বাংলাদেশীসহ অভিবাসীরা সিরিয়া ছাড়ছেন
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আই ও এম সিরিয়ায় সংঘাতের কারণে সেথান থেকে প্রায় সাড়ে ছ'শ বিদেশী নাগরিককে স্ব-স্ব দেশে ফিরে যেতে সাহায্য করেছে যাদের বেশীরভাগই বাংলাদেশী এবং ফিলিপিনো।
সংঘাত এবং দূর্যোগের কারণে স্থানচ্যূত হওয়া অভিবাসী এবং অভ্যন্তরীণ উদ্বাস্তুদের সাহায্যের জন্য সতেরো কোটি সত্তুর লাখ ডলার এক তহবিল গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আই ও এম।
আই ও এমের মুখপত্র জুম্বে ওমারি জুম্বে মঙ্গলবার জানান যে তাঁদের অনুমান সিরিয়ায় প্রায় এক লাখ পঁচিশ হাজার বিদেশী নাগরিক অবস্থান করছেন যাঁদের মধ্যে ২১০৯ জন সিরিয়া ত্যাগ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।
মি জুম্বে বলছিলেন যে সিরিয়া থেকে এপর্যন্ত ৬৪১ জনকে প্রধানত লেবানন এবং তারপর জর্ডানের মধ্য দিয়ে তাদের নিজ নিজ দেশ – মূলত বাংলাদেশ এবং ফিলিপিন্সে ফিরে যেতে তাঁরা সাহায্য করেছেন।
তিনি জানান যে তাঁরা এখন একটি টাস্ক ফোর্স গঠন করছেন যাঁরা জর্ডনে গিয়ে জানার চেষ্টা করবেন যে ঠিক কতো সংখ্যক অভিবাসী সিরিয়া ছেড়ে চলে যেতে চান।
প্রতিবেশীদের প্রতি সীমান্ত খোলা রাখার আহ্বান
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, ইউ এন এইচ সি আর বলেছে যে সিরিয়ার সংঘাত থেকে যাঁরা পালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সীমান্ত খোলা রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বাণিজ্যিক যানবাহন চলাচলের জন্য তুরস্ক তার সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার পটভূমিতে ইউ এন এইচ সি আরের মূখপত্র বলেন যে তুরস্কের সরকার তাঁদেরকে আশ্বস্ত করেছেন যে সীমান্ত খোলা থাকবে।
সংস্থা জানায় প্রতিবেশী দেশগুলোতে এপর্যন্ত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার সিরীয় নাগরিক শরণার্থী হিসাবে তালিকাভুক্ত হয়েছেন।
খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য মাটি ব্যবস্থাপনা জরুরী
খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে মাটি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের বিষয়ে অষ্ট্রিয়ার ভিয়েনায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা এক সম্মেলনে মিলিত হয়েছেন।
জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফ এ ও'র সহায়তায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা আই এ ই এ'র এই সম্মেলনে মাটি ব্যবস্থাপনায় সেরা পন্থা কি হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সম্মেলনে কেনিয়ার কৃষি গবেষণা ইনিষ্টিটিউটের গবেষক, কিযিটো কয়েনা বলেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের ব্যাপক প্রভাব কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে মাটির একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
মি কয়েনা বলছিলেন যে বর্তমান বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং সারা বিশ্ব জুড়েই এটা একটা ভাবনার বিষয় যে কিভাবে উৎপাদন বাড়ানো এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।
সুতরাং, মাটির উর্বরতা ও মাটিতে পানির ব্যবস্থাপনা অর্থাৎ শস্যের জন্য সঠিক পরিমাণে পানি এবং সার প্রয়োগের বিষয়টি নির্ধারণ কিম্বা ক্ষরাপীড়িত এলাকায় কোন ফসল ভালো হতে পারে তা চিহ্ণিত করা প্রয়োজন।
'এইচ আই ভি'র সংক্রমণ নামিয়ে আনা হবে শূণ্যে'
জাতিসংঘের এইচ আই ভি এবং এইডস বিষয়ক কার্যক্রম ইউ এন এইডসের প্রধান , মিশেল সিদিবে বলেছেন যে এইচ আই ভি'র সংক্রমণ রোধের বিপ্লবে নেতৃত্ব দিচ্ছে তরুণেরা এবং এর ফলে বিশ্বে নতুন সংক্রমণ শূণ্যে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ওয়াশিংটনে অনুষ্ঠানরত উনবিংশতি আন্তর্জাতিক সম্মেলনের উদ্দেশ্য হচ্ছে এইচ আই ভির সংক্রমণ শূণ্যে নামিয়ে আনা, বৈষম্যের ইতি ঘটানো এবং এইডসের কারণে মৃত্যু শূণ্যের ঘরে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে সরকার এবং সামাজিক গোষ্ঠীগুলোকে সংগঠিত করা।
সম্মেলনে মিশেল সিদিবে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন যে এবার আমরা একযোগে এইডসের অবসান ঘটাবো।তিনি বলেন যে এই সুযোগ অবশ্য নষ্ট হবে যদি আমরা প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা বাড়াতে না পারি, ২০১৫ সালে যদি আমরা দেড় কোটি মানুষের কাছে চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে না পারি এবং শিশুদের মধ্যে নতুন সংক্রমণ বন্ধ এবং প্রসুতিকে বাঁচিয়েরাখার ব্যবস্থা না করতে পারি।
তিনি বলেন এইচ আই ভি / এইডসের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো বিশ্বে এখন যতো সংখ্যক রোগীর চিকিৎসা সেবার চাহিদা আছে তার চেয়ে বেশী সংখ্যক রোগী চিকিৎসা পাচ্ছেন।
এইডস মোকাবেলায় লক্ষ্যণীয় অগ্রগতি
দ্য গ্লোবাল ফান্ড টু ফাইট এইডস, টিউবারকিউলোসিস এন্ড ম্যালেরিয়ার সমর্থনে গত দশকে বিশ্বে প্রায় নব্বুই লাখ জীবন রক্ষা পেয়েছে।
ফান্ডের রিপোর্টে বলা হয় যে দুবছর আগে বিশ্বে যেখানে ছয় লাখ এইডস রোগী এন্টি রেট্রোভাইরাল চিকিৎসা পাচ্ছিলেন এখন সেখানে সেই সংখ্যা ত্রিশ লাখে পৌঁছেছে।
গ্লোবাল ফান্ডের রিপোর্টে বলা হয় যে স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজ এবং দাতাদের সমর্থন এর অন্যতম কারণ।
এইডস, টিউবারকিউলোসিস এবং ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গ্লোবাল ফান্ড আগামী কুড়ি মাসে প্রায় আটশ কোটি ডলার ব্যয় করবে যার প্রধান অংশই যাবে আফ্রিকার দেশগুলোতে।