১৫:০২:৫৭

শ্রীলংকার ব্যর্থতা থেকে জাতিসংঘ শিক্ষা নেবে : বান

শুনুন /

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে ২০০৯ সালে শ্রীলংকা যুদ্ধে তার দায়িত্বপালনে ব্যর্থতার থেকে জাতিসংঘ শিক্ষা নেবে। শ্রীলংকায় জাতিসংঘের ভূমিকার বিষয়ে অভ্যন্তরীণ এক পর্য্যালোচনার সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর বুধবার মি বান তাঁর মুখপাত্রের মাধ্যমে এই মন্তব্য করেন।

২০১০ সালে গঠন করা বিশেষজ্ঞদের আরেকটি দল শ্রীলংকার যুদ্ধের সময় দেশটির উত্তরাঞ্চলে বেসামরিক লোকজন যে পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন তা মোকাবেলায় জাতিসংঘের প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করার পর এই পর্য্যালোচনা প্যানেল গঠন করা হয়।

জাতিসংঘ মুখপাত্র মার্টিন নেসরিকি এই রিপোর্টের বিষয়ে বলেন যে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে জাতিসংঘ ব্যবস্থা – বিশেষ করে সচিবালয় যে ভূমিকা পালন করেছে, দেশটিতে জাসিংঘের যেসব সংস্থা বা কার্য্যক্রম রয়েছে সেগুলোর দায়িত্বে নিয়োজিত দল, নিরাপত্তা পরিষদ এবং মানবাধিকার পরিষদ তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

মি নেসরিকি বলেন যে জাতিসংঘ যাতে এর থেকে উপযুক্ত শিক্ষা গ্রহণ করে এবং বিশ্ববাসী – বিশেষ করে সংঘাতের মধ্যে আটকে পড়া লোকজন যখন এই সংস্থার প্রতি সাহায্যের মুখাপেক্ষী হয় তখন তাদের আস্থা অর্জনে যাতে এই প্রতিষ্ঠান সক্ষম হয় সেজন্যে ব্যবস্থা নিতে মহাসচিব অঙ্গীকারাবদ্ধ।

তিনি জানান যে এবিষয়ে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে পরামর্শের জন্য মহাসচিব একটি উচ্চ-পর্য্যায়ের দল গঠন করবেন।

শান্তিরক্ষায় নিহত ২৯ জনের স্মরণে জাতিসংঘে অনুষ্ঠান

২০১১'র পহেলা নভেম্বর থেকে গত অগাষ্ট পর্য্যন্ত সময়ে জাতিসংঘের হয়ে দায়িত্বপালন করার সময়ে নিহত হয়েছেন যাঁরা, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে জাতিসংঘ গত বুধবার এক স্মরণ অনুষ্ঠান আয়োজন করে।

মহাসচিব বান কি মুন সাধারণ পরিষদ এবং নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতিদের সঙ্গে নিয়ে নিহতদের স্মরণে একটি শিখা চিরন্তন প্রজ্বলন করেন।

মি বান জানান যে চলতি বছরে এগারোটি কর্মস্থলে বেসামরিক, সামরিক এবং পুলিশবাহিনীর সদস্য মিলিয়ে মোট ২৯ জন সহকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে ষোলোটি জাতির সদস্যরা রয়েছেন বলেও তিনি জানান।

মি বান বলেন যে জাতিসংঘ সবদেশের সরকারগুলোর প্রতি জাতিসংঘ কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান।

বিশ্বে ৩৫ কোটি ডায়াবেটিস রোগী

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা , ডাব্লু এইচ ও বলছে যে বিশ্বে বর্তমানে ৩৫ কোটি লোক ডায়াবেটিস রোগের শিকার।

জাতিসংঘের এই স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বছরে ৩৪ লাখ লোক ডায়াবেটিসের কারণে মৃত্যুবরণ করছেন – যাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠই উন্নয়নশীল দেশের বাসিন্দা।

জেনিভায় ডাব্লু এইচ ও'র একজন মুখপাত্র তারিক জাসারেভিচ বলছেন যে এই মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়বে।

তারিক জাসারাভিচ বলেন যে ডাব্লু এইচ ও'র অনুমান ২০৩০ সাল নাগাদ বিশ্বে ডায়াবেটিসজনিত মৃত্যুর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন যে এটা একটা দীর্ঘস্থায়ী রোগ , তবে জীবনযাত্রার রীতি পাল্টিয়ে তার প্রভাব কমানো সম্ভব, যেমন মদ্যপান কমানো, ধূমপান পরিত্যাগ, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং নিয়মিত শারীরিক কার্য্যক্রম পরিচালনা।সমস্যাটির প্রকোপ বাড়ছে এবং সবদেশই সমস্যাটি সম্পর্কে অবহিত।

চার্লস বেষ্ট এর সাথে মিলে ডায়াবেটিস রোগীদের জীবনরক্ষাকারী ওষুধ ইনসুলিন আবিষ্কার করেছিলেন যে ফ্রেডরিক ব্যান্টিং তাঁর জন্মদিন – চৌদ্দই নভেম্বর বিশ্বব্যাপী সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে পালিত হয় বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস।

জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পান না ২২ কোটি নারী

জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল , ইউ এন এফ পি এ তার চলতি বছরের বার্ষিক জনসংখ্যা প্রতিবেদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি নজর দিয়ে বলেছে যে এসব দেশে বাইশ কোটিরও বেশী নারী পরিবার পরিকল্পনায় আগ্রহী হলেও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী তাদের আয়ত্ত্বের বাইরে।

বুধবার প্রকাশিত এই বিশ্ব জনসংখ্যা রিপোর্টের সম্পাদক রিচার্ড কোলোজ বলেন যে শুধুমাত্র উন্নয়নশীল দেশগুলোই নয় , বরং বিশ্বব্যাপী জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বাধা বিদ্যমান।

মি কোলোজ বলেন যে একারণেই ইউ এন এফ পি এ চলতিবছরের প্রতিবেদনে পরিবার পরিকল্পনার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে।

তিনি বলেন যে আরেকটি বড় কারণ হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় – এক্ষেত্রে ইউ এন এফ পি এ'র নেতৃত্বে যুক্তরাজ্যের সরকার এবং বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন জুলাই মাসে এক শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে নজীরবিহীন দুশো ষাট কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে।

মি কোলোজ বলছিলেন যে এই তহবিলের সাহায্যে ২০২০ সাল নাগাদ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে অতিরিক্ত বারো কোটি নারীর কাছে পরিবার পরিকল্পনা গ্রহণের ব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

নিউমোনিয়ায় বছরে তেরো লাখ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে

নিউমোনিয়া চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য এবং প্রতিষেধকের মাধ্যমে এর বিস্তার কমানো সম্ভব হলেও প্রতিবছর এই রোগে তেরো লাখ শিশুর মৃত্যু হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

বারোই নভেম্বর বিশ্ব নিউমোনিয়া দিবসে ইউনিসেফ জানায় হাম এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো রোগগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিষেধক টিকা দেওয়ার মাধ্যমে নিউমোনিয়া থেকে মৃত্যুর হার পঁচিশ শতাংশ কমানো সম্ভব।

ইউনিসেফের মুখপাত্র মারিক্সি মার্কাডো বলেন যে নিউমোনিয়া হচ্ছে এককভাবে সবচেয়ে বড় শিশুমৃত্যুর কারণ। দৈনিক এই রোগে মারা যাচ্ছে চৌত্রিশ'শ শিশু। বছরে এই সংখ্যা তেরো লাখ।তিনি জানান যে এই রোগের সবচেয়ে বড় শিকার দরিদ্ররা এবং নব্বুই শতাংশ মৃত্যুই ঘটে থাকে সাব-সাহারান আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ায়।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন