২৩:২৪:০৫

প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় বৃটেন দুশো কোটি ডলার দেবে

শুনুন /

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে এবছরের মূল ভাবনা ছিলো প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সার্বজনীন অধিকার

এগারোই জুলাই বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসে এবছরের মূল ভাবনা ছিলো প্রজনন স্বাস্থ্যসেবায় সার্বজনীন অধিকার।

বিশ্বের সবচেয়ে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর চাহিদা মেটানোর যে মহাপরিকল্পনা – সেই সহস্রাব্দের লক্ষ্যমাত্রাগুলোর অন্যতম একটি হচ্ছে এই বিষয়টি।

দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব ব্যান কি মুন বলেছেন যে বিশ্বে প্রায় কুড়ি কোটি নারী ও কিশোরী জন্মনিরোধক সামগ্রী থেকে বঞ্চিত।

এক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলো যেসব সমস্যার মুখোমুখি তার বিবরণ দিতে গিয়ে বিল এন্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের পারিবারিক স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান গ্যারি ডার্মষ্ট্যাড বলেন  যে একটি হচ্ছে অর্থায়ন , আরেকটি হচ্ছে দেশগুলোর তরফে নিজেদের অর্থায়নে অগ্রধিকারের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, আরেকটি হচ্ছে জন্মনিরোধক সামগ্রী দেশগুলোতে পৌঁছানোর পর তা মেয়েদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে সরবরাহব্যবস্থায় সমস্যা; দাতা এবং গ্রহীতা দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা।

এদিকে, বৃটিশ সরকার দরিদ্রদেশগুলোতে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবার জন্য আগামী আট বছরে দুশো কোটি ডলার সহায়তা দেবার কথা জানিয়েছে।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে েএই সহায়তার বিষয়টি ঘোষণার কথা জানান বৃটিশ কর্মকর্তারা।

উৎপাদন বাড়ায় খাদ্যমূল্যের সূচক কমেছে

উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থাপনার কারণে বিশ্বে খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন হচ্ছে।

বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এফ এ ও এবং অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থা , ও ই সি ডির সর্বসাম্প্রতিক কৃষি পূর্বাভাষে এসব কথা বলা হয়। এফ এ ও'র মহাপরিচালক জোসে গ্রাজিয়ানো ডি সিলভা বলেন উৎপাদন বেড়েছে প্রধানত উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই।

তিনি জানান যে এফ এ ও 'র খাদ্যমূল্যের সূচক গত তিনমাসে নিম্নমূখী ছিলো ।

মি ডি সিলভা বলেন যে চলতি বছরের  জুন মাসে এটা ২০১১ সালের একই সময়ের তুলনায় বারো শতাংশ কম ছিলো। তবে, অস্থিরতা এখনও আছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য উপাত্ত অনুযায়ী আগামী মাসে এই সূচক আবার কিছুটা বাড়তে পারে।

ইউরোপে সোয়া দু'কোটি লোকের বেকারত্বের আশংকা

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, আই এল ও বলেছে যে অভিন্ন মুদ্রা ইউরো ব্যবহার করে যেসব দেশ সেই ইউরো অঞ্চলে আগামী চার বছরে বেকারের সংখ্যা দুই কোটি বিশ লাখে পৌছাতে পারে।

ইউরো অঞ্চলের কর্মসংস্থানের সংকট , তার প্রবণতা এবং নীতি প্রণয়ন বিষয়ক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দিয়ে বলা হয়েছে ইউরো অঞ্চলের দেশগুলোতে কৃচ্ছ্বসাধনের যে নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে তা কাজে আসছে না।

বাংলাদেশে সবুজ  কর্মসংস্থানে আই এল ও

সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ করছেন সানজিদা আক্তার

সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ করছেন সানজিদা আক্তার

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও এবং অষ্ট্রেলীয় সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে পরিবেশবান্ধব সবুজ জ্বালানীর প্রসার ঘটছে। দেশটির সরকারও বিকল্প জ্বালানী হিসাবে স্বল্পব্যয়ের সৌরবিদ্যূৎের ব্যবহারকে উৎসাহিত করছে।

সৌর বিদ্যূৎের প্যানেল কিভাবে বসাতে হয় তার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মসংস্থানও ঘটছে। এধরণের কাজে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছেন যাঁরা তাঁদের একজন হলেন সানজিদা আক্তার – যিনি তিন বছর ধরে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে সৌরপ্যানেল স্থাপনের কাজ করছেন।

সানজিদা আক্তার বলেন যে এই বিদ্যূৎ দিয়ে ব্যাটারিতে চার্জ নবায়ন হচ্ছে এবং সেই ব্যাটিারিতেই আলো জ্বালানো , মোবাইল ফোনে চার্জ দেওয়া, টেলিভিশন চালানোর মতো আরো অনেক কাজই করতে পারছেন গ্রামবাসীরা।

সানজিদা আক্তার প্রশিক্ষণ নিয়েছেন আই এল ও এবং অষ্ট্রেলীয় সরকারের প্রযুক্তিগত এবং আর্থিক সহায়তায় দেশব্যাপী পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে।বাংলাদেশ সরকারও এই বিকল্প জ্বালানী উৎসের সম্প্রসারণ এবং এর মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কর্মসংস্থানকে উৎসাহ দিচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের শ্রম সচিব মিকাইল শিপার বলেন যে সবুজ চাকরী বা পরিবেশবান্ধব কর্সংস্থানের ধারণাটি আমাদের কাছে একেবারেই নতুন।আর সেকারণেই আমাদের সাহায্য প্রয়োজন। আই এল ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আমাদেরকে সেই সাহায্যটাই দিচ্ছে।

আই এল ও বলছে যে বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের জনসংখ্যার সত্তুর শতাংশই জাতীয় বিদ্যূৎ গ্রীডের সাথে সংযুক্ত নয়।বাংলাদেশে আই এল ও'র  পরিচালক আন্ড্রে বগরি  বলেন যে আমরা সরকার, এমপ্লয়ার্স সংগঠন, শ্রমিকদের সংগঠন এবং কয়েকটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সাথে কাজ করছি যাতে প্রান্তিক জনগণ এই সৌর বিদ্যূৎ উৎপাদনের কৌশলটা রপ্ত করতে পারে।

সানজিদা আক্তারের পরিতৃপ্তির অবশ্য আরো একটা কারণ আছে – আর তা হোল বিকল্প এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানীর প্রসার ঘটিয়ে গ্রামাঞ্চলের মানুষের জীবনমানে উন্নতি ঘটানোয় ভূমিকা রাখতে পারা।

 

 

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন