২২:২৫:১০

ইরাকে আইএসআইএল এর হামলার নিন্দায় নিরাপত্তা পরিষদ

শুনুন /

ইসলামিক ষ্টেট ইন ইরাক এন্ড দ্য লিভেন্ট ( আই এস আই এল) এর বিদ্রোহীদের হাতে ইরাকের সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ধারাবাহিক নিপীড়ণের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।

ইরাকে ঝুঁকিতে থাকা সংখ্যালঘুদের ওপর আইএসআইএল এর হামলার খবরের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে নিরাপত্তা পরিষদ এক বিবৃতিতে এই নিন্দা জানায়।

বিবৃতিতে বলা হয় যে ঝুঁকিতে থাকা খৃষ্টান এবং ইয়েজিদি সম্প্রদায়সহ লাখ লাখ ইরাকী আইএসআইএল এর হামলার কারণে বাস্তুচ্যূত হওয়ায় নিরাপত্তা পরিষদ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে। এসব ইরাকীদের এখন জরুরি মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।

অগাষ্ট মাসে নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত, র্মাক লায়াল বলেন যে আইএসআইএল এবং তার সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর চরমপন্থী ভাবধারা প্রত্যাখ্যান করছে যেসব ব্যাক্তি এবং সংখ্যালঘুদের ওপর যে ধারাবাহিক নিপীড়ণ চালানো হচ্ছে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা কঠোরতম ভাষায় তার নিন্দা জানাচ্ছে।

রাষ্ট্রদূত লায়াল বলেন যে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যরা একথার পুনরুল্লেখ করছে যে জাতিগত পরিচয়, রাজনৈতিক কারণ, ধর্মীয় বা অন্যান্য বিশ্বাসের কারণে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ব্যাপকভিত্তিক ও ধারাবাহিক হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে এবং এর জন্য যাঁরা দায়ী তাঁদেরকে জবাবাদিহি করতে হবে।

নিরাপত্তা পরিষদ ইরাকের জনগণ এবং সরকারকে দেশটির চলমান সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের দূর্ভোগ লাঘবে সহযোগিতা করার জন্য আর্ন্তজাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনও হুঁশিয়ার করে দিয়ে বলেছে যে ইরাকের উত্তরাঞ্চলে বেসামরিক নাগরিকদেরকে জোর করে বাস্তুচ্যূত করা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসাবে গণ্য হতে পারে।

বাস্তুচ্যূতদের মানবিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় কাজ করছে এমন সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে এসব পরিবারগুলো বাইরের জগৎ থেকে বিছিন্ন অবস্থায় খাদ্য ও পানীয় ছাড়া অসহায় অবস্থায় পাহাড়ে আটকা পড়েছেন।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি বলেন যে জাতিগত পরিচয়, ধর্মীয় বা বিশ্বাসজনিত কারণে কোন বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর ধারাবাহিক হামলা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসাবে বিবেচিত হতে পারে।

মিস শামদাসানি বলেন যে আইএসআইএল এবং সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোসহ সবপক্ষকে বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা দেওয়ার বাধ্যবাধকতাসহ আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অবশ্যই মেনে চলতে হবে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা, আই ও এম বলছে যে এবছরের শুরু থেকে দেশটিতে প্রায় দশ লাখ লোক বাস্তুচ্যূত হয়েছেন – যাঁদের অর্ধেকই হয়েছেন গত দুইমাসে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন