১৩:৩৫:০৩

রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের বিবরণে বিশেষজ্ঞরা গভীরভাবে মর্মাহত

শুনুন /

জাতিসংঘের তিনজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ, শুক্রবার, ২৭শে অক্টোবর, বলেছেন যে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ওপর হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণসহ অন্যান্য যেসব অপরাধের বিবরণ তাঁরা শুনেছেন তাতে তাঁরা গভীরভাবে মর্মাহত।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ দ্বারা গঠিত স্বাধীন তদন্ত কমিশনের সদস্য এই তিনজন বিশেষজ্ঞ বাংলাদেশে তাঁদের সফর শেষ করে একথা বলেছেন।

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা এবং তারপর পরিচালিত নিরাপত্তাবাহিনীর অভিযানের মুখে গত দুই মাসে ছয় লাখেরও বেশি সংখ্যালঘু মুসলমান রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন।

তাঁরা বাংলাদেশের দক্ষিণ-র্পূবাঞ্চলীয় কক্সবাজার অঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছেন যেখানে আগে থেকেই অন্য রোহিঙ্গারা অবস্থান করছেন।

জাতিসংঘের এসব বিশেষজ্ঞ তিনটি আশ্রয় শিবিরে রোহিঙ্গাদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ছাড়াও সরকারী কর্তাব্যাক্তি, কূটনীতিক এবং বেসরকারী সংস্থাসমূহের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন।

তদন্তদলের সদস্য ইন্দোনেশিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল, মারজুকি দারুসম্যান বলেছেন যে তাঁরা রাখাইন রাজ্যের বিভিন্ন অংশের গ্রামবাসীদের কাছ থেকে এমন বহু বিবরণ শুনেছেন যাতে একটি ধারাবাহিক, পদ্ধতিগত কর্মকান্ডের প্রবণতা উঠে আসে যেসব কর্মকান্ডের কারণে লাখ লাখ মানুষের মানবাধিকার চরমভাবে লংঘিত হয়েছে।

শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীর অংশগ্রহণ এখনও  স্বাভাবিক হয় নি

শান্তিপ্রক্রিয়ার আলোচনায় নারীর অংশগ্রহণ এখনও অস্বাভাবিক। শুক্রবার, ২৭শে অক্টোবর, নিরাপত্তা পরিষদে এই বক্তব্য উঠে আসে।

সংঘাত প্রতিরোধ ও নিরসনের উদ্যোগে নারীদের বেশি বেশি করে সম্পৃক্ত করার বিষয়ে সতেরো বছর আগে যে ঐতিহাসিক প্রস্তাব অনুমোদিত হয়েছিল তার অগ্রগতি পর্যালোচনার জন্য রাষ্ট্রদূতেরা ঐ বৈঠকে বসেন।

নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ১৩২৫ বাস্তবায়নের বিষয়ে সভায় বার্ষিক প্রতিবেদন পেশ করেন জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা, ইউএন উইমেন এর নির্বাহী পরিচালক ফুমযিলে ম্লামবো এনচুকা।

মিস ম্লামবো এনচুকা বলেন যে শান্তি আলোচনার টেবিলে নারীর অনুপস্থিতিকে যদিও খুব স্বাভাবিক বলে নাকচ করে দেওয়া যায় না, তবুও এখনও তা সবজায়গায় ঘটছে না। প্রতিবছর আমরা জাতিসংঘের নেতৃত্ব পরিচালিত শান্তিপ্রক্রিয়াগুলোতে নারীর অংশগ্রহণের ওপর নজর রাখি। আমরা শান্তি চুক্তিতে নারীদের স্পর্শকাতর বিষয়সমূহ এবং নারী-পুরুষের সমতাবিষয়ক বিশেষজ্ঞের অর্ন্তভুক্তি এবং নাগরিক গোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসাবে নারী সংগঠনসমূহের মতামত গ্রহণের বিষয়গুলোতে নজর রাখি। এই সবগুলো সুচকেই আমরা একবছর আগের তুলনায় খারাপ করেছি।

ইউএন উইমেন এর প্রধান উদাহরণ হিসাবে মিয়ানমার, সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং সিরিয়ার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন রাজনৈতিক প্রান্তিকীকরণের বিষয়টিও আলোচনার টেবিলের চাইতে খারাপ অবস্থায় পৌঁছেছে, কেননা মাত্র সতেরোটি দেশ একজন রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধান হিসাবে নারীকে নির্বাচিত করেছে।

কিছুদিন আগে পর্য্যন্ত সিয়েরা লিওনই ছিল একমাত্র দেশ যারা সংঘাত-উত্তর কালে একজন নারীকে সরকারপ্রধান নির্বাচিত করেছে।

বাস্তবতার নিরিখে নতুন বৈশ্বিক অভিবাসন চুক্তি প্রয়োজন

অভিবাসন বিষয়ে জাতিসংঘের বিশেষ দূত বলেছেন যে নিরাপদ, নিয়মমাফিক এবং নিয়মিত অভিবাসনের জন্য এমন একটি নতুন বৈশ্বিক চুক্তিতে সবদেশের ঐকমত্য প্রয়োজন যা বাস্তবতার আলোকে প্রণীত হবে।

ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় বৃহস্পতিবার ২৬শে অক্টোবর জাতিসংঘের আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কমিশন , ইসিএ'র এক বৈঠকে জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক দূত লুইস আরবার একথা বলেন।

বর্তমানে আলোচনাধীন নতুন এই বৈশ্বিক চুক্তি অভিবাসন বিষয়ক বহু ভুলবোঝাবুঝির অবসান ঘটিয়ে একটি বাস্তবভিত্তিক পথনকশা তৈরির সুযোগ বলে মিস আরবার মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন আজকের বিশ্বে, অধিকাংশ রাষ্ট্রই একইসঙ্গে অভিবাসনের উৎস, ট্রানজিট এবং গন্তব্য হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে এবং তাদের মধ্যে প্রথমে যতটা মিল দেখা যায় তার চেয়েও অনেক বেশি অভিন্নতা বাস্তবে বিদ্যমান।

উদাহরণ হিসাবে মিস আরবার বলেন যে আফ্রিকা থেকে যতজন অভিবাসী হয়েছেন তাদের অর্ধেকেরও বেশি এই একই উপমহাদেশের আরেকটি দেশে আবাস গড়েছেন।

রোহিঙ্গা সংকটের কারণ বহুযুগের বিদ্বেষমূলক প্রচারণা

মিয়ানমারের লোকজনের মধ্যে বহুযুগ ধরে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা এবং সহিংসতার উস্কানিমূলক কথাবার্তার চর্চা চলে এসেছে উল্লেখ করে জাতিসংঘের একজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ সংকট সমাধানে অবিলম্বে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য  নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রাখাইন রাজ্যের সমস্যা যে শুধু কয়েক যুগ ধরে ঘনীভূত হয়েছে তাই নয়, এর প্রভাব মিয়ানমারের সীমান্তের বাইরেও বিস্তৃত হয়েছে। অনেকদিন ধরেই বিষয়টি আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন বিষয় নয়।

মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংঘি লি  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের যে কমিটি মানবাধিকার, সামাজিক এবং মানবিক বিষয়সমূহ নিয়ে কাজ করে সেই থার্ড কমিটিতে এসব কথা বলেছেন।

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ড্যাগের মৃত্যুর তদন্ত চালানোর আহ্বান

জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব ড্যাগ হ্যামারশোল্ডকে বহনকারী বিমানটি বাইরের কোনো আক্রমণের শিকার হয়ে ভূপতিত হওয়ায় তাঁর এবং তাঁর সহযাত্রীদের মৃত্যু হয়েছিল এমন সম্ভাবনা নাকচ করে দেওয়া যায় না।

ঐ বিমান ভূপতিত হওয়ার বিষয়ে নতুন পাওয়া তথ্যগুলো পর্যালোচনার জন্য জাতিসংঘের গঠিত একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি জাতিসংঘের বর্তমান মহাসচিব অ্যান্টোনিও ‍গুতেরেস গত বুধবার পঁচিশে অক্টোবর সাধারণ পরিষদের সভাপতির কাছে হস্তান্তর করেছেন।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন