১৪:৫৬:০৭

উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে সর্বজনীন সাস্থ্যসেবা জরুরি: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

শুনুন /

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে বিশ্বে প্রায় চল্লিশ কোটি লোক প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এই অসাম্য দূর করায় জাতিসংঘ সংস্থা সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার নীতি বাস্তবায়নের জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

সংস্থা বলছে আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘে বিশ্বনেতারা যে নতুন লক্ষ্যসমূহ নির্ধারণ করবেন সেগুলো অর্জনের জন্য এটিই সবচেয়ে ভালো উপায়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে চিকিৎসার জন্য কেউ সর্বস্বান্ত হবেন এটা গ্রহণযোগ্য নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বিশ্ব ব্যাংকের এক যৌথ প্রতিবেদনে সম্প্রতি বলা হয়েছে যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবার খরচ যোগাতে গিয়ে ছয় শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্রের কবলে পড়েছেন।

তবে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে যে সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারগুলোর বাড়তি অর্থায়ন প্রয়োজন। একইসাথে স্বাস্থ্যখাতের সম্পদের সর্ব্বোচ্চ সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করায় দক্ষতা বাড়ানোর ওপর সংস্থা জোর দিয়েছে।

ইথিওপিয়ার আদ্দিস আবাবায় উন্নয়ন অর্থায়নের বিষয়ে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যেখানে সংস্থার পক্ষ থেকে নিম্ন এবং মধ্য আয়ের দেশগুলোর স্বাস্থ্য খাতে আরও সম্পদ যোগান দেওয়ার আহ্বান জানানো হবে।

বাস্তুচ্যূত নারী ও শিশুর সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান

এগারোই জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে সংঘাত এবং মানবিক বিপর্যয় থেকে পালিয়ে আসা নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার বিষযটিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বব্যাপী প্রায় ছয় কোটি মানুষ এখন বাস্তুচ্যূত হয়েছেন – যেটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্ব্বোচ্চ।

বাস্তুচ্যূতি নারী এবং শিশুদেরকে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেয় যেসব ঝুঁকির মধ্যে সেগুলো হচ্ছে নির্যাতন, যৌন নিপীড়ণ এবং নানাধরণের রোগে আক্রান্ত হওয়া।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন এক বিবৃতিতে বলেছেন যে জঙ্গী ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নির্যাতনের শিকার নারী ও শিশুরা অনাকাঙ্খিত গর্ভধারণ এবং এইচ আই ভি'র মত বিভিন্ন রোগের  সংক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

মি বান জরুরি ত্রাণ কার্য্যক্রমে নারীর স্বাস্থ্যগত চাহিদা ও জোরদার সুরক্ষার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান।

হ্যামারশোল্ডের মৃত্যুর বিষয়ে আরও তদন্ত প্রয়োজন

জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি সংস্থার সাবেক মহাসচিব ড্যাগ হ্যামারশোল্ডের মৃত্যুর পরিস্থিতিকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য প্রকাশ করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বর্তমান মহাসচিব বান কি মুন।

ড্যাগ হ্যামারশোল্ড ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বরে কঙ্গোতে একটি শান্তি মিশনে যাওয়ার সময় পনেরোজন সঙ্গীসহ তাঁকে বহনকারী বিমান বিধ্বস্ত হওয়ায় নিহত হন।

মি হ্যামারশোল্ডের মৃত্যুর বিষয়ে তদন্তের জন্য গত র্মাচ মাসে একটি স্বাধীন বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করা হয়। এই বিশেষজ্ঞ দল তাঁকে বহনকারী বিমানটি বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন তত্ত্ব এবং নতুন প্রাপ্ত তথ্যগুলো পরীক্ষা ও মূল্যায়ন করবে বলে কথা রয়েছে।

জাতিসংঘ মহাসচিবের একজন মুখপাত্র হচ্ছেন ফারহান হক বলেন যে তদন্তকারী প্যানেল ক্রুদের ক্লান্তি বিষয়ে এমন নতুন তথ্য পেয়েছে যা থেকে নতুন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। সবচেয়ে গুরুত্বর্পূণ হোল এই বিষয়টি যে তাঁরা যে নতুন তথ্য পেয়েছেন তা মূল্যায়ন করে তাঁরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে সেগুলোর ভিত্তিতে বিমানটিতে হামলা হওয়া বা অন্য কোনধরণের হস্তক্ষেপের তত্ত্ব পরীক্ষা করার জন্য ওই তথ্য যথেষ্ট।

তিনি জানান যে এই প্রাপ্ত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে প্রকৃত সত্য জানার জন্য আরও তদন্ত চালানো প্রয়োজন।

তিনি সেকারণে বিভিন্ন দেশকে এবিষয়ে সবধরণের তথ্য অবমুক্ত করার আহ্বান জানান।

যানবাহনের শব্দদূষণ কমানোয় নতুন বৈশ্বিক উদ্যোগ

জাতিসংঘের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে রাস্তার যানবাহনের শব্দ বিরক্তিকর এবং তা মনিুষকে বধির করে দিতে পারে।

উচ্চগতির যানবাহন এবং গর্জনকারী ট্রাক যখন আধুনিক সমাজে আমাদের অনেকের কাছেই জুজুর মত ভীতিকর হয়ে উঠছে তখন জাতিসংঘের একটি নতুন প্রস্তাব ভবিষ্যতের রাস্তাগুলোকে অনেকটাই শান্ত বা নীরব করে তুলতে পারে।

জাতিসংঘের ইউরোপীয় অর্থনৈতিক কমিশন ( ইউএনইসিই)'র বৈশ্বিক কার্য্যক্রমের সভাপতি সের্গে ফিসাও বাস্তবে  নীতিমালার পরিবর্তন আনার কথা উল্লেখ করে বলেন যে এটি হচ্ছে নতুন পদ্ধতি, নতুন পদক্ষেপ। চালকরা এখন যেভাবে গাড়ি চালান তার রীতিটা  বদলানো।এর উদ্দেশ্য হচ্ছে শব্দের মাত্রা ডেসিবল হিসাবে কমানো।এর প্রত্যক্ষ ফল হবে রাস্তায় শব্দ তৈরির পরিমাণটা কম হবে।

গাযায় লড়াই বন্ধের একবছর  পরও  সংকট রয়ে গেছে: জাতিসংঘ

জাতিসংঘের মানবিক কার্য্যক্রমের কর্মকর্তারা বলছেন যে ইজরায়েলের সাথে সংঘাত বন্ধ হওয়ার একবছর পর এখনো  গাযায় সংকট চলছে।

জাতিসংঘের মানবিক কার্য্যক্রম সমন্বয় দপ্তর, ও সি এইচ এ'র হিসাবমতে গাযায় একান্ন দিনের যুদ্ধে ১৪৬২ জন বেসামরিক ফিলিস্তিনী এবং ছ'জন ইজরায়েলী সৈন্যের প্রাণহানি ঘটে। গাযার ভিতরে এখনো আশ্রয়হীন হয়ে আছেন লক্ষাধিক ফিলিস্তিনী।

এসব আশ্রয়চ্যূত ফিলিস্তিনীদের মানবিক সহায়তায় তহবিল ঘাটতি এবং আটবছর ধরে ইজরায়েলী অবরোধ অব্যাহত থাকার কারণে সেখানকার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে বলে বলছে ও সি এইচ এ।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন