রদূরীকরণ এবং শিল্পখাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনাও এই রিপোর্টে খতিয়ে দেখা হয়েছে ।

২০১১ সালে স্বল্পোন্নত দেশগুলো প্রবাসীদের কাছ থেকে সাতাশশো কোটি ডলার পেয়েছে। আঙ্কটাড বলছে যে মধ্যবর্তী মেয়াদে প্রবাসীদের কাছ থেকে তাদের স্বদেশে টাকা পাঠানোর পরিমাণ আরো বাড়বে।

শিশুদের মধ্যে এইডস সংক্রমণ কমছে: ইউনিসেফ

জাতিসংঘের শিশু তহবিল , ইউনিসেফ জানিয়েছে যে শিশুদের মধ্যে এইচ আই ভির সংক্রমণ কমলেও এইডসমুক্ত প্রজন্ম অর্জনের লক্ষ্যে আরো বেশী করে গর্ভবতী নারী এবং এইডস-আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দেওয়া প্রয়োজন।

ইউনিসেফ বলছে যে প্রশংসনীয় বৈশ্বিক অঙ্গীকারের কারণে শিশুদের মধ্যে নতুন করে এইচ আই ভির সংক্রমণ কমেছে চব্বিশ শতাংশ। ২০০৯ সালে যে সংখ্রা ছিলো চার লাখ ত্রিশ হাজার ২০১১ তে তা কমে হয়েছে তিন লাখ ত্রিশ হাজার।

সংস্থা জানায় ২০১১'র ডিসেম্বরের হিসাব অনুযায়ী আগের বছরটির তুলনায় আরো এক লাখ বেশী শিশু এইডসের জন্য এন্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা পাচ্ছে। তবে, প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই চিকিৎসাপ্রাপ্তির হার গড়ে ৫৪ শতাংশ হলেও গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের মধ্যে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ এই সেবা পাচ্ছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক এন্থনি লেক বলেছেন যে শিশুদের চেয়ে প্রাপ্তবয়স্করা দ্বিগুণসংখ্যায় এই চিকিৎসা পাবে এমনব্যবস্থা ঠিক নয়।

তিনি বলেন এইডসমুক্ত প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে শিশু এবং সবচেয়ে ঝুঁকির মুখে যারা তাদেরকে রক্ষা করতে হবে।

রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক সনদে যোগদানের আহ্বান

যেসব দেশের সরকার এখনো রাসায়নিক অস্ত্র বিষয়ক সনদে স্বাক্ষর করেনি তাদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে রাসায়নিক অস্ত্রমুক্ত বিশ্ব প্রতিষ্ঠায় এই চুক্তির সার্বজনীন রুপ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এবং রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থার মহাপরিচালক আহমেৎ উযুমচুর যৌথভাবে পাঠানো এই চিঠিতে 'আর বিলম্ব ' না করে এই চুক্তিতে সই করার জন্য সনদের বাইরে থাকা আটটি দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

জাতিসংঘের সহকারী মুখপাত্র, এডোয়ার্ডো ডা বুই এই তথ্য জানিয়ে বলেন যে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে ১৮৮টি দেশ এবং শুধু অ্যাঙ্গোলা, মিশর, ইজরায়েল, মায়ানমার, উত্তর কোরিয়া, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং সিরিয়া এখনও এই চুক্তির বাইরে রয়েছে।

চিঠিতে বলা হয় যে রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সনদে অংশগ্রহণের সংখ্যা বাড়ার মাধ্যমে এটা স্পষ্ট যে রাসায়নিক অস্ত্র গবেষণা, উৎপাদন, মজুত এবং এর ব্যবহার বন্ধের বিষয়টি একটি সার্বজনীন বিধানের অংশ। এই চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সরকারগুলোকে আইনগতভাবে পালনীয় অঙ্গীকারের আহ্বান জানানো হয় যাতে করে এই অস্ত্রবিষয়ক বিধিগুলো প্রতিপালিত হয় এবং এই অস্ত্র আর কখনো ব্যবহার করা না হয়।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন