১৩:৪৪:১০

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আর্ন্তজাতিক মান অনুসরণ করতে হবে: জাতিসংঘ

শুনুন /

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের প্রস্তাবিত প্রত্যাবাসন অবশ্যই নিরাপদ এবং স্বেচ্ছামূলক হতে হবে বলে বলছে জাতিসংঘ।

শুক্রবার , ২৪ নভেম্বর জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, ইউএন এইচ সি আর বলেছে যে দেশে ফিরলে গুরুতর নিরাপত্তার হুমকি আছে বিধায় এই নিশ্চয়তা প্রয়োজন।

গত অগাস্ট মাসের পর মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে পালিয়ে আসা লোকজনের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে উভয় দেশ সম্মত হওয়ার একদিন পর ইউএনএইচসিআর একথা বলেছে।

বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলায় ছয় লাখেরও বেশি আশ্রয়প্রার্থী আশ্রয় নিয়েছে এবং প্রতিদিনই এই সংখ্যা বেড়ে চলেছে।

অগাস্টে বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলার জবাবে পরিচালিত সামরিক অভিযান এর মুখে এসব লোকজন দেশত্যাগে বাধ্য হয়। ঐ সেনা অভিযান জাতিগত নিধন অভিযানের সমতুল্য।

ইউএনএইচসিআর এর মুখপাত্র হলেন অ্যাড্রিয়ান এডওর্য়াডস।

মি এডওর্য়াডস বলেন যে শরণার্থীরা এখনও পালিয়ে আসছে এবং অনেকেই সহিংসতা ও ধর্ষণের শিকার এবং তাদের গভীর মানসিক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। কেউ কেউ পরিবারের সদস্য কিম্বা বন্ধু-বান্ধবকে হত্যা করতে দেখেছেন। অধিকাংশেরই বাড়িঘর ও গ্রাম জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়ায় ফিরে যাওয়ার মত কোন জায়গা তাদের নেই। জনগোষ্ঠীর মধ্যে যে গভীর বিভাজন তা দূর করার কোন পদক্ষেপই নেওয়া হয নি এবং রাখাইন রাজ্যে মানবিক কার্য্যক্রম পরিচালনার সুযোগ খুবই সামান্য। প্রত্যাবাসন যেন অপরিণত অবস্থায় বা আকস্মিক না হয় সেটা খুবই গুরুত্বর্পূণ।

মি এডওর্য়াডস বলেন টেকসই শান্তির মৌলিক উপাদানগুলো নিশ্চিত করা এবং শরণার্থীদের সম্মতি খুবই গুরুত্বর্পূণ।

তিনি বলেন প্রথমেই যেটা দেখা গুরুত্বর্পূণ তাহোল শরণার্থীরা কেন পালিয়ে যেতে বাধ্য হলো। জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কোফি আনান এর তদন্ত-প্রতিবেদনে সেই কারণ চিহ্নিত করা আছে।

রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি ন থাকাই এর প্রধান কারণ এবং তার সঙ্গে রয়েছে তাদেরকে নির্দিষ্ট চৌহদ্দির মধ্যে বসবাসে বাধ্য করা।

ইউএনএইচসিআর বলছে যে শরণার্থীদের এবং মানবাধিকারের আর্ন্তজাতিক মানদন্ড অনুসারে রোহিঙ্গা শরণার্থী সমস্যা সমাধানে তারা উভয় দেশের সরকারকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে।

ভূমধ্যসাগরই অবৈধ অভিবাসনের সবচেয়ে প্রাণঘাতি পথ

জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা, ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন, আইওএম এর নতুন সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে ভূমধ্যসাগরই হচ্ছে বিশ্বে অবৈধ অভিবাসনের সবচেয়ে প্রাণঘাতি পথ।

নতুন ঐ সমীক্ষায় গবেষকরা দেখতে পেয়েছেন যে গত সতেরো বছরে ইউরোপের উপকূলে পৌঁছানোর চেষ্টায় ভূমধ্যসাগরে প্রায় চৌত্রিশ হাজার লোকের মৃত্যু হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে ১৯৭০এর দশকেও একবার ঐপথে অবৈধ অভিবাসনের হার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল।

অস্থায়ী শ্রমিক নিয়োগের ক্ষেত্রেও ভিসা ব্যবস্থা চালুর কারণে তখন উত্তর আফ্রিকা থেকে তুরস্ক হয়ে ইউরোপে আসার পথে অবৈধ অভিবাসন বেড়ে যায়।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয় যে যারা ইতোমধ্যে ইউরোপে ছিল তাঁরা সেখানে থেকে যেতে উৎসাহিত হন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরকে পাচারকারীদের সহায়তায় অবৈধপথে অভিবাসনে নিয়োজিত হন।

দুই কোটি একুশ লাখ এইচআইভি রোগী চিকিৎসা পাচ্ছেন

বিশ্বে প্রায় দুই কোটি দশ লাখ এইচআইভি আক্রান্ত জীবনরক্ষাকারী ওষুধ পাচ্ছেন, যা এই রোগের চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির একটি দৃষ্টান্ত।

২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বকে এইডস রোগমুক্ত করার লক্ষ্যে লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী জাতিসংঘ সংস্থা, ইউএনএইডস এর এক নতুন প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

ইউএনএইডস বলছে যে ২০০০ সালে এইচআইভি আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ছয় লাখ পঁচাশি হাজার রোগী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল চিকিৎসা সেবা পাচ্ছিলেন।

কিন্তু, চলতিবছরের জুনে এই সংখ্যা দুই কোটি নব্বুই লাখে পৌঁছেছে।

সংস্থা বলছে এখনকার চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিশ্বব্যাপী এই রোগের শিকার আরো এক কোটি সত্তুর লাখ রোগীর চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করা, যাদের মধ্যে প্রায় নয় লাখ উনিশ হাজার শিশু।

মানবাধিকার পরিষদের প্রতি হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়, বলছেন যেইদ

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদকে খাটো করার চেষ্টা চালানোর জন্য তিনটি সদস্য রাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার যেইদ রাদ আল হুসেইন।

গত ২১ নভেম্বর, মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে যেইদ এসব দেশের সমালোচনা করেন।

পরিষদের অনুরোধে বুরুন্ডির পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতিসংঘের একটি রির্পোট তৈরির জন্য ঐ রিপোর্টের রচয়িতার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিকে তিনি অগ্রহণযোগ্য বলে অভিহিত করেছেন।

একইসঙ্গে তিনি ফিলিপিন্সের প্রেসিডেন্ট রড্রিগো দুতার্তের নিন্দা করেছেন। প্রেসিডেন্ট দুতার্তে জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার অ্যাগ্নেস কোলামার্ডকে লাঞ্চিত করার হুমকি দিয়েছেন।

জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান আরেকজন স্পেশাল র‌্যাপোর্টিয়ার শিলা কিথারুথের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের জন্য জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদে ইরিত্রিয়ার রাষ্ট্রদূতকে দায়ী করে তাঁরও সমালোচনা করেন।

নারীর প্রতি সহিংসতা পুরো সমাজের ওপরই  প্রভাব ফেলে

বিশ্বব্যাপী নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অবসানে সমাজের সর্বপর্যায়ে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস।

নারীর প্রতি সহিংসতা অবসানের আর্ন্তজাতিক দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার বাইশে নভেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে মি গুতেরেস এই মন্তব্য করেন।

মহাসচিব বলেন প্রত্যেকটি নারী ও বালিকার সহিংসতামুক্ত জীবনযাপনের অধিকার আছে, অথচ, প্রতি তিনজনের একজন তার জীবনের কোনো না কোন একটি সময়ে সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন