পরিবহন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করছে আগামীর জীবনমান
জাতিসংঘের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক কমিশন বা এসক্যাপের প্রধান নোয়েলিন হেইযার বলেছেন যে পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়ে আজকের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করছে আগামীকালের জীবনযাত্রার মান।
মিস হেইযার বুধবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে এসক্যাপের পরিবহন বিষয়ক কমিটির এক সভায় বলেন যে পরিবহনব্যবস্থা দারিদ্র হ্রাস করে প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়নকে এগিয়ে নিতে পারে।প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগোষ্ঠীর জন্য এটি বিশেষ করে প্রযোজ্য বলেও তিনি জানান।
মিস হেইযার বলেন যে বিভিন্ন সামাজিক সেবা, প্রবৃদ্ধি এবং সুযোগগুলোর সাথে প্রত্যন্ত সম্প্রদায়গুলোকে ভালোভাবে যুক্ত করার প্রয়োজন রয়েছে।
শহরের সাথে গ্রামের সংযোগগুলোর উন্নয়নের মাধ্যমে শহরগুলোকে আরো ভবিষ্যতমুখী, আরো প্রতিরোধক্ষমতাসম্পন্ন এবং বসবাসের উপযোগী করে তোলা প্রয়োজন।
ব্যাংককের এই বৈঠকে এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় দক্ষ এবং টেকসই যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলায় প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়গুলো আলোচিত হচ্ছে।
বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবসে স্বেচ্ছায় সাহায্য নেওয়ার আহ্বান
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা ডাব্লু এইচ ও'র ডঃ শেখর সাক্সেনা বলেছেন যে বিমর্ষতার চিকিৎসার পথে অন্যতম প্রধান বাধা হচ্ছে এক্ষেত্রে কেউ নিজে থেকে সাহায্য নিতে চায় না।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানসিক সেবা ও নেশাগ্রস্ততা বিভাগের প্রধান ডঃ সাক্সেনা বলেন যে বিমর্ষতা বা অবসাদগ্রস্ততা একধরণের রোগ যাতে দুসপ্তাহ বা তারও বেশী সময় ধরে দুঃখ সহ্য করার কারণে একজন ব্যাক্তির দৈনন্দিন জীবনযাপনের সামর্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে বিশ্বে বর্তমানে অথবা গত একবছরের মধ্যে মানসিক সমস্যায় ভূগেছেন এমন লোকের সংখ্যা ৩৫ কোটি।
দশই অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষ্যে তিনি বৃটিশ পার্লামেন্টের দুজন সদস্য কিভাবে তাদের বিমর্ষতা কাটিয়ে উঠেছিলেন সেই অভিজ্ঞতা তুলে ধরার ব্যবস্থা করেছেন।
এই এমপিরা কয়েক মাস আগে পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে তাঁদের মানসিক সমস্যার কথা বলেছিলেন , তাঁরা সাহায্য চেয়েছিলেন এবং এখন তাঁরা ভালো আছেন।
প্রতি আটজনে একজন পুষ্টিস্বল্পতায় ভূগছেন
মঙ্গলবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে বিশ্বে প্রায় সাতাশি কোটি লোক অর্থাৎ প্রতি আটজনে একজন দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টিস্বল্পতায় ভূগছেন ।
বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও , আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি উন্নয়ন তহবিল – আই এফ এ ডি এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী – ডাব্লু এফ পি'র যৌথ প্রকাশনা 'বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তাহীনতা ২০১২'তে বলা হয় যে ক্ষুধার্তদের গরিষ্ঠ অংশই বাস করেন উন্নয়নশীল দেশগুলোতে।
তবে, বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও'র মহপরিচালক, হোসে গ্রাযিয়ানো ডা সিলভা বলেন যে সুসংবাদ হোল এই যে ক্ষুধার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে।
মি ডা সিলভা বলেন যে মোট সংখ্যা ৯৮ কোটি থেকে কমে পঁচাশি কোটি কুড়ি লাখে দাঁড়িয়েছে। এর অর্থ হোল কুড়ি বছরে বারো কোটি আশি লাখ ক্ষুধার্তের সংখ্যা কমেছে।
মি ডা সিলভা বলেন যে আজ যে সংখ্যা তুলে ধরা হোল তা থেকে দেখা যাচ্ছে যে সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা অর্থাৎ পুষ্টিস্বল্পতার শিকার লোকের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা এখনও সম্ভব।
তরুণ এবং বয়স্করা একইধরণের বেকারত্বের মুখোমুখি : আই এল ও
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও বলছে যে তরুণদের কর্মসংস্থানের বিষয়টিতে যেধরণের গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বয়স্ক লোকদের জন্যও একইধরণের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। আই এল ও বলছে যে তরুণ এবং বয়স্ক শ্রমিকরা উভয়েই একইধরণের বেকারত্বের সমস্যার মুখোমুখি।
বিপুল সংখ্যায় যুব বেকারত্বের শিকার অনেক দেশেই বয়স্কদের অবসরে যাওয়ার বয়স কমিয়ে দেওয়াকে একটা সহজ সমাধান উল্লেখ করে আই এল ও বলেছে যে আগাম অবসর সবসময় তরুণদের জন্য যে নতুন চাকরি সৃষ্টি করছে ব্যাপারটি এমন নয়।
সংস্থা বলছে যে বয়স্ক শ্রমিকদেরও কাজের চাহিদা বাড়ছে এবং এই শতাব্দীর শেষে বিশ্বে ষাটোর্ধ মানুষের সংখ্যা দুশো আশি কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে।
মায়ানমারের রাখাইনে বাস্তুচ্যূত হওয়ার ঘটনা এখনও ঘটছে
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা – ইউ এন এইচ সি আর জানিয়েছে যে মায়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে আন্ত সম্প্রদায় সহিংসতার চার মাস পরও সেখান থেকে লোকজনের পালিয়ে যাওয়া অব্যাহত রয়েছে।
সংস্থা বলছে যে খাদ্য, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য সহায়তার জন্য সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামবাসীরা এখনও তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যাচ্ছেন।
ইউ এন এইচ সি আর এর মুখপাত্র, অ্যাড্রিয়ান এডওয়ার্ডস বলেন যে মানবিক সংস্থাগুলো এসব বান্তুচ্যূত লোকজনকে সহায়তা করছে ।
অ্যাড্রিয়ান এডওয়ার্ডস বলেন যে স্থানীয় কতৃপক্ষের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী রাখাইন রাজ্যে বর্তমানে প্রায় পঁচাত্তর হাজার অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যূত লোকজন অ্স্থায়ী শিবিরে অবস্থান করছেন। এসব শিবির হচ্ছে সিত্তে, কেইয়ুক ত এবং মংগদুতে।
মি এডওয়ার্ডস বলেন যে জুন মাসের গোড়ার দিকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বান্তুচ্যূত এসব মানুষের সংখ্যা প্রাথমিকভাবে পঞ্চাশ হাজার বলে সরকারী অনুমানে উল্লেখ করা হয়েছিলো।
মি এডওয়ার্ডস বলেন যে অগাষ্টের গোড়ার দিকে কাইয়ুক ত শহরে আবারো সহিংসতা শুরু হলে চার হাজারেরও বেশী ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
সংস্থা জানায় যে কিছু কিছু বাস্তুচ্যূত গ্রামবাসী তাদের ঘরবাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।