১৯:০৯:৪৭

সংঘাতকালীন নাগরিক সুরক্ষার দায়িত্ব পরীক্ষার মুখোমুখি: বান

শুনুন /

সংঘাতকালীন ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্বের ধারণা প্রয়োগের বিষয়ে মতবিরোধকে কেন্দ্র করে তাদেরকে জিম্মী করা উচিৎ নয়।

বুধবার এবিষয়ে জাতিসংঘে মহাসচিব বান কি মুন তাঁর রিপোর্ট পেশ করার সময় এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন যে ২০০৫ সালে শীর্ষ সম্মেলনে এই ধারণাটি অনুমোদিত হওয়ার ঘটনা শুধু জাতিসংঘের জন্য নয় বিশ্বসম্প্রদায়ের জন্য ছিলো একটি অর্জন।

মি বান বলেন বেসামরিক নাগরিকদের রক্ষার দায়িত্ব বিষয়ক এই ধারণা বাস্তবে প্রয়োগের বিষয়টি এখন এক পরীক্ষার সম্মুখীন।

মি বান বলেন যে সিরিয়া থেকে আসা ভয়াবহ ছবি এবং খবরগুলো আপনারা সবাই দেখেছেন। বেসামরিক লোকদের ওপর আকাশ থেকে বোমাবর্ষণ, মৃত সন্তানের লাশ হাতের ওপর ধরে রেখে মায়ের আহাজারি।

মি বান বলেন যে আমাদের জাতিগোষ্ঠীর জন্য নিষ্ক্রিয়তা কোন পথ নয়। সেখানকার জনগোষ্ঠী যখন এধরণের মারত্মক অপরাধ এবং অন্যায়ের শিকার হচ্ছে তখন আমরা দর্শক হয়ে থাকতে পারি না।মি বান বলেন যে আমাদেরকে অবশ্যই জাতিসংঘের মূল দায়িত্ব উর্ধে তুলে ধরতে হবে।

অগাষ্টে লক্ষাধিক শরণার্থী সিরিয়া ছেড়েছে : ইউ এন এইচ সি আর

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, ইউ এন এইচ সি আর জানিয়েছে যে অগাষ্ট মাসে সিরিয়া থেকে লক্ষাধিক নাগরিক দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।

ইউ এন এইচ সি আর বলছে যে দুই লাখ চৌত্রিশ হাজার সিরীয় শরণার্থী বর্তমানে প্রতিবেশী রাষ্ট্র জর্ডান, লেবানন, ইরাক এবং তুরস্কে অবস্থান করছে।

ইউ এন এইচ সি আর'র মুখপাত্র মেলিসা ফ্লেমিং জানান যে সিরীয় রেডক্রস বাস্তুচ্যূত পরিবারগুলোকে খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক সামগ্রী কেনার জন্য নগদ টাকা দেওয়া শুরু করেছে।

বিশ্বে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যের ঝুঁকি বাড়ছে

জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, ইউ এন ই পি'র প্রকাশিত এক নতুন গবেষণায় বলা হয়েছে যে রাসায়নিক দ্রব্যের ক্রমবর্ধমান অপব্যবহারের কারণে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বাস্থ্য এবং পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

গ্লোবাল কেমিক্যালস আউটলুকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয় যে সাব-সাহারান আফ্রিকায় ছোট আকারের কৃষিখামারে কীটনাশকের অপব্যবহারের ফল হিসাবে অসুস্থতার কারণে ২০২০ সাল নাগাদ মোট ক্ষতির পরিমাণ নয় হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাবে।

ইউ এন ই পির সিলভি লেমেট বলেন যে রাসায়নিকদ্রব্য ব্যবহারের উপকার পাওয়ার জন্য জনস্বাস্থ্য এবং পরিবেশের ক্ষতি গ্রহণযোগ্য নয়।

মিস লেমেট বলেন যে বিপুল পরিমাণে রাসায়নিক দ্রব্য উৎপাদন এবং সমাজে ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর অপব্যবহারের কারণে যে মাত্রায় ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার ঝুঁকি তৈরী হয়েছে তাতে এগুলোর নিরাপদ ব্যবস্থাপনায় সরকার এবং বেসরকারী খাতের এখনই নজর দেওয়া প্রয়োজন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডাব্লু এইচ ও'র হিসাব অনুযায়ী রাসায়নিক সামগ্রীর সংস্পর্শে আসার কারণে বিশ্বে বছরে পঞ্চাশ লাখ লোকের মৃত্যু ঘটছে।

বিশ্বে যুব-বেকারত্বের হার বৃদ্ধির পূর্বাভাষ

তরুণদের চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিকূলতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, আই এল ও।

মঙ্গলবার প্রকাশিত এক রিপোর্টে আইএলও বলছে যে ইউরোপীয় অভিন্ন মুদ্রা, ইউরোর সংকটের প্রভাব পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকা পর্য্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে।

আই এল ও'র বৈশ্বিক কর্মসংস্থান প্রবণতা বিভাগের প্রধান এবং রিপোর্টটির রচয়িতা, একহার্ড আরনেষ্ট বলেন  যে গত জানুযারীতে আমাদের পূর্বাভাষ ছিলো যে আগামী চার থেকে ছয় বছরে বিশ্বে যুব-বেকারত্বের হার কমবে।এখন আমরা দেখছি যে অর্থনৈতিক অবস্থার অবনতির কারণে বিশ্বে যুব-বেকারত্ব বাড়বে।

চলতি বছরে এই হার হচ্ছে ১২ দশমিক সাত শতাংশ এবং আগামী পাঁচ বছরে তা বেড়ে দাঁড়াবে ১২ দশমিক নয় শতাংশে।

মি আরনেষ্ট বলেন যে দু:খজনকভাবে যেসব উন্নত দেশে সংকটের সূত্রপাত হয়েছে সেসব দেশেও যুব-বেকারত্ব বাড়ছে।

খাদ্য সংকটের আশংকা মোকাবেলায় বৈশ্বিক উদ্যোগের আহ্বান

জাতিসংঘের তিনটি সংস্থা ২০০৭ এবং '০৮ সালের মতো খাদ্য সংকটের পুনরাবৃত্তির আশংকায় আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এফ এ ও, আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল , আই এফ এ ডি এবং বিশ্ব খাদ্য সংস্থা, ডাব্লু এফ পি'র প্রধানরা মঙ্গলবার এক যুক্ত বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান।

মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা আগামী মাসগুলোতে যেন কোটি কোটি মানুষের জন্য একটা বিপর্য্যয় হয়ে না দাঁড়ায় সেজন্যে জরুরীভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য তাঁরা এইবিবৃতিতে আহ্বান জানান।

খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আতঙ্কগ্রস্তের মতো খাদ্যক্রয় থেকে বিরত থাকা এবং রপ্তানীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার জন্যও তাঁরা সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান।

গত পাঁচবছরে তিনবার খাদ্যদ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসাবে আবহাওয়াকে চিহ্ণিত করে তাঁরা হুঁশিয়ারী দেন যে যতোক্ষণ পর্য্যন্ত খাদ্য ব্যবস্থাপনাকে আত্ঙ্কমুক্ত এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় সক্ষম করে তোলা না যাবে ততোদিন পর্য্যন্ত এই বিপদ রয়েই যাবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন