১৪:০৪:২৪

আশ্রয় শিবিরে উদ্বাস্তু ঘনত্ব বিপজ্জনক মাত্রায়: ইউএনএইচসিআর

শুনুন /

বাংলাদেশের অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরগুলোতে জড়ো হতে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঘনত্ব বেড়েই চলেছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে জাতিসংঘের উদ্বাস্তু বিষয়ক সংস্থা, ইউএনএইচসিআর। সংস্থা শুক্রবার সতেরোই নভেম্বর এই হুঁশিয়ারি দেয়।

মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে গত অগাষ্টের শেষদিকে শুরু হওয়া সহিংসতার পর থেকে আনুমানিক প্রায় ছয় লাখ কুড়ি হাজার শরণার্থী তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

অনেকগুলো সংস্থার সমন্বয়ে প্রণীত রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলার পরিকল্পনা, রোহিঙ্গা ক্রাইসিস রেসপন্স প্ল্যান এপর্য্যন্ত প্রায় চৌদ্দ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তা লাভ করেছে, যা উদ্ভুত মানবিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় চাহিদার মাত্র এক – তৃতীয়াংশ।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিচ বলছেন যে সামগ্রিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় দাতারা প্রায় ছত্রিশ কোটি ডলার তহবিল যোগানোর অঙ্গীকার করেছে। তিনি সরকারগুলোর প্রতি যত দ্রুত সম্ভব এই অঙ্গীকারকৃত তহবিল ছাড় করার আহ্বান জানান যাতে তা কাজে লাগানো সম্ভব হয়।

মি ডুজারিচ বলছিলেন যে ইউএনএইচসিআর তার পক্ষ থেকে জানিয়েছে যে গত দশ দিনে তারা খবর পেয়েছে যে মিয়ানমার থেকে প্রায় ত্রিশটির মত জীর্ণ ভেলায় ভেসে প্রায় এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নতুন করে বাংলাদেশে এসেছেন। সংকট শুরুর পর থেকে আজ পর্য্যন্ত জাহাজ ও নৌকা ভেঙ্গে এবং ডুবে গিয়ে একশোজনেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। সর্বসম্প্রতি যাঁরা এসেছেন তাঁরা ইউএনএইচসিআরকে জানিয়েছেন যে তাঁরা মিয়ানমারের উপকূলে প্রায় মাসখানেক ধরে বিপন্ন অবস্থায় অপেক্ষমান ছিলেন।

জেনেভায় ইউএনএইচসিআর এর একজন মুখপাত্র উইলিয়াম স্পিন্ডলার সাংবাদিকদের বলেছেন যে পারপারের জন্য অর্থের ব্যবস্থা করতে না পেরে শরণার্থীরা হাতের কাছে যা পেয়েছেন তাই দিয়ে – প্রধানত, বাঁশ, খালি জেরি ক্যান , দড়ি এবং প্লাস্টিকের চাদর ব্যবহার করে ভেলা বানিয়েছেন। এসব ভেলায় প্রায় চার ঘন্টা পানিতে ভেসে তাঁরা বাংলাদেশের শাহপরীর দ্বীপে পৌঁছেছেন।

জাতিসংঘ আবাসন সংস্থা, ইউএন হ্যাবিট্যাটের পরিসংখ্যান উল্লেখ করে ইউএনএইচসিআর বলছে যে ঢাকায় যেখানে জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে সাড়ে চুয়াল্লিশ হাজার সেখানে কুতুপালংয়ের বর্ধিত অংশে কুড়িটি ব্লকের তেরোটিতে প্রতি বর্গকিলোমিটারে পঁচানব্বুই হাজার উদ্বাস্তু বসবাস করছেন।

মি স্পেন্ডলার বলেন যে জনঘনত্ব বেশি হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নানাধরণের ঝুঁকি – বিশেষভাবে যৌন এবং নারীদের প্রতি সহিংসতার বিপদ বেড়ে যায়।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন