এশিয়ায় প্রতিবন্ধী-অধিকার বিষয়ে দশবছর মেয়াদী নতুন কর্মকৌশল
এশিয়া ও প্রশান্ত-মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো প্রতিবন্ধীদের অধিকার এবং কল্যাণে দশবছর মেয়াদী এক নতুন কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার ইঞ্চিয়নে বৃহস্পতিবার ৩৭টি দেশের মন্ত্রী , সরকারী প্রতিনিধি এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই কর্মকৌশল গৃহীত হয়।
জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের অর্থনৈতিক কমিশন এসক্যাপের তথ্য অনুযায়ী এই অঞ্চলে পঁয়ষট্টি কোটি প্রতিবন্ধীর অধিকাংশই দরিদ্র, অনগ্রসর এবং বৈষম্যের শিকার।
এসক্যাপ বলছে যে অনেক সরকারই প্রতিবন্ধীদের অধিকার রক্ষায় অনেক নীতিমালা বাস্তবায়ন করেছে।
তবে, এসক্যাপ বলছে যে আরো অনেকগুলো পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন যার মধ্যে রয়েছে অবকাঠামোতে প্রতিবন্ধীদের চলাচলের ব্যবস্থা, শিক্ষা এবং জীবিকার ক্ষেত্রে সুবিধা, সিদ্ধান্তগ্রহণ প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ, নারীর সাম্য এবং দূর্যোগের ঝুঁকি হ্রাসের পরিকল্পনায় অংশগ্রহণ।
মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ২৮০০০ মানুষ গৃহহারা
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউ এন এইচ সি আর মায়ানমার সরকারের অনুমিত হিসাবকে উদ্ধৃত করে জানিয়েছে যে সেদেশের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য রাখাইনে নতুন করে শুরু হওয়া সহিংসতায় গত সপ্তাহে প্রায় আঠাশ হাজার লোক গৃহহারা হয়েছেন।
রাজ্যের রাজধানী সিত্তেতে অভ্যন্তরীণ বাস্তুহারাদের বিদ্যমান শিবিরে সাহায্যের আশায় তিন হাজারেরও বেশী লোক নৌকায় করে এসে হাজির হয়েছেন। এবছরে জুন মাসে সহিংসতা শুরুর পর থেকে ঐসব শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় পঁচাত্তর হাজার মানুষ।
ইউ এন এইচ সি আরের মুখপত্র অ্যাড্রিয়ান এডওয়ার্ডস বলেন যে আরো সহিংসতা ঠেকাতে দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পুনপ্রতিষ্ঠা করা এবং যাঁদের প্রয়োজন তাঁদের কাছে সাহায্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা জরুরী।
মি এডওয়ার্ডস বলেন যে এসব শিবিরে স্থান, আশ্রয় এবং মৌলিক জিনিষপত্রের সরবরাহ ইতোমধ্যেই ধারণক্ষমতাকে ছাড়িয়ে গেছে। ঐ অঞ্চলে খাদ্যের দাম দ্বিগুণের বেশী হয়েছে এবং অসুস্থ ও আহতদের চিকিৎসার জন্য সেখানে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক নেই।
মি এডওয়ার্ডস বলেন যে কিছু কিছু ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন এখনও নিজেদের গ্রামেই রয়ে গেছেন যাঁদের অবস্থা খুবই খারাপ এবং তাঁরা আশা করছেন যে তাঁরা সেখানে আবার ঘর গড়বেন। খবর পাওয়া যাচ্ছে যে তাঁদেরকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে যে তাঁরা আবার ঘর বানালে সেগুলো পুড়িয়ে দেওয়া হবে এবং সেকারণে অনেকেই আবার পালিয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।
মি এডওয়ার্ডস বলেন যে আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোতে তাঁদের সীমান্ত খোলা রাখার আহ্বান জানাচ্ছি যাতে চলমান সহিংসতা থেকে যাঁরা নিরাপত্তা চাইছেন তাঁরা সেখানে সরে যেতে পারেন। তিনি বলেন যে তাঁরা এই মানবিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারগুলোকে সাহায্য করার জন্য প্রস্তত রয়েছেন।
সংস্থা জানায় যে একুশে অক্টোবর নতুন করে সহিংসতা শুরু হয় এবং রাখাইন রাজ্যের কতৃপক্ষ জানিয়েছে যে এতে চার হাজার ছশোটি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক ডজন লোক নিহত হয়েছেন।
মানবাধিকারকে মায়ানমারের সংস্কারের অংশ করতে হবে
মায়ানমারে সংস্কারের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে বলে জানিয়েছেন সেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে বিশেষ প্রতিনিধি থমাস ওযিয়া কুইটানা।
তবে, তিনি বলেন যে মানবাধিকার পরিস্থিতিসহ বিভিন্নক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হলেওে এটা পরিষ্কার যে মানবাধিকার বিষয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগগুলো সংস্কার প্রক্রিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া প্রয়োজন।
থমাস ওযিয়া কুইনটানা বলেন যে এটা রাখাইন রাজ্যের পরিস্থিতিতে খুবই স্পষ্ট – যেখানে আমি অগাষ্ট মাসে সফর করেছি এবং যেখানে আন্ত:সম্প্রদায় সহিংসতায় ৮৮ জন নিহত হয়েছেন , ৮৫৮ জনকে আটক করা হয়েছে এবং সাত হাজার লোক বাস্তুচ্যূত হয়েছেন।
জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আবহাওয়ার পূর্বাভাষ গুরুত্বপূর্ণ : ডাব্লু এইচ ও
জাতিসংঘের স্বাস্থ্য ও আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বন্যার মতো চরম পরিস্থিতি ক্রমবর্ধমান হারে পেটের পীড়া, ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু এবং ম্যানেঞ্জাইটিসের মতো রোগের মহামারি সৃষ্টি করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও এবং বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা – ডাব্লু এম ও বলছে যে জনস্বাস্থ্য এবং আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সহযোগিতা আবহাওয়ার পরিবর্তনশীল প্রকৃতির সাথে যুক্ত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলার কাজ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করতে পারে।
এই দুটি সংস্থা বৈশ্বিক আবহাওয়ার প্রকৃতি এবং তাঁর সাথে সম্পর্কিত স্বাস্থ্য ঝুঁকি চিহ্নিত করে প্রথমবারের মতো একটি মানচিত্র তৈরি করেছে।
এই মানচিত্রের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে ডাব্লু এইচ ওর মহাপরিচালক ড: মার্গারেট চ্যান বলেন যে পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার বিষয়ে সময়োপযোগী তথ্য জনস্বাস্থ্য সেবার ক্ষেত্রে ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
ডাব্লু এম ও'র মহাসচিব মিশেল জারাউড বলেন যে জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় আবহাওয়ার পূর্বাভাষকে এতোদিন বিবেচনায় নেওয়া হয় নি তারই পরিণতি এই মানচিত্রের প্রকাশনা।
মিশেল জারাউড বলেন যে গত পনেরো-কুড়ি বছর ধরে আমরা যা করে আসছি , তাতে আবহাওয়ার প্রকৃতি এবং তার গতিবিধির পূর্বাভাষ দেওয়ার ক্ষমতা অর্জনের ক্ষেত্রে বড়ধরণের বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। আমরা এই বৈজ্ঞানিক অগ্রগতিকে সিদ্ধান্তগ্রহণের জন্য তথ্য হিসাবে ব্যবহার উপযোগী করে তুলতে চাই।
সুবিধামতো মানবাধিকার আইনের প্রয়োগ জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন করে
গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রসার বিষয়ে জাতিসংঘের স্বাধীন বিশেষজ্ঞ আলফ্রেড ডি যায়াস হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন যে রাষ্ট্রগুলো যখন জাতিসংঘ সনদ লংঘন করেও পার পেয়ে যায় অথবা মানবাধিকারের যেটুকু তার অনুকুলে শুধু সেটুকুই প্রয়োগ করে তখন আন্তর্জাতিক আইন এবং জাতিসংঘের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ণ হয়।
তিনি বলেন যে সবাই সবখানে সংস্কারের কথা বলেন, কিন্তু, বৈশ্বিক পরিসরে সিদ্ধান্তগ্রহণের প্রক্রিয়ায় এখনও অগণতান্ত্রিক প্রতিনিধিত্ব বিদ্যমান এবং বিশ্বব্যাপী অন্যায় বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞ বৈশ্বিক দুরবস্থার মধ্যেও তাঁর ভাষায় 'অতিমাত্রায় সামরিক ব্যয়, আতঙ্ক ছড়ানো এবং শক্তি প্রদর্শনের' সমালোচনা করেন।
তিনি সরকারগুলো এবং নাগরিক সমাজের প্রতি শুধুমাত্র সুবচনের উর্ধ্বে উঠে তাদের অগ্রাধিকার সমন্বয় করে বাজেটকে মানবিক রুপ দেওয়ারও আহ্বান জানান।
মি ডি যায়াস বলেন যে একটি মানবিক বিশ্ব ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজন জাতিসংঘ সনদ এবং মানবাধিকারের ঘোষণাকে আধুনিক বিশ্বের সংবিধান হিসাবে গ্রহণ করা।