১৫:৫৮:১৩

এল নিনো ও লা নিনা মোকাবেলায় আগাম প্রস্তুতির আহ্বান

শুনুন /

সিসেলিচে ক্ষতিগ্রস্ত সামুদ্রিক প্রবাল যার জন্য পরিবেশবাদীরা অন্য কারণসমূহের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনকেও চিহ্নিত করে থাকেন।

জাতিসংঘের একজন ত্রাণ কর্মকর্তা বলেছেন যে ২০১৮ সালে লা নিনা বিশ্ব জুড়ে আবহাওয়ার ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

তিনি সরকারগুলোর প্রতি এই আবহাওয়াগত প্রবণতা লা নিনা এবং এল নিনোর সম্ভাব্য ধ্বংসাত্মক প্রভাব মোকাবেলায় আগাম ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গ্রীষ্মমন্ডলের মধ্য ও র্পূবাঞ্চলীয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় প্রতি তিন থেকে সাত বছরে উষ্ণায়নের যে আবহাওয়াগত প্রবণতা দেখা যায় তা বুঝাতেই এল নিনো অভিধাটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এতে সাগরপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় আবহাওয়ার ওপর তার প্রভাব পড়ে। কোথাও কোথাও অতিবৃষ্টি আবার কোথাও কোথাও বৃষ্টিহীনতা বা খরা দেখা দেয়।

এর বিপরীতটি হলো লা নিনা, যাতে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা গড় হারের নীচে নেমে যায় এবং এর পরিণতিতেও আবহাওয়ায় চরম বিরুপ প্রভাব দেখা যায়।

জাতিসংঘের মানবিক কার্য্যক্রম সমন্বয় দপ্তর ও সি এইচ এ'র নীতিগত পরামর্শ এবং পরিকল্পনা বিভাগের প্রধান গ্রেগ পুলে জাতিসংঘের সংবাদবিভাগের কাছে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন।

গ্রেগ পুলে বলেন যে আমরা জানি পরিস্থিতি মোকাবেলার ব্যবস্থাটি যত আগে আমরা প্রস্তুত রাখতে পারবো তত দক্ষতার সঙ্গে এবং কার্য্যকরভাবে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

২০১৬ সালে তেইশটি দেশ এল নিনো-সম্পর্কিত আবহাওয়াজনিত দূর্যোগের কারণে জরুরি সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিল। ওইসব দেশের মোট জনসংখ্যা হচ্ছে ছয় কোটি।

মি পুলে বলেন যে আবহাওয়ার এই বৈরি আচরণ ঘটবেই শতভাগ নিশ্চিত করে তা বলা যায় না। কিন্তু, আভাস পেলেই সক্রিয় হওয়ার ইচ্ছা সরকারগুলোর মধ্যে থাকা প্রয়োজন।

তিনি বলেন বন্যা প্রতিরোধের জন্য এক কোটি ডলার ব্যয় করে নদী খননের কাজটি করা হলে পরবর্তীতে বন্যাপীড়িতদের খাদ্য, পানীয় ও আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার জন্য পাঁচ থেকে ছয় কোটি ডলার খরচের প্রয়োজন হয় না। তিনি পূর্বাভাসভিত্তিক তহবিল ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেন যাতে দূর্যোগ না ঘটলেও দু:খ করতে হবে না।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন