১৪:০৩:৪১

গাযা সহিংসতায় ২৬ শিশু নিহত, আহত ৪০০ : জাতিসংঘ

শুনুন /

শিশু অধিকার বিষয়ক জাতিসংঘ কমিটি বলছে যে হামাস এবং ইজরায়েলের মধ্যেকার সাম্প্রতিক সংঘাত ঐ অঞ্চলের শিশুদের ওপর দীর্ঘস্থায়ী এবং ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।

বুধবার উভয়পক্ষের যুদ্ধবিরতি ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়ে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের এই গ্রুপ শিশু – কিশোরদের মধ্যে এসব মৃত্যু, জখম এবং আতঙ্কের প্রভাব সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

কমিটি জানায় এই সহিংসতায় গাযায় অন্তত ছাব্বিশটি শিশু নিহত হয়েছে এবং চারশোরও বেশী শিশু আহত হয়েছে। আর হামাসের গোলাবর্ষণে ইজরায়েলে আহত হয়েছে চৌদ্দটি শিশু।

কমিটি বলছে যে গত সপ্তাহ জুড়ে হাজার হাজার ফিলিস্তিনী এবং ইজরায়েলী শিশু রকেট নিক্ষেপ বা বিমান হামলা এবং গোলাবর্ষণের আতঙ্ককর পরিস্থিতিতে দিন কাটিয়েছে।

কমিটি বলছে যে সশস্ত্র সংঘাতের মধ্যেও পুরোটা সময় শিশু অধিকার সনদসহ মানবাধিকারের আইন কার্য্যকর থাকে।

গাযার উন্নয়নে সহায়তার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের আহ্বান

নিরাপত্তা পরিষদ মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সবপক্ষগুলোকে চুক্তি মেনে চলা এবং তার শর্তগুলো আন্তরিকতার সাথে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে।

বুধবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে শান্তি জোরদার করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক উদ্যোগের প্রতিও পরিষদের সদস্যরা তাদের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা ঘোষণা করেন।

নভেম্বর মাসে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন ভারতীয় রাষ্ট্রদূত হরদ্বীপ সিং পুরি।

মি পুরি বলেন যে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে ইজরায়েল এবং গাযায় বসবাসরত ফিলিস্তিনীদের নির্ভয়ে জীবনযাপনের অধিকার রয়েছে।

মি পুরি বলেন যে গাযা ভূখন্ডের জনগণের জীবনযাত্রার অবস্থার উন্নয়নে উপযুক্ত এবং প্রতিষ্ঠিত চ্যানেলে সাহায্য করার জন্য তাঁরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছেন।এক্ষেত্রে জরুরী ত্রাণসামগ্রী যেমন খাদ্য, জ্বালানী এবং চিকিৎসা সামগ্রী নির্বিঘ্নে এবং দ্রুত সরবরাহের জন্য ইজরায়েল, ফিলিস্তিনী কতৃপক্ষ এবং মিশরের সাথে কাজ করার জন্যও তাঁরা আহ্বান জানাচ্ছেন।

যুদ্ধবিরতি অর্জনের জন্য নিরাপত্তা পরিষদ একইসাথে মিশরের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুরসি এবং মহাসচিব বান কি মুনকে ধন্যবাদ জানান।

বায়ূমন্ডলে ক্ষতিকর গ্যাস রেকর্ড সর্ব্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা, ডাব্লু এম ও বলছে যে বায়ূমন্ডলে ক্ষতিকর গ্যাসের পরিমাণ ২০১১ সালে রেকর্ড সর্ব্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছে।

সংস্থা বলছে যে কার্বন ডাই অক্সাইড এবং অন্যন্য তাপবাহী দীর্ঘস্থায়ী গ্যাসের কারণে ১৯৯০ থেকে ২০১১ সাল পর্য্যন্ত বিকিরণের মাত্রা বেড়েছে প্রায় ত্রিশ শতাংশ যার ফলে আবহাওয়ায় উষ্ণায়ন বেড়েছে।

ডাব্লু এম ও'র মহাসচিব মিশেল যারু মঙ্গলবার জেনিভায় এই তথ্য প্রকাশ করেন।
মিশেল যারু বলেন যে যেকথাটি আপনাদের মনে রাখতে হবে তাহোল এসব গ্যাসের কিছুকিছু – বিশেষ করে সিওটু একবার নির্গত হলে তা বায়ূমন্ডলে অনেক অনেক দিন – এমনকী শতাব্দীরও বেশী সময় ধরে টিকে থাকে। সুতরাং, আপনি যদি আগামীকালই নতুন নিঃসরণ বন্ধ করতে সক্ষম হন তাহলেও বায়ূমন্ডলে ইতোমধ্যে জমে থাকা এসব ক্ষতিকর গ্যাসের প্রভাব শত শত বছর ধরে বহাল থাকবে।

মিশেল যারু বলেন যে এসব গ্যাসের ভবিষ্যত নিঃসরণ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলবে।

সাংবাদিকদের নিরাপত্তায় জাতিসংঘের কর্মপরিকল্পনা

সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়ে জাতিসংঘের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কৌশল নির্ধারণের লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার ভিয়েনায় দুদিনের এক সভা শুরু হয়েছে।

জাতিসংঘের কয়েকটি সংস্থা একযোগে এই বৈঠকের আয়োজন করেছে।

এসব সংস্থা জানায় যে গত এক দশকে ছ'শোরও বেশী সাংবাদিক, ব্লগার এবং গণমাধ্যমকর্মী দায়িত্ব পালনকালে নিহত হয়েছেন।

জাতিসংঘের এই কর্মপরিকল্পনা চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অনুমোদিত হয়।

এই পরিকল্পনা প্রথমে বাস্তবায়ন করা হবে ইরাক, নেপাল, পাকিস্তান এবং দক্ষিণ সুদানে।

বৈশ্বিক উষ্ণতা এই শতকে চার ডিগ্রি বাড়ার আশঙ্কা

'তাপ কমাও' শীর্ষক এক প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক বলেছে যে আবহাওয়ার পরিবর্তনের কারণে যে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে তার প্রভাব কমিয়ে আনার সময় ফুরিয়ে আসছে।

বিশ্ব ব্যাংকের পটসড্যাম ইনষ্টিটিউট ফর ক্লাইমেট রিসার্চ এন্ড ক্লাইমেট অ্যানালিটিক্স এর তৈরি এই প্রতিবেদনে বলা হয় যে জলবায়ূ পরিবর্তনের বিষয়ে বিশ্ব সম্প্রদায় যদি পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে এই শতাব্দীর শেষে পৃথিবীর তাপমাত্রা চার ডিগ্রি বেড়ে যাবে।

প্রতিবেদনে হুঁশিয়ারী দিয়ে বলা হয় যে চার ডিগ্রি উষ্ণতর পৃথিবীতে চরম তাপপ্রবাহ, ক্ষয়িষ্ণু খাদ্য মজুত, জীববৈচিত্র ও পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা এবং সমুদ্রপৃষ্টের উচ্চতাবৃদ্ধির কারণে জীবননাশের হুমকী বাড়বে।

বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম বলেন যে সবচেয়ে বেশী ক্ষতির মুখে পড়বে দরিদ্রতম দেশগুলোর দরিদ্রতম জনগোষ্ঠী।

মি কিম বলেন যে আমার একটি তিনবছর বয়েসী ছেলে আছে এবং সে যখন আমার বয়সে পৌঁছাবে তখন তাকে হয়তো সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি জগতে বাস করতে হবে, যেখানে আমাদের জনগোষ্ঠীকে খাওয়ানোর মতো যথেষ্ট খাদ্য থাকবে না, যেখানে শহরগুলো পানির নীচে তলিয়ে যাবে এবং সেই দিন বেশী দূরে নয়।

তিনি বলেন যে আমাদেরকে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।

মি কিম বলেন যে এই প্রবণতা কি বিপরীতমুখী করতে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব এবং এখনই তা নিতে হবে।

আফগানিস্তানে মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর হওয়ায় উদ্বেগ

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার, নাভি পিল্লাই আফগানিস্তানে চলতি সপ্তাহে চৌদ্দজনের মৃত্যুদন্ড কার্য্যকর করায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

২০১১'র জুন মানের পর থেকে এটাই দেশটিতে মৃত্যুদন্ড কার্য্যকরের ঘটনা।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে মিস পিল্লাই বলেন যে দেশটির বিচারব্যবস্থায় দূর্বলতার কারণে এঁদের বিচারকাজের বিষয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়।

তিনি বলেন যে জাতিসংঘ আফগান বিচারব্যবস্থার বিষয়ে বার বার তার উদ্বেগের কথা জানিয়ে এসেছে – বিশেষ করে ন্যায়বিচারের আন্তর্জাতিক মান পূরণে ব্যর্থতা এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান উল্লেখ করেন যে চলতি সপ্তাহেই মৃত্যুদন্ড বিলোপের পক্ষে সাধারণ পরিষদে সর্ব্বোচ্চ ১১০ টি দেশ যে ভোট দিয়েছে, আফগানিস্তানের এই পদক্ষেপ তার চরম বিপরীতমুখীনতার বহিঃপ্রকাশ।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন