১৬:৩৪:৪৫

ব্যাভিচারকে অপরাধ হিসাবে গণ্য না করার আহ্বান

শুনুন /

নারী অধিকার বিষয়ে জাতিসংঘের একটি বিশেষজ্ঞ দল ব্যাভিচারকে অপরাধ হিসাবে গণ্য কারার আইন বাতিল করার জন্যসব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তাঁরা বলছেন যে কোন কোন দেশের ফৌজদারি আইনে এই অপরাধের জন্য নারী এবং পুরুষকে একই মানদন্ডে দেখা হয় না এবং কখনো কখনো মহিলাদেরকে জরিমানা এবং কারাদন্ডসহ কঠোরতর সাজা বা মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়।

এই বিশেষজ্ঞ দলের ভাইস-চেয়ারম্যান প্রফেসর ফ্রান্সিস রাদায় জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠকের সমাপনী অধিবেশন বলেন যে ভালো একটা সমাধান হোল ব্যাভিচারকে অপরাধের তালিকা থেকে পুরোপুরি বাদ দেওয়া।

অন্য কথায়, মহিলাদের ব্যাভিচারের জন্য বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় না করানো এবং তাদেরকে জেল-জরিমানা না করা এবং অবশ্যই মৃত্যুদন্ড না দেওয়া।

প্রফেসর ফ্রান্সিস রাদায় বলেন যে এটাও যথেষ্ট নয় – একে ফৌজদারি অপরাধ হিসাবেই বিবেচনা করা উচিৎ নয়।

চারজন বিশেষজ্ঞ আরো বলেন যে প্রথা এবং আইন অনুযায়ী কোথাও কোথাও ব্যাভিচারের পরিণতিতে বিবাহ-বিচ্ছেদের মামলা হয়ে থাকে।

তাঁরা এক্ষেত্রে, সন্তানদের অভিভাবকত্ব এবং খোরপোশ বিষয়ে বিরোধের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেন।

সংকটের সময় দরিদ্রদের কথা ভুলে না যাওয়ার আহ্বান

জাতিসংঘ মহাসচিব অর্থনৈতিক কৃচ্ছতার সময়ে দরিদ্রদের কথা ভূলে না যাওয়ার জন্য সব দেশের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সতেরোই অক্টোবর, দারিদ্র দূরীকরণের আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষ্যে এক বাণীতে বান কি মুন বলেন যে সরকারগুলো তাদের বাজেটে ভারসাম্য আনার জন্য যে সংগ্রাম করছে তাতে দারিদ্র-বিরোধী পদক্ষেপগুলো হুমকির মুখে পড়ছে।

কিন্তু, দরিদ্রদের সামাজিক সেবা, আয়ের নিরাপত্তা এবং উপযুক্ত কাজের ব্যবস্থা করার এটাই সময় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে চরম দারিদ্রের সহিংসতা বিষয়ে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতিসংঘ।

এই অনুষ্ঠানের অন্যতম সহ-উদ্যোক্তা , ইন্টারন্যাশনাল মুভমেন্ট এটিডি ফোর্থ ওয়ার্ল্ড এর ক্রিষ্টিনা ডিয়াজ বলেন যে চরম দারিদ্রের মধ্যে যাঁরা বসবাস করেন তাঁদের অনেকেই মনে করেন যে পরিবেশে তাঁরা জীবনযাপন করছেন সেই পরিবেশই সহিংসতার জন্ম দেয়। উদাহরণ হিসাবে বলা যায় যে যখন তাঁরা চরম দারিদ্রের মধ্যে জীবনযাপনের বর্ণনা দেন, তখন তাঁরা বলেন যে তাঁদেরকে মানুষ হিসাবে গণ্য করা হয় না, তাঁদের মানবাধিকার স্বীকার করা হয় না , তাদেরকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা হয়।

ক্রিষ্টিনা ডিয়াজ বলেন যে এসব কিছুই তাদের জীবনে সহিংসতার জন্ম দেয়।

খাদ্য নিরাপত্তা বিতর্কে পরিবেশ প্রসঙ্গ অন্তর্ভুক্তির আহ্বান

খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে বৈশ্বিক বিতর্কে পরিবেশের প্রশ্নটি বিবেচনায় নেওয়ার সুপারিশ করেছে নতুন এক রিপোর্ট। ষোলোই অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবসে জাতিসংঘের পরিবেশ বিষয়ক কর্মসূচি ইউ এন ই পি রিপোর্টটি প্রকাশ করে।

এই রিপোর্টটি রচনা করেছেন বারোজন বিজ্ঞানী এবং বিশেষজ্ঞ – যাঁরা বলছেন যে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা দাঁড়াবে নয়শো কোটিতে এবং তাদের খাদ্যসংস্থানের জন্য জীববৈচিত্র রক্ষার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইউ এন ই পি'র কর্মকর্তা জেমস লোম্যাক্স বলেন যে বর্তমান খাদ্য ব্যবস্থায় আমরা এমন একটা পর্য্যায়ে উপনীত হচ্ছি যেখানে প্রাকৃতিক নিয়মে খাদ্য উৎপাদনের ধারা প্রায় অচল হতে চলেছে এবং তার জায়গায় ব্যবহার করা হচ্ছে কৃত্রিম উপকরণ।

এই সমীক্ষায় দেখা যাচ্ছে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় অদক্ষতার কারণে প্রতি বছর একশো ত্রিশ কোটি টন খাদ্যের অপচয় হচ্ছে।

খাদ্যাভ্যাস, কৃষি উৎপাদনব্যবস্থা, সামুদ্রিক এবং মিষ্টি পানির মাছ এই সমীক্ষার অন্তর্ভুক্ত ছিলো।

হুমকির মুখে যক্ষা প্রতিরোধ কর্মসূচি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা – ডাব্লু এইচ ও বলছে যে যক্ষার চিকিৎসা এবং এর বিস্তার রোধের বৈশ্বিক কার্য্যক্রম বড়ধরণের তহবিল সংকটের কারণে হুমকির মুখে পড়েছে।

সংস্থা বলছে যে নতুন ওষুধের জন্য গবেষণা এবং আবিষ্কারসহ যক্ষা নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপগুলোর জন্য আগামী তিনবছরে আরো চারশো চল্লিশ কোটি ডলার প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার যক্ষা বিষয়ক বার্ষিক রিপোর্টে বলেছে যে যক্ষায় আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা যদিও ধীরে ধীরে কমে আসছে , তবুও ২০১১ সালে বিশ্বে ৮৭ লাখ নতুন যক্ষাক্রান্ত রোগী চিহ্নিত হয়েছে।

বিশ্বের মোট যক্ষারোগীদের চল্লিশ শতাংশই ভারত এবং চীনে , আর চব্বিশ শতাংশ হচ্ছে আফ্রিকা অঞ্চলে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার স্টপ টিবি বিভাগের ডঃ ফিলিপ গ্ল্যাযিও বলেন যে আমাদের রিপোর্টে ক্যাম্বোডিয়ার সাফল্যের কথা তুলে ধরেছি – যে দেশটি যক্ষা আক্রান্তের হারের দিক থেকে ছিলো বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এবং তারাই গত নয় বছরে এই বোঝা ৪৫ শতাংশ পরিমাণে কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে।

ডঃ ফিলিপ গ্ল্যাযিও বলেন চলমান গবেষণায় নতুন ওষুধে চিকিৎসাক্ষেত্রে বড়ধরণের সাফল্যের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে যা হবে চল্লিশ বছরের মধ্যে প্রথম এবং তা সম্ভাব্য কম সময়ে অর্থাৎ আগামী বছরেই বাজারে আসতে পারে।

তিনি জানান যে তহবিলের ঘাটতির কারণে এগারোটি নতুন টিকার কাজ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং যক্ষা নির্মূলের জন্য তারা এক সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ভূমিকা পর্য্যালোচনা

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বুধবার নিরাপত্তা পরিষদের এক সভায় বলেছেন যে সহিংসতা আর ভঙ্গুর পরিস্থিতির চক্র ভেঙ্গে দেবার জন্য বিচার একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে থাকে।

আইনের শাসনে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত – আই সি সি'র ভূমিকা বিষয়ে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা আলোচনা করেন। মি বান বলেন যে নিরাপত্তা পরিষদ এবং দশ-বছর বয়েসী এই আদালত এক অভিন্ন স্বার্থে কাজ করছে এবং তাদের রাজনৈতিক অধিক্ষেত্রও অভিন্ন।

মি বান বলেন যে এই আদালত এবং নিরাপত্তা পরিষদের ক্রিয়া এবং নিষ্ক্রিয়তা অন্যদের উপর কীধরণের প্রভাব ফেলে তা আমরা সবাই প্রত্যক্ষ করেছি। তবে, আরো গুরুত্বপূর্ণ হোল এ্ই দুই প্রতিষ্ঠানের একটি অপরকে কিভাবে সাহায্য করতে পারে সেটাও আমরা দেখেছি।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন