বিশ্ব আদিবাসী দিবসে কাঠগড়ায় গণমাধ্যম
আদিবাসীদের অবস্থান সম্পর্কে সচরাচর যেসব অভিযোগ পাওয়া যায় সেগুলো যে কতো নিষ্ঠুর প্রকৃতির তার একটি ধারণা হচ্ছে এরকম যে 'আদিবাসী লোকজনের খবর পত্রিকার প্রথম পাতায় কেবল তখনই ছাপা হয় যখন তাঁদের কেউ মারা যান'। কথাগুলো বলেছেন আদিবাসী বিষয়ে জাতিসংঘের স্থায়ী ফোরামের প্রধান চন্দ্রা রয় হেনরিকসেন।
প্রতিবছর ৯ অগাষ্ট পালিত হয় আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস আর এবছর এই দিবসের প্রতিপাদ্য হচ্ছে আদিবাসীদের প্রতি গণমাধ্যমের দৃষ্টিভঙ্গী। এতে শুধু তাদেরকে কিভাবে তুলে ধরা হয় সেটাই দেখা হচ্ছে তা নয় বরং তারা নিজেরাই কিভাবে গণমাধ্যমের নিয়ন্ত্রক ও মালিক হতে পারে তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করে মিস হেনরিকসেন জাতিসংঘ রেডিওকে বলেন যে এর অন্যতম কারণ হচ্ছে যে প্রায়শই দেখা যায় যে আদিবাসীদের চিত্রায়নের ক্ষেত্রে গণমাধ্যম যেভাবে তাদেরকে তুলে ধরছে তাতে কখনো কখনো তাদের বৈশিষ্ট্যগুলোর যথাযথ প্রতিফলন ঘটছে না বা তা সঠিক হচ্ছে না - আবার কখনো তাতে তাদের প্রতি অশ্রদ্ধার বহিপ্রকাশ ঘটছে।
মিস হেনরিকসেন বলেন যে আমরা বিষয়টার সমাধান করতে চাই। এই আন্তর্জাতিক দিবসে আমরা একটা জিনিষ করতে চাই আর তাহোল আদিবাসীদের অধিকারকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে যে আন্তর্জাতিক ঘোষণায় সেটা সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করা।
রোহিঙ্গাদের সেবাদানকারী এনজিওগুলোর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আহ্বান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার রোহিঙ্গাদের সেবাদানকারী বেসরকারী সংস্থা বা এনজিওগুলোকে তাদের কাজ অব্যাহত রাখার সুযোগ দেওয়ার জন্য দেশটির কতৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানোনো হয়েছে।
কক্সবাজারের কাছে বেসরকারী শিবিরে অনিবন্ধিত লোকজনকে সহায়তা দেওয়ার কাজে নিয়োজিত তিনটি এনজিওর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পটভূমিতে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা, ইউ এন এইচ সি আর এই আবেদন জানায়।এই তিনটি এনজিও হোল মেডিসি স্যঁ ফ্রতিয়ে, অ্যাকশন কন্ট্রে লা ফেইম এবং মুসলিম এইড।
ইউ এন এইচ সি আরের মুখপাত্র অ্যাড্রিয়ান এডওয়ার্ডস বলেন যে এই আদেশ কার্য্যকর হলে লেদা এবং কতুপালংয়ের অস্থায়ী শিবিরে অবস্থানরত মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা চল্লিশ হাজার অনিবন্ধিত লোকজনের ওপর মারাত্মক মানবিক প্রভাব পড়বে।
মি এডওয়ার্ডস বলেন যে স্থানীয় গ্রামবাসীরাও এজন্যে সমস্যার মুখে পড়বেন কেননা এই এনজিওগুলো তাঁদেরকেও মৌলিক বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছেলো।
মি এডওয়ার্ডস আরো বলেন যে মায়ানমার থেকে পালিয়ে আসা লোকজনের প্রতি আতিথেয়তা প্রদর্শনের কহুবছরের যে ঐতিহ্য বাংলাদেশের রয়েছে ইউ এন এইচ সি আর সেই আলোকে দেশটিকে তার সিদ্ধান্ত পুর্নবিবেচনার আহ্বান জানাচ্ছে।
এফ এ ও'র পূর্বাভাষ: এবছর চাল উৎপাদন কমবে
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফ এ ও সোমবার প্রকাশিত পূর্বাভাষে বলেছে যে ২০১২ সালে চালের উৎপাদন আগের অনুমানের চেয়ে আশি লাখ টন কম হবে।
এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাষে সংস্থা বলেছিলো যে বিশ্বে এবছর চাল উৎপাদন হবে ৭৩ কোটি কুড়ি লাখ টন। কিন্তু, জুলাইয়ের পূর্বাভাস বলছে এই পরিমাণ হবে ৭২ কোটি চুয়াল্লিশ লাখ টন।
এফ এ ওবলছে এর অন্যতম কারণ ভারতে স্বাভাবিকের চেয়ে কম মৌসুমী বৃষ্টিপাত। বিশ্বের সিংহভাগ চাল উৎপাদিত হয় এশিয়াতে।
'পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনে জীববৈচিত্র সংরক্ষণ প্রয়োজন'
জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের লক্ষ্যে পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদনের টেকসই ব্যবস্থার ভিত্তি হিসাবে জীববৈচিত্র সংরক্ষণের বিষয়কে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এফ এ ও এবং এনজিও বায়োডাইভার্সিটি ইন্টারন্যাশনালের সর্বসাম্প্রতিক এক প্রকাশনায় একথা বলা হয়।
এই প্রকাশনায় বলা হয় যে বিশ্বে বর্তমানে নব্বুই কোটি লোক ক্ষুধার শিকার এবং দেড়শো কোটি লোক হয় অতিমাত্রায় মোটা অথবা তাদের ওজন বেশি।
সাসটেইনেবল ডায়েটস এন্ড বায়োডাইভার্সিটি নামের এই বইতে বলা হয়েছে যে প্রায় দুশো কোটি লোক ভিটামিন এ , লোহা বা আয়োডিনসহ মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট যথেষ্ট পরিমাণে পান না।
এফ এ ও'র কর্মকর্তা বারবারা বারলিংটন বলেন মানুষ কিধরণের খাবার খাবেন তা তিনি কোন কৃষি-পরিবেশগত অঞ্চলে বাস করেন তার ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিৎ।
বারলিংটন বলেন যে বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলেই টেকসই খাদ্যতালিকা ঠিক করা সম্ভব যাতে নির্দিষ্ট কৃষি-পরিবেশগত অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে পাওয়া যায় এমন জাতের বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রীর ওপর নির্ভর করে স্বাস্থ্যকর এবং টেকসই খাদ্যতালিকা তৈরি হবে। এই খাদ্যতালিকা মানবেদেহের সব পুষ্টিচাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।
জুলাই মাসে খাদ্যদ্রব্যের দাম বেড়েছে ছয় শতাংশ
জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এফ এ ও বলছে যে খাদ্যদ্রব্যের দাম তিন মাস নিম্নমুখী থাকার পর জুলাই মাসে তা প্রায় ছয় শতাংশ হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
খাদ্যসামগ্রীর আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নির্ধারণ করা এফ এ ও সূচকে এই বড়ধরণের উর্ধ্বগতির কারণ খাদ্যশস্য এবং চিনির মূল্যবৃদ্ধি।
এফ এ ও বলছে যে ব্যাপক খরার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ভূট্টার ফসল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এর দাম বেড়েছে প্রায় তেইশ শতাংশ। আর চিনির দাম মার্চ মাস থেকে কমতে থাকার পর জুলাই মাসে বেড়েছে বারো শতাংশ।