১৯:৫৬:২০

সাইফ গাদ্দাফির বিচারে আইসিসিকে সহায়তা করছে লিবিয়া

শুনুন /

সাইফ গাদ্দাফির বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে লিবিয়া সহায়তা করছে বলে জানিয়েছেন আদালতের কৌঁশুলী ফাতু বেনসোদা। বুধবার নিরাপত্তা পরিষদকে এবিষয়ে অবহিত করার পর মিস বেনসোদা জাতিসংঘ রেডিওকে একথা জানান।

আইসিসি গতবছর সাইফ আল ইসলাম গাদ্দাফি, তাঁর প্রয়াত পিতা মুয়াম্মার গাদ্দাফি এবং সাবেক গোয়েন্দা প্রধান আব্দুল্লাহ আল সিনুসির বিরুদ্ধে ২০১১ এর ১৫ই ফেব্রুয়ারীর পর থেকে লিবিয়ায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গ্রেপ্তারী পরোয়ানা জারি করেছিলো।

চার দশক ধরে লিবিয়া শাসনের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলন দমনে যে হিংসাত্মক পন্থা অনুসরণ করা হয় এসব অপরাধ সেগুলোর সাথে সম্পর্কিত।

মিস বেনসোদা বলেন যে বিচারের প্রাক্কালে আদালত লিবিয়ায় সাইফ গাদ্দাফির বিচারের বিষয়ে লিবীয় সরকারের কাছে যেসব অনুরোধ করেছে সেসব বিষয়ে দেশটির কতৃপক্ষ আইসিসিকে সহায়তা করছে।

মিস বেনসোদা বলেন যে লিবিয়ার কাছ থেকে এপর্য্যন্ত আমরা ভালোই সহযোগিতা পাচ্ছি। তারা আমাদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। আমরা যেসব তথ্য চেয়েছি তারা সেগুলো দিচ্ছে।তারা আমাদের তদন্তকারীদেরকে মাঠপর্য্যায়ে কাজ করতে দিচ্ছে এবং আমাদের তদন্তে সহায়তার জন্য যা যা প্রয়োজন তার সবই করছে।

মিস বেনসোদা বলেন যে আদালত যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে লিবিয়া এই বিচার অনুষ্ঠানের অবস্থায় নেই এবং সেকারণে তা আইসিসিতে হওয়া উচিৎ তাহলে আমি আশা করছি যে তাঁরা সেই সিদ্ধান্তকে সম্মান করবেন।

মিস বেনসোদা বলেন যে আইসিসি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে রোম সনদের ওপর ভিত্তি করে লিবীয় কতৃপক্ষ তা পরীক্ষা করে দেখছে এবং এর ভিত্তিতেই তারা এই বিচার কোথায় হবে সি সিদ্ধান্ত নেবে।

মায়ানমারের রাখাইনে সহিংসতায় লক্ষাধিক গৃহহারা

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান আন্তসাম্প্রদায়িক সহিংসতায় বান্তুচ্যূত মানুষের সংখ্যা ১১০,০০০ ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবিক কার্য্যক্রম সমন্বয়কারীর দপ্তর ও সি এইচ এ।

অক্টোবরে শুরু হওয়া সহিংসতার কারণে বাস্তুচ্যূত হয়েছেন ৩৫ হাজার মানুষ। অক্টোবরে সহিংসতার মাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার পর নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৮৯ জন এবং ৫৩০০ টি বাড়ী এবং ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করা হয়েছে।

ও সি এইচ এ বলছে যে ঐ রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং আরো বাসিন্দাদের গৃহহারা হওয়ার আশংকা রয়েছে।

ও সি এইচ এ'র মুখপাত্র জেনস লার্ক বলেন যে এসব আশ্রয়হীন লোকজনের জরুরীভিত্তিতে খাদ্য, আশ্রয় এবং স্বাস্থ্যসেবা প্রয়োজন।কিন্তু, নিরাপত্তা সমস্যার কারণে এসব বাস্তুচ্যূত লোকজনের আশ্রয়শিবিরে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে।

জেনস লার্ক বলেন যে পরিস্থিতি খুবই অস্থির এবং উত্তেজনাকর। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার তার সাধ্যমতো চেষ্টা করছে, কিন্তু পরিস্থিতি খুবই নাজুক। জেনস লার্ক বলছিলেন যে প্রাথমিক অনুসন্ধান থেকে আমরা যতোটা জেনেছি তাহোল তাদের প্রয়োজন খাবার, আশ্রয় এবং মৌলিক প্রয়োজনীয় সামগ্রী।

জেনস লার্ক বলেন যে আরো অনেক জায়গায় বাস্তুচ্যূত হওয়ার ঘটনা ঘটছে এবং সেজন্যে আমরা সেসব জায়গায় পূর্ণ প্রবেশাধিকার চাচ্ছি। আমরা পুরো প্রদেশের সব জায়গাতেই যেতে চাই এবং সেজন্যে ঐসব জায়গায় আমাদের নিরাপত্তা প্রয়োজন।

প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে সংঘাত বন্ধের আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন প্রাকৃতিক সম্পদকে কেন্দ্র করে সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন যে এসব সম্পদের সর্ব্বোচ্চ সুফল পেতে এবং শান্তিরক্ষার জন্যেই সবার কাজ করা উচিৎ। যুদ্ধ এবং সশস্ত্র সংঘাতে পরিবেশকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার প্রতিরোধের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে মি বান একথা বলেন।

মি বান জোর দিয়ে বলেন যে যেসব প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল সেগুলোর বেআইনী ব্যবহার যদি সংঘাতের জন্ম দেয় অথবা যুদ্ধের অর্থায়নে সেগুলো ব্যবহার করা হয় তাহলে কখনোই টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

মি বান বলেন যে ১৯৯০ সাল থেকে অন্তত আঠারোটি সহিংস সংঘাতের পিছনে রয়েছে বনের কাঠ, খনিজ পদার্থ, তেল অথবা গ্যাসের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ নিজেদের স্বার্থে ব্যবহারের ঘটনা।

এশিয়ায় দুশো কোটি লোক ম্যালেরিয়ার ঝুঁকিতে

জাতিসংঘের অর্থায়নে পরিচালিত রোল ব্যাক ম্যালেরিয়া পার্টনারশীপ জানিয়েছে যে দুশো কুড়ি কোটি লোক অধ্যূষিত এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলেও ম্যালেরিয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে – যদিও রোগটিকে আফ্রিকার সচরাসচর আফ্রিকার সমস্যা হিসাবে দেখা হয়ে থাকে।

এই অঞ্চলে ম্যালেরিয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশী ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, মায়ানমার এবংপাপুয়া নউ গিনিতে।সংস্থা বলছে যে ২০১০ সালে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় প্রায় ত্রিশ কোটি নতুন ম্যালেরিয়া রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে যাতে মৃত্যু হয়েছে ৪২ হাজার লোকের।

এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় ম্যালেরিয়া নির্মূল করার ক্ষেত্রেসবচেয়ে বড় বাধা হোল নতুন ধরণের ম্যালেরিয়া জীবাণুর আর্বিভাব – যেটিকে আর্টেমেসিনিন প্রতিরোধক ম্যালেরিয়া জীবাণু হিসাবে বর্নণা করা হয়।

আর বি এম পার্টনারশীপের নির্বাহী পরিচালক ডঃ ফাতোমাতা নাফো ত্রারো বলেন  যে এই একক শ্রেনীর প্রতিষেধক – যার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাকে রক্ষার জন্য নতুন ওষুধ বের করা প্রয়োজন।ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণের নিদর্শনগুলো আমাদের সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। আমাদের এমন প্রতিষেধকের সন্ধান করা প্রয়োজন যাতে এই লড়াইটা অব্যাহত রাখা যায়।

ডঃ ফাতোমাতা নাফো ত্রারো বলেন যে ম্যালেরিয়া নিয়ন্ত্রণে বহুপক্ষীয় কৌশল প্রয়োজন। ম্যালেরিয়া শুধু স্বাস্থ্যের বিষয় নয়, এটি উন্নয়নেরও বিষয়।

ডঃ ফাতোমাতা নাফো ত্রারো বলেন ম্যালিরিয়া নিয়ন্ত্রণে বিনিয়োগের কারণে কর্মক্ষেত্রে এবং স্কুলে অনুপস্থিতির হার কমবে । ম্যালেরিয়ার ঝুঁকির কারণে যেসব অঞ্চল উপেক্ষিত সেখানেও নতুন বিনিয়োগ আসবে।

'বৈশ্বিক বর্জ্য সংকট মোকাবেলায় সময় অপচয়ের সুযোগ নেই'

জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউ এন ই পি হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছে যে দ্রুতহারে জনসংখ্যাবৃদ্ধি, নগরায়ন এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে যে বর্ধিতহারে আবর্জনা তৈরি হচ্ছে তা বিদ্যমান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশ্বব্যাংকের পরিসংখ্যান উদ্ধৃত করে সংস্থা বলছে যে পৌর এলাকাগুলোতে বার্ষিক একশো ত্রিশ কোটি টন বর্জ্য তৈরি করছে এবং ২০২৫ সাল নাগাদ এর পরিমাণ দুশো কুড়ি কোটি টন ছাড়িয়ে যাবে।

জাপানের ওসাকায় অনুষ্ঠিত দুদিনের এক সম্মেলনে সংস্থা জানায় যে নিম্নমানের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে স্বল্প-আয়ের দেশগুলোতে বিশেষ হুমকি তৈরি করছে। ঐসব দেশগুলোতে বর্জ্য সংগ্রহের হার পঞ্চাশ শতাংশেরও কম।

সংস্থা বলছে যেসব দেশে যথাযথ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা রয়েছে সেখানেও বর্জ্যকে চোখের আড়ালে সরিয়ে রাখাটা কোন সমাধান নয়।

বর্জ্য সমস্যার সমাধানে সংস্থা বিভিন্ন পণ্যের মোড়কের নকশা বদলানো, কম জিনিষ ব্যবহার এবং একই পণ্যের পুর্নব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন