১৩:২৬:২৩

রোহিঙ্গা সংকটের কারণ বহুযুগের বিদ্বেষমূলক প্রচারণা

শুনুন /

 ইয়াংঘি লি

মিয়ানমারের লোকজনের মধ্যে বহুযুগ ধরে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ঘৃণা এবং সহিংসতার উস্কানিমূলক কথাবার্তার চর্চা চলে এসেছে উল্লেখ করে জাতিসংঘের একজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ সংকট সমাধানে অবিলম্বে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য  নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রাখাইন রাজ্যের সমস্যা যে শুধু কয়েক যুগ ধরে ঘনীভূত হয়েছে তাই নয়, এর প্রভাব মিয়ানমারের সীমান্তের বাইরেও বিস্তৃত হয়েছে। অনেকদিন ধরেই বিষয়টি আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীন বিষয় নয়।

মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ র‌্যাপোর্টিয়ার ইয়াংঘি লি  জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের যে কমিটি মানবাধিকার, সামাজিক এবং মানবিক বিষয়সমূহ নিয়ে কাজ করে সেই থার্ড কমিটিতে এসব কথা বলেছেন।

তিনি বলেন বহু দশক ধরে মিয়ানমারের জনসাধারণের মধ্যে এমন ধারণা প্রচার করা হয়েছে যে রোহিঙ্গারা দেশটির আদিবাসী নয় এবং সেকারণে তারা যেসব অধিকার দাবি করে সেগুলো তাদের প্রাপ্য নয়।

বিশেষ দূত বলেন যে পরিস্থিতি এতোটাই গুরুতর যে রোহিঙ্গাদের নিজস্ব জীবন গড়ে নেওয়ার অনুকূল মর্যাদাসম্পন্ন এবং নিরাপদে ফিরে আসার মত পরিবেশ তৈরিতে সরকারের কতটা সময় প্রয়োজন হবে তা মোটেও নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

মিস ইয়াংঘি লি বলেন যে গত ২৫ শে অগাস্টের পর থেকে লাখ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমান রাখাইন রাজ্য ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেত বাধ্য হয়েছেন।

মিস লি বলছিলেন যে অথচ মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর বলেছেন যে রাখাইনের মুসলমান অধ্যূষিত অর্ধেক গ্রাম ধ্বংস হয় নি। এরপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর কমান্ডার ইন চিফ বলেছেন পালিযে যাওয়া রোহিঙ্গাদের যে সংখ্যা বলা হয়েছে তা অতিরঞ্জন। তিনি আরও বলেছেন যে যাঁরা বাংলাদেশে চলে গেছে তারা সেখানে নিরাপদ ভেবে চলে গেছে। এরপর রাখাইন রাজ্যের শরণার্থী পুর্নবাসনের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী বলেছেন জাতিগত নিধন করা হচ্ছে এমন ধারণা তৈরির ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে লাখ লাখ রোহিঙ্গা দেশ ছেড়ে গেছেন।

মিস লি বলেন যে রোহিঙ্গাদের দূর্ভোগ তাঁর প্রধান উদ্বেগের বিষয় হলেও দেশটিতে মানবাধিকারের আরও বহুবিধ সমস্যা রয়েছে। যার মধ্যে মুসলমান এবং খৃষ্টান ধর্মবিশ্বাসীদের প্রতি ধর্মীয় অসহিষ্ণুতাও অর্ন্তভুক্ত।

তিনি বলেন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে অনেক লোকের জমি দখল করে নেওয়ায় বহু জনগোষ্ঠী ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং মানবাধিকার রক্ষার জন্য তাঁরা কোনো আইনগত সেবা পাচ্ছেন না।

মিস লি মানবাধিকার তদন্তকারীদের দেশটিতে র্পূণ প্রবেশাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে মানবাধিকার লংঘনের জন্য যাঁরা দায়ী তাঁদের সবার জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন