মজুরি কমিয়ে প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয় : আঙ্কটাড
জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা , আঙ্কটাডের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে সম্পদ এবং আয়ের বৈষম্য কমলে তা শুধু সামাজিকক্ষেত্রে সুফল বয়ে আনবে তা নয় , বরং তা বৃহত্তর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাবে।
বুধবার প্রকাশিত পলিসিজ ফর ইনক্লুসিভ এন্ড ব্যালান্সড গ্রোথ শীর্ষক রিপোর্টটিতে আয় বৈষম্যের ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়। এতে বলা হয় যে উন্নত দেশগুলোতে আর্থিক কৃচ্ছতা এবং মজুরী সংকোচন ঘাটতি হ্রাস, চাকরি সৃষ্টি কিম্বা আর্থিক বাজারগুলোতে আস্থা সৃষ্টি করতে না পারলেও প্রবৃদ্ধির গতিকে দূর্বল করে দিচ্ছে।
আঙ্কটাডের অন্যতম একজন পরিচালক, হেইনার ফ্লাসবেক বলেন যে আমরা আপাতদৃশ্যে একটা স্ববিরোধী পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি যেখানে মজুরির পরিমাণ খুবই কম, কিন্তু, একইসাথে সেখানে বেকারত্বও বাড়ছে।
মি ফ্লাসবেক বলেন যে এই প্রবণতা প্রধানত উন্নত বিশ্বে দেখা গেলেও বেশ কিছু উন্নয়নশীল দেশেও তেমনটি দেখা যাচ্ছে – যা শ্রমিকদের আয়ের ওপর চাপ ফেলছে।
তিনি বলেন যে এটা অর্থনীতিগুলোর প্রবৃদ্ধি অর্জনের পটভূমিকে ধ্বংস করে দিচ্ছে – কেননা বিশ্ব এবং উন্নত দেশগুলো এখন একে অন্যের সাথে খুবই ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত। সুতরাং, মজুরি কমিয়ে রপ্তানী এবং প্রতিদ্বন্দিতার ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব নয়।এটা এভাবে কাজ করে না।
আঙ্কটাড রিপোর্টে বলা হয় যে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ২০১১ সালে তার আগের বছরের চার দশমিক এক শতাংশ থেকে কমে দুই দশমিক সাত শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ২০১২ সালে এই প্রবৃদ্ধির হার আরো কমে আড়াই শতাংশে দাঁড়াবে।
লিবিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে হত্যার নিন্দা
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ লিবিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এবং দূতাবাসের অপর তিন কর্মকর্তাকে হত্যার ঘটনার কঠোর সমালোচনা করেছে।
অজ্ঞাতপরিচয় অস্ত্রধারীদর হামলায় রাণ্ট্রদূত জে ক্রিষ্টোফার ষ্টিভেন্স এবং অন্যরা নিহত হন।
নবী মুহম্মদকে অবমাননা করে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি করা একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ একদল লোক রাতের বেলায় বেনগাজিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনসুলেট ভবনে হামলা চালায় বলে বিভিন্ন খবরে বলা হয়।
'প্রতি চল্লিশ সেকেন্ডে একজনের আত্মহত্যা '
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডাব্লু এইচ ও বলছে যে পৃথিবীতে প্রতি চল্লিশ সেকেন্ডে একজন আত্মহত্যা করছেন – যার ফলে বছরে আত্মহত্যার সংখ্যা দশ লাখে গিয়ে পৌঁছেছে।
ডাব্লু এইচ ও বলছে যে আত্মহত্যায় মৃত্যুর সংখ্যা খুন, সংঘাত এবং যুদ্ধের প্রাণহানির মোট সংখ্যার চেয়েও বেশী – কিন্তু লজ্জা আর নীরবতার কারণে তা চাপা পড়ে থাকে।
এই সমস্যার প্রতি আলোকপাত করার লক্ষ্যেই প্রতিবছর দশই সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক আত্মহনন প্রতিরোধ দিবস পালন করা হচ্ছে।ডাব্লু এইচ ও'র মানসিক স্বাস্থ্য বিভাগের পরিচালক, ডঃ শেখর সাক্সেনা বলেন যে আত্মহনন জনগণের দৃষ্টির আড়ালেই থেকে যায়।
ডঃ সাক্সেনা বলেন প্রতিবছর প্রায় দশ লাখ লোক আত্মহত্যা করছেন আর আর এর কুড়ি গুণ বেশি লোক আত্মহত্যার চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন যে যাঁরা আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তাঁদের ওপর এর মানসিক এবং দৈহিক প্রভাবটা আরো বেশি এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়।
মি সাক্সেনা জানান যে পুরুষদের চেয়ে বেশি সংখ্যায় মহিলা আত্মহত্যার চেষ্টা করলেও আত্মহত্যায় পুরুষেরাই সফল হন বেশি।
তিনি বলেন যে বিশ্বের বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক সমস্যার কারণেই আত্মহত্যার বিষয়টি এখন আরো বেশি করে সবার নজর কাড়ছে।
নারী স্বাক্ষরতা পারিবারিক জীবনকে উন্নত করে : ইউনেস্কো
জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান এবং সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা, ইউনেস্কো বলছে যে নারী স্বাক্ষরতা শিশুদের কল্যাণ এবং উন্নয়ন প্রসারে সহায়ক। আর এই বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করতেই প্রতিবছর আটই সেপ্টেম্বর পালিত হয়ে থাকে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবস।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী বিশ্বে প্রায় সাড়ে সাতাত্তুর কোটি মানুষ – যাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠই হলেন কিশোরী এবং নারী এখনও লিখতে এবং পড়তে পারেন না।
ইউনেস্কোর স্বাক্ষরতা বিভাগের প্রধান, সুব্বারাও ইলাপাভুলুরি বলেন যে স্বাক্ষরতা মানুষের ক্ষমতায়ন করে থাকে।
মি ইলাপাভুলুরি বলেন যে অজস্র প্রমাণে দেখা যায় যে একজন স্বাক্ষর মায়ের সন্তানও স্বাক্ষর হয় এবং এটা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বজায় থাকে। আর তা জীবনমানের ক্ষেত্রেও গুণগত প্রভাব ফেলে থাকে।
মি ইলাপাভুলুরি বলেন যে মানব উন্নয়নের বিভিন্ন সূচক- যেমন প্রসূতিমৃত্যু, শিশু মৃত্যু কিম্বা শিশু স্বাস্থ্য এবং শিশু পুষ্টির ক্ষেত্রে এর গভীর প্রভাব দেখা যায়।
এবছরে আন্তর্জাতিক স্বাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য ছিলো স্বাক্ষরতা এবং শান্তি।
সিদ্ধান্তগ্রহণে ভূমিকা চান প্রতিবন্ধীরা
অধিকার বিষয়ক সব সনদগুলোর বাস্তবায়নের সব পর্য্যায়ে প্রতিবন্ধীরাও অংশ নিতে চান বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক প্রতিবন্ধী জোটের চেয়ারপার্সন ইয়ানিস ভার্দাকাস্তানিস।
চার বছর আগে গৃহীত প্রতিবন্ধীদের অধিকার বিষয়ক সনদের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর এক সম্মেলনে বুধবার নিউইয়র্কে মি ভার্দাকাস্তানিস বলেন যে বিশ্বের সব জায়গায় এই সনদের পক্ষে প্রচারণা চালিয়ে জাতিসংঘ নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।
চলতি সম্মেলনে প্রতিবন্ধী নারী এবং শিশুদের ওপর বিশেষভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে।
'নতুন নেতৃত্বকে সোমালীদের মন জয় করতে হবে'
জাতিসংঘের একজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে সোমালিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্বের এখন উচিৎ হবে জনগণের মনজয় করার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া।
সোমালী পার্লামেন্টে নতুন প্রেসিডেন্ট এবং স্পীকার নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়ে সোমালিয়ার মানবাধিকার পরিস্থিতির বিষয়ে জাতিসংঘের পর্য্যবেক্ষক ডঃ শামসুল বারী বলেন যে সব সোমালীর মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি নতুন সোমালিয়া গড়ে তোলার সুযোগটিকে নতুন সরকার কাজে লাগাবেন।
মি বারী বলেন যে খোলাখুলিভাবে এবং স্পষ্ট করে বললে বলতে হবে যে সোমালিয়ার জনগণের মনজয় করাতেই এখন অগ্রাধিকার দিতে হবে।আমার মনে হয় গত দুই দশকে কেউই জনগণের কথা বিবেচনায় নেন নি।
মি বারী বলেন যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি এমনই ছিলো যে নেতারা কেবল নিজেদের নিরাপত্তা এবং অবস্থান টিকিয়ে রাখাতেই সচেষ্ট ছিলেন এবং জনগণের স্বার্থে প্রশাসন বলে কিছু ছিলো না। জনগণের জন্য কোন সেবার ব্যবস্থা একেবারেই ছিলো না বলা চলে।
তিনি বলেন যে সোমালিয়ার সামনে যদিও এখন অনেক চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান, তবুও নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন একটা শুভ সূচনা।