১৩:৩৫:২৩

নারীর প্রতি সহিংসতা পুরো সমাজের ওপরই প্রভাব ফেলে

শুনুন /

বিশ্বব্যাপী নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা অবসানে সমাজের সর্বপর্যায়ে যৌথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার এখনই সময় বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস।

নারীর প্রতি সহিংসতা অবসানের আর্ন্তজাতিক দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার বাইশে নভেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এক অনুষ্ঠানে মি গুতেরেস এই মন্তব্য করেন।

মহাসচিব বলেন প্রত্যেকটি নারী ও বালিকার সহিংসতামুক্ত জীবনযাপনের অধিকার আছে, অথচ, প্রতি তিনজনের একজন তার জীবনের কোনো না কোন একটি সময়ে সহিংসতার শিকার হচ্ছে।

জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ব্রডওয়ে তারকা এমিলি বতিস্তা। নারীর প্রতি সহিংসতার বিরুদ্ধে সুচিত #অরেঞ্জদ্যওর্য়াল্ড প্রচারাভিযানের সমর্থনে অনুষ্ঠানকক্ষে উপস্থিত সবার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে মহাসচিব প্রতীকি কমলা রংয়ের স্কার্ফ পরিধান করেন।

মহাসচিব গুতেরেস বলেন নারী অধিকার কর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা আতঙ্কজনকহারে বাড়ছে এবং নারী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সামগ্রিকভাবে মানবাধিকারের অগ্রযাত্রা বাধাগ্রস্ত করছে।

যুদ্ধপীড়িত অঞ্চলগুলোতে ভয়ংকর যৌন সহিংসতা বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না এবং সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদী আদর্শের সঙ্গে নারীর প্রতি সহিংসতার যোগসূত্র ক্রমশই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

মি গুতেরেস বলছিলেন যে এই সহিংসতা, ব্যাপকভিত্তিক পিতৃতান্ত্রিকতা ও কথিত পৌরুষ প্রদর্শনের সবচেয়ে শক্তিশালী আলামত নারীর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। এতে পুরো পরিবার, জনগোষ্ঠী এবং সমাজের ওপর প্রভাব পড়ছে। এটি চলতে থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এসডিজি অর্জন সম্ভব হবে না। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানির যেসব তথ্য সম্প্রতি বেরিয়ে আসছে তা দেখিয়ে দিচ্ছে যে যৌন সহিংসতা কতটা বিস্তৃত।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা, ইউএন উইমেন এর প্রধান ফুমুজিলে ম্লামবো-এনচুকা বলেন যে ২০৩০ সালের মধ্যে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার অবসান ঘটানোর লক্ষ্য অর্জনের মানে হচ্ছে সব নারী ও বালিকার পাশে থাকা। কাউকে একলা পিছনে ফেলে না আসা।

তিনি বলেন যে এর মানে হচ্ছে ঐসব ভুক্তভোগী বা সহিংসতার শিকার নারী যাদের কথা খুব কমই প্রকাশিত হয়েছে তাদের প্রতি নজর দেওয়া।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন