১২:০০:২৫

আশ্রয়শিবিরে হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন: জাতিসংঘ

শুনুন /

জাতিসংঘ মহাসচিব রোববার রাতে রাফায় জাতিসংঘের একটি আশ্রয় শিবিরে হামলায় দশজন ফিলিস্তিনী বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার দ্রুত তদন্তের আহ্বান জানিয়ে এই হামলাকে একটি নৈতিক ও ফৌজদারি অপরাধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের আরেকটি লংঘন বলে অভিহিত করেছেন।

ফিলিস্তিনীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও উন্নয়ন সংস্থা, ইউএনআরডাব্লুএ রাফা শহরে নব্বুইটি আশ্রয় শিবির পরিচালনা করে যেগুলোতে কমপক্ষে দুই লাখ চুয়ান্ন হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ বসবাস করেন।

জাতিসংঘের শিবিরগুলোকে যুদ্ধক্ষেত্র বিবেচনা না করে অবশ্যই নিরাপদ অঞ্চল হিসাবে গণ্য করতে হবে বলেও তিনি তাঁর বিবৃতিতে হুঁশিয়ারী দেন। ১ লা অগাষ্ট মানবিক যুদ্ধবিরতি ভেঙ্গে পড়ার পর থেকে সহিংসতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শত শত ফিলিস্তিনী বেসামরিক জীবনহানির ঘটনায় মহাসচিব ক্ষোভ প্রকাশ করেন।তিনি বলেন যে যুদ্ধবিরতি কার্য্যকর করা এবং কায়রোতে আলোচনা শুরু করাই হচ্ছে পরিস্থিতি শান্ত করার একমাত্র  পথ।

এর আগে, গত বুধবার রাতে জাবালিয়া এলিমেন্টারি র্গালস স্কুলে গোলাবর্ষণে কয়েকজনের মৃত্যু হওয়ার পর ফিলিস্তিনীদের জন্য জাতিসংঘের ত্রাণ ও উন্নয়ন সংস্থা, ইউএনআরডাব্লুএর কমিশনার পিয়ের ক্রাহনবুল বলেন যে জাতিসংঘ স্কুলের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনের লংঘন।

মি ক্রাহনবুল বলছিলেন যে আমরা ইজরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীকে বারবার এই স্কুলটি সম্পর্কে জানিয়েছি। আমরা জানিয়েছি একারণে যে এটির সুরক্ষা  খুবই গুরুত্বর্পূণ।এর আরও একটি কারণ হচ্ছে ইজরায়েলী বাহিনীগুলো বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজনকে সরে যেতে বলায় সেসব লোকজন এই স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলো।তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলো এই আশায় যে তারা সেখানে নিরাপদ থাকবে এবং  সুরক্ষা পাবে। তারা যে সেটা পেলো না সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। মি ক্রাহনবুল বলছিলেন যে আমি কঠোরতম ভাষায় এর নিনদা জানিয়ে বলছি যে স্কুলের ওপর ইজরায়েলী গোলাবর্ষণের বিষয়টি আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লংঘন।

ইউনানে ভূমিকম্পের পর চীনকে জাতিসংঘের সাহায্য প্রস্তাব

চীনের ইউনান প্রদেশের ওয়েনপিং শহরে ভূমিকম্প-পরবর্তী ত্রাণ কার্য্যক্রমে সহায়তা দিতে জাতিসংঘ প্রস্তুত রয়েছে বলে রোববার জাতিসংঘ মহাসচিবের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ৬ দশমিক এক মাত্রার এই ভূমিকম্পে শত শত লোক নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার ভবন ধসে পড়েছে। সেখানে ত্রাণ ও উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে।

মি বান দেশটির চাহিদা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক সহায়তা সংগঠিত করার কাজেও সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।

স্বাস্থ্যবান শিশু গড়ে তোলায় বুকের দুধ অপরিহার্য্য

স্বাস্থ্যবান শিশুকে বড় করা এবং দৃঢ়বন্ধনসম্পন্ন পরিবার গড়ে তোলার সবচেয়ে সহজ, বুদ্ধিদৃপ্ত এবং সাশ্রয়ী উপায় হচ্ছে তাকে বুকের দুধ খাওয়ানো।

১ লা অগাষ্ট আন্তর্জাতিক বুকের দুধ খাওয়ানো সপ্তাহের শুরুতে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের শিশু তহবিল, ইউনিসেফ এর নির্বাহী পরিচালক, অ্যান্থনি লেক একথা বলেন।

বুকের দুধ খাওয়ানোর পদ্ধতি শিশুদের জীবন ও স্বাস্থ্যের ওপর কিধরণের প্রভাব ফেলে তা বিশেষভাবে তুলে ধরাই হচ্ছে এই সপ্তাহ পালনের লক্ষ্য।

এবছর এই সপ্তাহ পালনে জাতিসংঘ ঘোষিত দারিদ্রবিরোধী কার্য্যক্রম সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা এমডিজির বিভিন্ন অগ্রগতির সাথে বুকের দুধ খাওয়ানোর গুরুত্বর্পূণ যোগসূত্রের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

ইউনিসেফ বলছে যে জন্মের প্রথম ঘন্টায় বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়ানো হলে তা প্রতি পাঁচটির মধ্যে একটি শিশুকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে থাকে।

এটি শিশুকালের শুরুতে পুষ্টিহীনতা এবং পরবর্তীজীবনে মোটা হওয়ার ঝুঁকি কমায়।বুকের দুধ খর্বকায় হয়ে যাওয়া প্রতিকার করে এবং মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশকে সাহায্য করে থাকে।

ইউনিসেফ বলছে যে বিশ্বের প্রায় অর্ধেকের মতো নবজাতক এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং তার চেয়েও কমসংখ্যক শিশু জন্মের পর প্রথম ছয়মাস বুকের দুধ পেয়ে থাকে।

সংস্থা বলছে যে বুকের দুধ খাওয়াতে মায়েদেরকে উত্সাহিত করার ক্ষেত্রে শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবে সামাজিক পর্য্যায়ে নয়, বৈশ্বিক পরিসরেও উদ্যোগ গ্রহণ প্রয়োজন।

জলবায়ু পরিবর্তনসম্পর্কিত মৃত্যুর শিকার বেশি হচ্ছে শিশুরা

বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন কারণে যেসব মৃত্যু ঘটছে তার নব্বুই শতাংশই ঘটছে উন্নয়নশীল দেশে এবং এসব মৃত্যুর আশি শতাংশই শিশু বলে বলছেন জাতিসংঘ শিশু তহবিল, ইউনিসেফ এর নির্বাহী পরিচালক, অ্যান্থনি লেক।

জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জসমূহ: সম্মুখসারিতে শিশু বা দ্য চ্যালেঞ্জেস অব ক্লাইমেট চেঞ্জ: চিল্ড্রেন অন দ্য ফ্রন্টলাইন র্শীষক ইউনিসেফ এর এক নতুন প্রকাশনায় মি লেক একথা বলেন।

তিনি বলেন যে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যতোই চরম রুপ লাভ করছে এবং দৃশ্যমান হচ্ছে ততোই তার বিরুপ প্রভাবে  বিশ্বের শিশু এবং কিশোরদের জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

পর্যটনশিল্পে শিশুশোষণ অগ্রহণযোগ্য: ইউএনডাব্লুটিও

জাতিসংঘের বিশ্ব পর্য্টন সংস্থা , ইউ এন ডাব্লু টি ও বলছে যে বিশ্বব্যাপী পর্যটনশিল্পে শিশুদের ব্যবহার বা শোষণ কোনভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

দক্ষিণ র্পূব এশিয়া – যেখানে পর্যটনশিল্প অব্যাহতভাবে বিকশিত হচ্ছে সেখানে শিশু পাচার, শোষণ এবং নির্যাতন বন্ধের জন্য সংস্থা কাজ করে চলেছে।

সংস্থা এক্ষেত্রে সব দেশ এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতি পর্য্টনের বৈশ্বিক নীতিমালা বা গ্লোবাল কোড অব ইথিকস অনুসরণে দায়িত্বশীল নীতি অনুসরণ ও তার প্রসারে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন