১৬:০৬:৩৪

আর্থিক সংকটের বোঝা দরিদ্রদের ওপর না চাপানোর আহ্বান

শুনুন /

আর্থিক সংকটের বোঝা দরিদ্রদের ওপর না চাপানোর জন্য বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন।

সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজি অর্জনের ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে গঠিত টাস্ক ফোর্সের প্রতিবেদন ২০১২ প্রকাশের সময় তিনি এই মন্তব্য করেন।
উন্নয়ন অংশীদারিত্ব শক্তিশালী করার লক্ষ্যে পাঁচ বছর আগে এই টাস্ক ফোর্স গঠিত হয়েছিলো।

২০০০ সালে বিশ্বনেতারা যে আটটি বিষয়ে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলেন তার মধ্যে একটি ছিলো দারিদ্র, রোগ এবং নারী-পুরুষের বৈষম্য মোকাবেলার মাধ্যমে মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।

মহাসচিব স্মরণ করেন যে গত মার্চে তিনি এক্ষত্রে বড়ধরণের অগ্রগতি অর্জনের কথা জানিয়েছিলেন।

মি বান বলেন যে দারিদ্র, পানি, বস্তি এবং প্রাথমিক শিক্ষার ক্ষেত্রে ছেলে এবং মেয়েদের মধ্যে সাম্যের মত অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যঅর্জিত হয়েছে। কিন্তু, বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব বা সহযোগিতার ক্ষেত্রে অগ্রগতি দূর্বল। বহুবছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো গতবছর উন্নয়ন সহায়তা কমেছে।

মি বান বলেন যে আর্থিক কৃচ্ছতার বোঝা দেশে অথবা বিদেশে দরিদ্রদের ওপর না চাপানোর জন্য আমি আবারও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাতে চাই।
যেসব দাতা সার্বিক বাজেটে কাটছাট করা সত্ত্বেও সাহায্যের পরিমাণ বাড়িয়েছে অথবা অপরিবর্তিত রেখেছে তিনি তাঁদের প্রশংসা করেন।

মিয়ানমারের বন্দী মুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছে জাতিসংঘ

মিয়ানমার সরকার বিবেকের বন্দীদের মুক্তি দেওয়ায় তাকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জাতিসংঘের নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞ।

মিয়ানমারে প্রেসিডেন্টের ক্ষমা ঘোষণার ফলশ্রুতিতে এঁদেরকে মুক্তি দেওয়া হয় বলে জানাচ্ছেন জাতিসংঘ রেডিওর সংবাদদাতা ডন বব।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ টমাস ওযিয়া কুইন্টানা মিয়ানমারের অবশিষ্ট সব বিবেকের বন্দীদের নিশর্ত মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে এঁদের মুক্তি এবং পুনর্বাসনের বিষয়টি সংস্কারের শীর্ষে থাকা প্রয়োজন।

সহিংসতা এবং অস্থিরতার পটভূমিতে বসছে সাধারণ পরিষদ

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে অসহিষ্ণুতার কারণে বিশ্বব্যাপী ব্যাপকভিত্তিক সহিংসতার এক পটভূমিতে চলতিবছরের সাধারণ পরিষদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৭তম অধিবেশনের বিষয়ে বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন যে এবছরের সাধারণ বিতর্কে অস্থিরতা এবং পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটবে।

মি বান বলেন যে অসহিষ্ণুতার সাথে সম্পৃক্ত ব্যাপকভিত্তিক সহিংসতার এক পটভূমিতে চলতিবছরের সাধারণ পরিষদ অধিবেশন শুরু হচ্ছে।

মি বান বলেন যে যারা ঘৃণা এবং গোঁড়ামির দ্বারা অন্যদেরকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উস্কানি দেয় আমি আবারো তাদের নিন্দা করি।

তিনি বলেন যে এধরণের উস্কানির জবাবে পরিস্থিতি আরো উস্কে দিচ্ছে যারা তাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠগুলোর সাথে আমিও কন্ঠ মিলাতে চাই।

মি বান বলেন যে এখন দায়িত্ববান রাজনৈতিক এবং সামাজিক নেতাদের শান্ত থাকা এবং ধৈর্য্য দেখানোর সময়।

মি বান জানান যে বুধবার পর্য্যন্ত ১২৩ জন সরকার বা রাষ্ট্রপ্রধান অথবা উপ-প্রধানমন্ত্রী বা পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অধিবেশনে বিতর্কে অংশ নেবার কথা নিশ্চিত করেছেন।

সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে কর্মপরিকল্পনা

সশস্ত্র সংঘাতে শিশুদের ব্যবহার বন্ধে বিশ্বব্যাপী কুড়িটিরও বেশী কর্মপরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে। সশস্ত্র সংঘাত এবং শিশুদের বিষয়ে সহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধি লেইলা যেরুগি বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে এই তথ্য পেশ করেছেন।

তিনি বলেন যে নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত এই কর্মপরিকল্পনা অনন্যসাধারণ একটি হাতিয়ার যা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এটি মানাতে পারছে এবং শিশুদের ওপর সহিংসতাও বন্ধ হচ্ছে।

লেইলা যেরুগি বলছিলেন যে ২০১১ সালে আফগানিস্তান, মধ্য আফ্রিকা প্রজাতন্ত্র এবং চ্যাডে কর্মপরিকল্পনা স্বাক্ষরিত হয়েছে। আর এবছরে তা স্বাক্ষরিত হয়েছে দক্ষিণ সুদান, মায়ানমার এবং সোমালিয়ায়। সোমালিয়ায় শিশু হত্যা এবং তাদের পঙ্গু করে দেওয়া বন্ধে টি এফ জে গত অগাষ্টে প্রথম কর্মপরিকল্পনা সই করে।

লেইলা যেরুগি বলছিলেন যে এপর্যন্ত কুড়িটি কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন হয় সম্পন্ন হয়েছে নয়তো তা বাস্তবায়িত হচ্ছে।

শিশুদের সৈন্য হিসাবে ব্যবহার, তাদেরকে হত্যা, জখম, ধর্ষণ, অপহরণ এবং স্কুল ও হাসপাতালে হামলা পরিচালনার কঠোর নিন্দা করে নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়।

বুড়িয়ে যাচ্ছে ইউরোপীয় জনগোষ্ঠী

জাতিসংঘের ইউরোপীয় অর্থনৈতিক কমিশন বলছে যে ইউরোপে ক্রমবর্ধমান হারে বৃদ্ধদের সংখ্যা বাড়তে থাকায় তা এই অঞ্চলের সরকারগুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

কমিশন বলছে যে জনগোষ্ঠীর চৌদ্দ শতাংশের বেশি মানুষের বয়স এখন ৬৫ এর উপরে এবং ২০৩০ সাল নাগাদ তা বেড়ে দাঁড়াবে কুড়ি শতাংশে।

ইউ এন ই সি ই'র নির্বাহী সচিব সোয়েন আলকালজ বুড়িয়ে যাওয়া জনগোষ্ঠী যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে সেগুলোর উল্লেখ করেন।

মি আলকালাজ বলছিলেন যে প্রথমত সুরক্ষা ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করতে হয় যেটির প্রধান প্রভাব দেখা যাবে পেনশনব্যবস্থায় – প্রধানত বড় সংখ্যার কারণে।

দ্বিতীয়ত শ্রমবাজারে সমন্বয়ের প্রশ্ন যেখানে অবসরের বয়স ৬৫'র উপরে বাড়ানোর জন্য চাপ তৈরি হচ্ছে এবং কোন কোন দেশে তা ইতোমধ্যেই ৬৭তে উন্নীত হয়েছে। এর ফলে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাতেও ভিন্নধরণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন