১৪:০৯:৩২

রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় জাতিসংঘের আরও অর্থের আহ্বান

শুনুন /

মিয়ানমার থেকে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া পাঁচ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের জন্য আরও বেশি আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী র্মাক লোকক।

শুক্রবার তিনি জেনেভায় বলেন যে আশ্রয়প্রার্থীদের আসা অব্যাহত আছে এবং এটি বিশ্বের দ্রুততম সময়ে সৃষ্ট শরণার্থী সংকট।

অগাস্ট মাসের শেষদিকে মিয়ানমারে রাখাইন রাজ্যে উগ্রপন্থী হামলার পর শুরু হওয়া নিরাপত্তা অভিযানের কারণে এই শরণার্থীপ্রবাহ শুরু হয়।

মিয়ানমারের সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে পালিয়ে আসা এসব শরণার্থীদর দেখে আসার পর মানবিক সহায়তার দায়িত্বে নিয়োজিত জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব র্মাক লোকক জেনেভায় সাংবাদিকদের কাছে পরিস্থিতির বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

একটি ত্রাণ শিবিরে মি লোকক এগারো-বছর বয়েসী এক বালকের দেখা পান যে তার অসুস্থ ছোট বোনকে কোলে নিয়ে তার দেখাশোনা করছিল। তারা দুজনেই রাখাইন রাজ্যে তাদের বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এসেছে।

মি লোকক বলছিলেন যে ছেলেটির মা এবং তারা চার ভাইবোন তাদের গ্রাম জ্বালিয়ে দেওয়ার কারণে সেখান থেকে পালিয়ে যাত্রা শুরুর পর নয়দিন সময় চলে গেছে। যাত্রাপথেই তাদের মায়ের মৃত্যু হয়েছে। এখন তার ভাইবোনদের দায়িত্ব এই ছোট ছেলেটিরই, যাদের মধ্যে আছে আড়াই বছরের এক বোন যে মারাত্মক পুষ্টিহীনতার শিকার।

জাতিসংঘের এই অধিকর্তা কিছু নারীরও সাক্ষাৎ পেয়েছেন যাঁদেরকে তাঁদের সামনেই তাঁদের স্বামীদের গুলি করে হত্যার দৃশ্য দেখতে বাধ্য করা হয়েছে।

অবিলম্বে এসব সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মি লোকক রাখাইন রাজ্যে ত্রাণকর্মীদের অবাধে যেতে দেওয়ার সুযোগ দিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

মি লোকক বলেন যে আগামী কয়েক মাসের জন্য তাঁদের ৪৩ কোটি চল্লিশ লাখ ডলার সাহায্যের প্রয়োজন হবে।

এদিকে, জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা, ইউ এন এইচ সি আর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য আগামী ছয় মাসের জন্য আট কোটি সাঁইত্রিশ লাখ ডলারের অতিরিক্ত তহবিল প্রয়োজন বলে জানিয়েছে।

শরণার্থীদের সংখ্যা এবং বাস্তুচ্যূতির দ্রুততার কারণে ইউ এন এইচ সি আর এই সংকটকে সর্বে্বাচ্চ তৃতীয় স্তরের জরুরি অবস্থা হিসাবে ঘোষণা করেছে। সংস্থার মুখপাত্র আ্যান্ড্রেজ মাহেসিচ জানিয়েছেন তাঁরা ইতোমধ্যে পাঁচটি বিমানযোগে পাঁচশো মেট্রিক টন ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে। আরও ত্রাণ বিমানযোগে পাঠানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডাব্লু এইচ ও বলেছে যে প্রায় নয় লাখ মানুষের মধ্যে জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা সেবার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য অংশীদার সংস্থার সঙ্গে মিলে ইতোমধ্যে এক লাখ পঁয়ত্রিশ হাজার শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। বাহাত্তর হাজার শিশুকে দেওয়া হয়েছে পোলিও টিকা। আর সমানসংখ্যক শিশুর জন্য ভিটামিন এ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও সংস্থাটি জানিয়েছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন