১৪:৩০:৪৪

পরমাণু অস্ত্রের ভয়াবহতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছে নোবেল শান্তি পুরষ্কার

শুনুন /

গত জুলাইতে কার্য্যকর হয়েছে দ্য ট্রিটি অন প্রোহিবিশন অব নিউক্লিয়ার উইপন্স

পরমাণু অস্ত্র বিলোপের বিষয়ে প্রচারাভিযান পরিচালনাকারী একটি আন্তর্জাতিক সংগঠনকে চলতি বছরের নোবেল শান্তি পুরষ্কার দেওয়ার যে ঘোষণা গত শুক্রবার দেওয়া হয়েছে তা বিশ্বকে এসব অস্ত্র যে বিপর্য্যয়ের হুমকি তৈরি করেছে সে বিষয়টিকেই স্মরণ করিয়ে দিয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস এই মন্তব্য করে বলেছেন যে পরমাণু যুদ্ধের বিধ্বংসী পরিণতির কথা স্মরণ করিয়ে দিতে নাগরিক গোষ্ঠীর দৃঢ় উদ্যোগের স্বীকৃতি হচ্ছে এই পুরস্কার।

দ্য ইন্টারন্যাশনাল ক্যাম্পেইন টু অ্যাবোলিশ নিউক্লিয়ার উইপন্স , আই সি এ এন হচ্ছে চারশোটিরও বেশি বেসরকারী সংস্থার একটি জোট যার অব্যাহত প্রচারণার কারণে গত জুলাইতে প্রথমবারের মত বহুপক্ষীয় এবং আইনগত বাধ্যবাধকতার্পূণ একটি চুক্তি কার্য্যকর হয়েছে। চুক্তিটি দ্য ট্রিটি অন প্রোহিবিশন অব নিউক্লিয়ার উইপন্স নামে পরিচিত।

মহাসচিব বলেন উত্তর কোরিয়া সংকটের কারণে স্নায়ু-যুদ্ধোত্তর যুগে পরমাণু অস্ত্রের বিষয়ে উদ্বেগ যখন চরমে তখন সবদেশেরই পরমাণু অস্ত্রমুক্ত বিশ্বের প্রতি আরও জোরালো অঙ্গীকার তুলে ধরা উচিত।

একইধরণের অভিমত প্রকাশ করেন জাতিসংঘের নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ক বিশেষ দূত ইজুমি নাকামিতসু।

ইজুমি নাকামিতসু বলছিলেন যে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত একটি বিশ্বের দিকে অগ্রসর হওয়ার বিষয়টি এখন খুবই জরুরি এবং আমরা আজ যে অবস্থায় রয়েছি তার সময় এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় এই নোবেল শান্তি পুরস্কার খুবই তাৎপর্য্যর্পূণ।

বেআইনী মৎস্য শিকার বন্ধের সনদে সবদেশের অংশগ্রহণ প্রয়োজন

জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এফ এ ও'র মহাপরিচালক হোসে গ্রাজিয়ানো ডি সিলভা বলেছেন যে বিশ্বব্যাপী বেআইনী মাছ ধরা বন্ধ এবং সামুদ্রিক পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্য সবদেশেরই পোর্ট স্টেট মেজারস অ্যাগ্রিমেন্টে অংশ নেওয়া উচিত।

গত ৬ অক্টোবর, শুক্রবার মাল্টায় আওয়ার ওশান কনফারেন্সে মি ডি সিলভা এই আহ্বান জানান।

গতবছরে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে সাগরে নয়, বন্দরে মাছ ধরার জাহাজগুলোর কঠোর পরিদর্শনের বিধান রাখা হয়েছে যাতে বেআইনীভাবে মাছ শিকার ছাড়াও মাদক ও মানবপাচার রোধ করা সহজ হয়।

মি ডি সিলভা বলেন এপর্য্যন্ত পঞ্চাশটির মত দেশ চুক্তিটেতে সই করেছে। তবে, চুক্তিটি ভালোভাবে কার্য্যকর করতে এতে আরও পঞ্চাশটির মত দেশের অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

এফএও স্বল্পোননত দেশগুলোতে ছোট আকারের মৎস্যখামারে প্রযুক্তিগত, বৈজ্ঞানিক এবং আইনগত সহায়তা দেওয়ার জন্য তার ভাষায় বড় অংকের তহবিল বরাদ্দ করেছে।

অপুষ্টির সমস্যা মোকাবেলায় জাতিসংঘের তিন সংস্থার উদ্যোগ

জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা তাদের ভাষায় অপুষ্টির দ্বিগুণ বোঝা মোকাবেলায় সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

জাতিসংঘের পরমাণু শক্তি বিষয়ক সংস্থা, আই এ ই এ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডাব্লু এইচ ও এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল, ইউনিসেফ ভিয়েনায় অপুষ্টিজনিত চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবেলার বিষয়ে এক আলোচনার আয়োজন করে।

এতে বিশ্বের ত্রিশটি দেশের প্রায় পঞ্চাশজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অংশ নিচ্ছেন।

আই এ ই এ বলছে যে বিশ্বে খাদ্যজনিত রোগের বিস্তার ঘটছে মহামারির  মত, যার পিছনে কারণ হচ্ছে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, নগরায়ন এবং খাদ্যাভ্যাস বদল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে বিশ্বে একশো নব্বুই কোটি মানুষ স্থূলকায় বা তাদের ওজন বেশি আর বাষট্টি কোটি কুড়ি লাখ মানুষের ওজন কম।

জাতিসংঘের হিসাবে বিশ্বের সাড়ে পনেরো কোটি পাঁচবছরের কম বয়েসী শিশু তাদের বয়সের তুলনায় খর্বকায়, পাঁচ কোটি কুড়ি লাখের উচ্চতা অনুযায়ী ওজন কম এবং চার কোটি দশ লাখের ওজন বেশি।

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘের আরও  অর্থের আহ্বান

মিয়ানমার থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের জন্য আরও বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী র্মাক লোকক।

শুক্রবার তিনি জেনেভায় বলেন যে আশ্রয়প্রার্থীদের আসা অব্যাহত আছে এবং এটি বিশ্বের দ্রুততম সময়ে সৃষ্ট শরণার্থী সংকট।

অগাস্ট মাসের শেষদিকে মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে উগ্রপন্থী হামলার পর শুরু হওয়া নিরাপত্তা অভিযানের কারণে এই শরণার্থীপ্রবাহ শুরু হয়।

মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে পালিয়ে আসা এসব শরণার্থীদর দেখে আসার পর মানবিক সহায়তার দায়িত্বে নিয়োজিত জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব র্মাক লোকক জেনেভায় সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

জাতিসংঘের নারীর জন্য মহাকাশ কর্মসূচি

মহাকাশে নারীর অবস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জাতিসংঘ একটি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। নারীর জন্য মহাকাশ , স্পেস ফর উইমেন নামের এই প্রকল্পটির উদ্যোক্তা হচ্ছে ইউএন অফিস ফর আউটার স্পেস অ্যাফের্য়াস বা ইউ এন ও ও এস এ।

এই উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত এই চারটি বিষয় যা তথাকথিত এস টি ই এম বিষয় হিসাবে পরিচিত, সেগুলোতে  বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো। আর, এই বিষয়টি নিয়েই শুক্রবার জাতিসংঘ সদরদপ্তরে মহাকাশচারী, কূটনীতিক, নীতিনির্ধারক ও বিশেষজ্ঞরা এক বৈঠকে মিলিত হন।

মহাকাশ গবেষণায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এস ডি জি অর্জনে মহাকাশ বিজ্ঞান কিভাবে সহায়ক হতে পারে সেসব বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা করা হয়।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন