১৮:২০:৪৭

জাতিসংঘ দিবসে বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবেলার অঙ্গীকার

শুনুন /

জাতিসংঘের সদর দপ্তর

জাতিসংঘ দিবসের বার্তায় জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে বৈশ্বিক সমস্যাগুলো মোকাবেলায় বিশ্বের প্রয়োজন বৃহত্তর সহযোগিতা।
জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার দিন, ২৪ শে অক্টোবর, প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী জাতিসংঘ দিবস হিসাবে পালিত হয়ে থাকে।

মি বান বলেন যে জাতিসংঘ শুধু কূটনীতিকদের বৈঠক করার জায়গা নয়, বরং মাঠপর্য্যায়ে শান্তিরক্ষা, ওষুধ বিতরণ, শরণার্থীদের ত্রাণ সরবরাহ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কাজে যাঁরা নিয়োজিত আছেন এটি তাঁদের প্রতিষ্ঠান।

মি বান বলেন যে বৈশ্বিক রুপান্তর এবং আলোড়নের এই সময়ে , এবছরে আমরা বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের অঙ্গীকার পুর্নব্যক্ত করছি যে আমরা যুদ্ধ বন্ধে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায়, ঘৃণা , ক্ষুধা, রোগ এবং পরিবেশ দূষণের কারণে সৃষ্ট সংকটগুলো মোকাবেলায় কাজ করবো।

মি বান বলেন যে মানুষ সমস্যাগুলোর টেকসই সমাধানের জন্য অপেক্ষমান। বিশ্বে বৃহত্তর সহযোগিতার প্রয়োজন এবং জাতিসংঘে আমরা সেটাই গড়ে তুলেতে পারি।

মহাসচিব আরো বলেন যে জাতিসংঘ তখনই সফল হবে যখন এনজিও, প্রধান নির্বাহী, বিজ্ঞানী, পন্ডিত এবং সমাজহিতৈষীরাসহ এর সব অংশীদাররা এর প্রতি সমর্থন দেবেন।দিবসটি উপলক্ষ্যে সাধারণ পরিষদ অধিবেশন কক্ষে জাতিসংঘের শান্তিদূত ষ্টিভি ওয়ান্ডারের পরিবেশনায় একটি সঙ্গীতানুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্য্যক্রম সংকোচন

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার , নাভি পিল্লাই জানিয়েছেন সম্পদের অপ্রতুলতার কারণে তাঁর দপ্তর তাঁদের কার্য্যক্রম সংকোচনে বাধ্য হচ্ছে । বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করার সময় তিনি একথা বলেন।

মিস পিল্লাই বলেন যে শান্তি, নিরাপত্তা, উন্নয়ন এবং মানবিক কার্য্যক্রমের কেন্দ্রে মানবাধিকারের বিষয়টি স্থান করে নেওয়ায় এবং তাঁর দপ্তর এক্ষেত্রে আস্থা অর্জন করার বিষয়টি খুবই সন্তোষজনক।

তবে, তিনি কূটনীতিকদের স্মরণ করিয়ে দেন যে তাঁর দপ্তরের ওপর প্রত্যাশা ও কাজের চাপ এবং প্রাপ্ত আর্থিক সহায়তার মধ্যে যে ঘাটতি আছে সেবিষয়ে গতবছরেই সতর্ক করা হয়েছিলো।

মিস পিল্লাই বলেন যে ঐ পার্থক্য এখনও বিদ্যমান।জাতিসংঘের তিনটি মূলভিত্তির একটি হিসাবে মানবাধিকার স্বীকৃত হলেও গুরুত্বপূর্ণ এবং অনুমোদিত কার্য্যক্রম পরিচালনার জন্য সম্পদের যোগান আসছে না।

মিস পিল্লাই বলেন যে আমরা যদিও এধরণের কাজ পূর্ণাঙ্গভাবে করার চেষ্টা করছি , কিন্তু পর্য্যাপ্ত সম্পদের অভাবে আমরা কম সম্পদের সাহা কম কাজ করতে বাধ্য হচ্ছি।

মিস পিল্লাই বলেন যে যেহেতু তাঁর দপ্তর বিশ্বের সর্বত্র বলিষ্ঠভাবে মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করে থাকে সেহেতু এর আকার এবং এখতিয়ার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। একারণে তিনি তাঁর প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বজায় রাখার জন্য সমর্থন বাড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

শান্তিরক্ষী মিশনগুলোর আকার ছোট হচ্ছে

শান্তিরক্ষার কার্য্যক্রমকে জাতিসংঘ তার ভাষায় সঠিক আকারে সংগঠিত করার কথা জানিয়েছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্য্যক্রমের প্রধান হার্ভে লাডসোস সাংবাদিকদের একথা জানান।

তিনি জানান যে বহুবছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো চলতি বছরের শেষে তিমুর লেষ্টে শান্তিরক্ষা কার্য্যক্রম শেষ হবে।

মি লাডসোস বলেন যে তিনি প্রতি দুই বছরে সব মিশনের কার্য্যক্রম পর্য্যালোচনার বিষয়টিকে নীতি হিসাবে গ্রহণ করেছেন যাতে করে বাস্তবে মাঠপর্য্যায়ে যা প্রয়োজন তার সাথে যেন সামঞ্জস্য থাকে।

মি লাডসোস বলেন যে আমরা দার্ফুরে সেটাই করছি যেখানে স্পষ্টতই এখনও কিছুটা সহিংসতা দেখা যাচ্ছে, তবে আমার মনে হয়, সেখানে মিশনের আকার কমিয়ে আনা যুক্তিসঙ্গত।

মি লাডসোস বলেন যে আমরা হেইতিতেও সেটাই করবো। লাইবেরিয়াতেও একই কাজ করা হবে।

মি লাডসোস বলেন যে আমার মনে হয় এখন আমাদেরকে এমনভাবে তৈরি থাকতে হবে যা বাস্তবের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।অর্থাৎ, আমরা আমাদের কার্যক্রমকে সঠিক আকারে নিয়ে আসার লক্ষ্যে কাজ করবো।

তিনি জানান যে এটি নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনার বিষয়।তিনি বলেন যে বর্তমান আর্থিক টানাপোড়েনের সময়ে তাঁর বিভাগকে আরো বেশী নমনীয় এবং ক্ষিপ্র হতে হবে।

গাযা যুদ্ধের সময় জাতিসংঘ সংস্থার বিরুদ্ধে ভূঁয়া অভিযোগ প্রত্যাহার

ইজরায়েলের সবচেয়ে মর্য্যাদাপূর্ণ টেলিভিশন সংবাদের অনুষ্ঠান এক বিবৃতিতে ২০০৮-০৯ সালের গাযা যুদ্ধের সময় জাতিসংঘ সংস্থার বিরুদ্ধে ভূঁয়া তথ্য প্রকাশের বিষয়ে সংশোধনী প্রকাশ করেছে।

ফিলিস্তিনী শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের যে ত্রাণ সংস্থা কাজ করছে সেই ইউ এন আর ডাব্লু এ জানায় যে চ্যানেল টু নিউজ বলেছে যে যুদ্ধের সময় সংস্থা পরিচালিত স্কুল থেকে রকেট ছোঁড়ার দাবিটি মিথ্যা ছিলো বলে ইজরায়েলী কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন।

ইউ এন আর ডাব্লু এ'র মুখপত্র ক্রিস গানেস বলেন যে গাযায় সংস্থার প্রধান গুদাম এবং স্কুলটির আশপাশে গোলাবর্ষণের সময় থেকে এই ভূল তথ্যের প্রচার শুরু হয়।

ইউ এন আর ডাব্লু এ জানিয়েছে যে ঐ গুদামের সব মজুদ ও সরঞ্জামের জন্য ক্ষতিপূরণ হিসাবে ইতোমধ্যেই ইজরায়েল সরকার জাতিসংঘকে এক কোটি ডলার দিয়েছে।

বিচারবিভাগে দূর্নীতি আইনের শাসনের জন্য হুমকি

বিচারক এবং আইনজীবিদের স্বাধীনতার বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ র্যা পোর্টিয়ার, গ্যাবরিয়েলা ক্নাউল বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে তাঁর বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করার সময়ে হুঁশিয়ারী দিয়ে বলেছেন যে বিচারবিভাগে দূর্নীতির কারণে আইনের শাসন এবং মানবাধিকার রক্ষা হুমকির মুখে পড়েছে।

তিনি বলেন যে বহুদেশেই বিচারবিভাগের দূর্নীতি একটা বড় সমস্যা হয়ে রয়েছে।

মিস ক্নাউল বলেন যে বিচারবিভাগে দূর্নীতির উপস্থিতি প্রত্যক্ষভাবে আইনের শাসন এবং মানবাধিকার রক্ষায় আদালতের ক্ষমতাকে দুর্বল করে।

মিস ক্নাউল বলেন যে বিচারবিভাগীয় দূর্নীতি আদালত এবং আইনপেশার সদস্যদের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

মিস ক্নাউল বলেন যে প্রাক-বিচার তদন্ত থেকে শুরু করে বিচার প্রক্রিয়া এবং নির্বাহী বিভাগ বা নায়েব কতৃক আদালতের রায় বাস্তবায়ন পর্য্যন্ত এই দূর্নীতি বিস্তৃত ।

বিচারক, সরকারী কৌঁশুলী এবং আইনজীবিদের স্বাধীনতাকে দূর্নীতিবিরোধী লড়াইয়ের নীতিমালার কেন্দ্রে স্থান দেবার জন্য মিস ক্নাউল বিশ্বব্যাপী সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন