১:০৩:৪৪

জাতিসংঘের নতুন উদ্যোগ 'সবার আগে শিক্ষা'

শুনুন /

প্রত্যেকটি শিশুর স্কুলে যাওয়া নিশ্চিত করতে জাতিসংঘ মহাসচিবের নতুন উদ্যোগে প্রায় দেড়শো কোটি ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

'সবার আগে শিক্ষা' বা 'এডুকেশন ফার্ষ্ট' নামের এই কর্মসূচীর লক্ষ্য হচ্ছে ২০১৫ সালের মধ্যে সার্বজনীন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বিশ্বকে সংগঠিত করা।

বুধবার নিউইয়র্কে এই কর্মসূচীর সূচনা করে বান কি মুন শিক্ষাকে প্রগতির জন্য অত্যাবশকীয় একটি বিষয় বলে অভিহিত করেন ।

মি বান বলেন যে শিক্ষা হচ্ছে প্রত্যেকটি সমাজনির্মাণের মূল ভিত্তি এবং দারিদ্র থেকে বেরিয়ে আসার পথ।

তিনি বলেন যে অধিকতর শিক্ষা মানে চরম দারিদ্র এবং ক্ষুধার ঝুঁকিহ্রাস, নারী ও মেয়েশিশুদের জন্য অধিকতর সুযোগসৃষ্টি, স্বাস্থ্য এবং মৌলিক পয়:ব্যবস্থার উন্নতি, এইচ আই ভি, ম্যালেরিয়া, কলেরা এবং অন্যন্য মারণব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সামর্থ্য বৃদ্ধি।

মি বান বলেন যে শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতির আসল অর্থই হচ্ছে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার সবগুলোতে অগ্রগতি অর্জন।

অনেকগুলি কোম্পানী এবং বেসরকারী কল্যাণ সংস্থা সবার আগে শিক্ষা কার্যক্রমে তাদের সমর্থনের কথা জানিয়েছে।

অষ্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, দক্ষিণ আফ্রিকা, তিমুর লেষ্টে এবং ডেনমার্কের পক্ষ থেকেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

'প্রত্যেক নারী, প্রত্যেক শিশু' কার্য্যক্রমে লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি

জাতিসংঘের এক নতুন রিপোর্টে বলা হয়েছে যে নারী ও শিশুস্বাস্থ্য বিষয়ে মহাসচিব অনুমোদিত বৈশ্বিক কর্মকৌশল শিশু ও মাতৃমুত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে সূচিত এই 'প্রত্যেক নারী, প্রত্যেক শিশু' নামের কর্মকৌশল ব্যপক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমর্থন লাভ করে।

রিপোর্টে বলা হয় যে এই বৈশ্বিক কার্য্যক্রম এপর্য্যন্ত দুই হাজার কোটি ডলারের অতিরিক্ত তহবিল সংগ্রহ করেছে।

মহাসচিব বান কি মুন নিযুক্ত একদল নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ এই কর্মকৌশলের অগ্রগতি, বাধা এবং তা দূর করার উপায়গুলোর সুপারিশ সম্বলিত এই রিপোর্টটি রচনা করেছেন। তবে, দাতাদের সাহায্য কমে যাওয়া এবং কর্মকৌশলের লক্ষ্য সবচেয়ে বেশি চাহিদাসম্পন্ন দেশগুলোতে ব্যর্থতার কারণে ২০১৫ সালের মধ্যে নারী ও শিশুস্বাস্থ্যের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নাও হতে পারে।

অ্যাফ্রিকান লিডারস ম্যালেরিয়া অ্যালায়েন্স এর নির্বাহী সচিব জয় ফুমাফি দাতা এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতি এই কার্য্যক্রমের গতি বজায় রাখার আহ্বান জানান।

জয় ফুমাফি বলেন যে আমরা এখন যে সন্ধিক্ষণে পৌঁছেছি তা হোল এমন একটা জায়গা যেখানে উন্নয়নশীল বিশ্বে অগ্রগতি অর্জনে বিপুল পরিমাণে বিনিয়োগ করা হয়েছে। আর এসব বিনিয়োগ যদি রক্ষা করা না যায় তাহলে এসব দেশ আবার পিছনের দিকে যেতে শুরু করবে।

তিনি বলেন যে সেরকমটি হলে পরবর্ত্তী দশ বছরে সেসব দেশকে আবার টেনে তোলা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

জয় ফুমাফি বলেন যে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে এখন প্রশ্ন হচ্ছে নারী ও শিশু স্বাস্থ্যের বিষয়ে তহবিল যোগান দেওয়ার সামর্থ্য আমাদের আছে কীনা সেটা নয় বরং, এই বিনিয়োগ না করাটা আমরা সইতে পারবো কীনা।

তিনি বলেন যে ভারত, নাইজেরিয়া এবং ব্রাজিলের মতো মধ্য আয়ের দেশগুলোর দিকে আরো দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।

গ্রামীণ নারীদের জন্য জাতিসংঘের চারটি সংস্থার যৌথ কর্মসূচী

অর্থনৈতিক সম্পৃক্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রসার ঘটানোর একটি কর্মসূচীর মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘের চারটি প্রতিষ্ঠান যৌথ কার্য্যক্রম হাতে নিয়েছে।

কোন কোন দেশে কৃষিশ্রমের সত্তুর শতাংশই হচ্ছে নারী।

পাঁচবছরের এই কর্মসূচীর লক্ষ্য হচ্ছে তাদের আয়বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেতৃত্বের পর্য্যায়সহ সেগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো।

জাতিসংঘের নারী বিষয়ক সংস্থা , ইউ এন উইমেন, কৃষি ও খাত্য বিষয়ক সংস্থা এফ এ ও , আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল, আই এফ এ ডি এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচী , ডাব্লু এফ পি এই কার্য্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।

মুক্ত সমাজ গঠনে উদ্যোগ দ্বিগুণ করার আহ্বান

মুক্ত সমাজের প্রতি আস্থা রেখে তার উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্যোগ দ্বিগুণ করা প্রয়োজন বলে বলেছেন বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন।

তিনি বলেন যে রাজপথের সহিংসতা, সিরিয়ার রক্তাক্ত গৃহযুদ্ধ সহ বিশ্বব্যাপী যেসব ঘটনা ঘটছে তাতে কারো ভূল সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে মি ক্যামেরন বলেন গণতন্ত্রের পথে সমস্যা থাকলেও তা থেকে মুখ ফেরানো চলবে না ।

মি ক্যামেরন বলেন যে গণতন্ত্র মানে শুধুমাত্র নির্বাচন অনুষ্ঠান নয়। এটা একজনের একবার এক ভোট তা নয়।

গণতন্ত্র হচ্ছে প্রকৃত গণতন্ত্রের জন্য একের পর এক ভিত্তিস্থাপন – বিচারবিভাগের স্বাধীনতা, আইনের শাসন, সংখ্যালঘুর অধিকার রক্ষায় সংখ্যাগরিষ্ঠের ঐক্যবদ্ধ সংগ্রামের প্রস্তুতি, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, সমাজে সেনাবাহিনীর উপযুক্ত স্থান দেওয়া, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল এবং বৃহত্তর নাগরিক সমাজের উন্নয়ন।

ঐশ্বরিয়া হলেন ইউ এন এইডসের শুভেচ্ছা দূত

ভারতীয় অভিনেত্রী ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চনকে জাতিসংঘের এইচ আইভি এবং এইডস বিষয়ক যৌথ কার্য্যক্রমের জন্য শুভেচ্ছা দূত নিয়োগ করা হয়েছে।

এইচ আই ভি সংক্রমিত শিশু জন্মের হার হ্রাস করা এবং ভাইরাসে আক্রান্ত নারীদের ক্ষমতায়নের উদ্যোগকে জোরদার করার লক্ষ্যে তিনি কাজ করবেন।

সাবেক বিশ্বসুন্দরী ঐশ্বরিয়া রায় হিন্দী, বাংলা, তামিলএবং ইংরেজী ভাষাসহ অনেকগুলি ভাষায় চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন