১৬:৫৮:৪৩

সংলাপের লক্ষ্যে গাযায় সপ্তাহব্যাপী যুদ্ধবিরতির জন্য জাতিসংঘের আহ্বান

শুনুন /

গাযা সংঘাতে ১২ ঘন্টার মানবিক বিরতি অনুসৃত হওয়াকে স্বাগত জানিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন সাতদিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার জন্য সবপক্ষের প্রতি পুনরায় আহ্বান জানিয়েছেন যাতে করে একটি রাজনৈতিক সংলাপ শুরু করা সম্ভব হয়।

এই সাময়িক বিরতির সময় হতাহতদের সৎকার এবং চিকিৎসার ব্যবস্থাসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ফিরে যাওয়ার জন্য গাযার বাসিন্দাদের চেষ্টার যেসব অগণিত দৃশ্য পরিলক্ষিত হয়েছে শনিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মি বানের মুখপাত্র তা উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন যে এসব দৃশ্য থেকে এটাই স্পষ্ট হয় যে এই সাময়িক বিরতিকে সংহত করার মাধ্যমে একটি টেকসই যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করার জন্য চেষ্টা চালাতে আমরা ইজরায়েল এবং গাযার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ।

শুক্রবার মি বান ঐ অঞ্চলে ছয়দিনের এক সফরশেষ করেন যাতে তিনি লড়াই বন্ধ করে আলোচনার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

মি বান বলছিলেন যে প্রথমত: যুদ্ধ বন্ধ করুন। আমরা বারোঘন্টার বিরতিকে বাড়িয়ে ঈদের সময়সহ সাতদিনের মানবিক যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানাচ্ছি। দ্বিতীয়ত:, আলোচনা শুরু করুন।এই সমস্যার কোন সামরিক সমাধান নেই এবং সবপক্ষকে তাই অবশ্যই সংলাপের একটি পথ খুঁজে পেতে হবে।তৃতীয়ত: এই সংকটের মূল কারণগুলো সমাধান করুন।

এদিকে, ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তুদের তদারকিতে নিযুক্ত জাতিসংঘ সংস্থা, ইউএনআরডাব্লুএ জানিয়েছে যে চলমান সংঘাতে এপর্য্যন্ত এক লাখ সত্তুর হাজারেরও বেশি মানুষ বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছে।   

সংঘাতকালে স্কুলগুলোর সুরক্ষার জন্য ইউনেস্কোর আহ্বান

জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থা, ইউনেস্কোর মহাপরিচালক বলেছেন যে একটি সংঘাতে লিপ্ত সবপক্ষগুলোকে অবশ্যই শিক্ষার অধিকারকে সুরক্ষা দিতে হবে।

গোলাবর্ষণ এবং রকেট হামলার কারণে গাযা এবং ইজরায়েলে স্কুল এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরের পর মিস আইরিনা বুকোভা এই আহ্বান জানান।

ফিলিস্তিনী উদ্বাস্তুদের তদারকিতে নিযুক্ত জাতিসংঘ সংস্থা, ইউএনআরডাব্লুএ গাযার কেন্দ্রস্থলে ইজরায়েলী গোলায় একাধিক স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

মিস বুকোভা সংঘাতে লিপ্ত সবপক্ষকে স্কুলের বেসামরিক চরিত্রকে মর্য্যাদা দেওয়া এবং তার আঙ্গিনা অপবিত্র না করার আহ্বান জানান।

ইউনেস্কো জানিয়েছে যে বিশ্বব্যাপী শিক্ষার ক্ষেত্রে দুরারোধ্য বাধা হচ্ছে সংঘাত। সংস্থার হিসাব অনুযায়ী সংঘাত বা ভঙ্গুর পরিস্থিতির শিকার দেশগুলোতে মোট দুই কোটি আশি লাখ ছেলেমেয়ে স্কুলে যেতে পারছে না।

উন্নয়নের ঝুঁকি কমাতে মানুষকে স্থান দিতে হবে সবার আগে

চরম দারিদ্র বা দূর্বলতা মোকাবেলা করা না হলে তা মানব উন্নয়নের জন্য ঝুঁকি হয়ে থাকবে এবং অগ্রগতির ক্ষেত্রে যেমন সমতা থাকবে না তেমনি তা টেকসইও হবে না। জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি, ইউএনডিপি'র মানব উন্নয়ন প্রতিবেদনে একথা বলা হয়েছে, যাতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে গত কুড়ি বছরের অগ্রগতি পর্য্যালোচনা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে বৈশ্বিক পরিসরে উন্নয়ন অব্যাহত থাকলেও তাতে বড়ধরণের অসমতা বিদ্যমান।

মানুষকে সবকিছুর আগে অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউএনডিপি'র এই প্রতিবেদনে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের নীতিগুলো পর্য্যালোচনা করা হয়েছে যাতে সমাজে মানুষ আরও সহনশীলতা অর্জনে সক্ষম হয়।

জাতিসংঘের মানব উন্নয়ন রিপোর্টের প্রধান খালেদ মালিক বলেন যে ঝুঁকির পুরো ধারণাটিই হচ্ছে নিরাপত্তার বিপরীতে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাগত সক্ষমতা।সেকারণেই প্রেক্ষাপটটি হচ্ছে ঐ সমাজ আপনি যার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিবেদনে যে যুক্তিটি তুলে ধরা হয়েছে তাহোল এই ঝুঁকির বিষয়টি নির্ভর করছে নীতিমালা এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর। সুতরাং, আপনার যদি ভালো নীতিমালা থাকে তাহলে তাতে একটা বড়ধরণের পার্থক্য তৈরি হবে।

প্রতিবেদনে বৈশ্বিক অঙ্গীকার এবং আন্তর্জাতিক সুশাসনের আহ্বান জানানো হয়।

এইচ আই ভি ভাইরাস চিহ্নিত করার লক্ষ্যে উন্নত পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ

জাতিসংঘ এবং তার বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অংশীদাররা এইচ আই ভি ভাইরাসের উন্নত পরীক্ষার একটি নতুন উদ্যোগের সূচনা করেছেন।

বুধবার অষ্ট্রেলিয়ার মেলবোর্ণে  বিংশতি আন্তর্জাতিক এইডস সম্মেলনের পাশাপাশি এই কর্মসূচির কথা ঘোষণা করা হয়।

সংস্থা বলছে যে এইচ আই ভি আক্রান্তদের কমপক্ষে নব্বুই শতাংশই যেনো তাঁদের অবস্থা সম্পর্কে জানতে পারেন সেটাই হবে এই ডায়াগনষ্টিক অ্যাকসেস ইনিশিয়েটিভ এর লক্ষ্য।

বিশ্বে বতর্মানে প্রায় সাড়ে তিন কোটি মানুষ এইচ আই ভি আক্রান্ত, কিন্তু, তাঁদের মধ্যে প্রায় এক কোটি নব্বুই লাখ মানুষই তা জানেন না।

ইউএনএইডসের নির্বাহী পরিচালক, মিশেল সিডেবি বলেছেন যে আক্রান্তদেরকে প্রাণরক্ষাকারী চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার স্বার্থেই এইচ আই ভি নির্ধারণের পরীক্ষাপদ্ধতি সহজতর করা প্রয়োজন।

বিশ্বে গড় আয়ু ও প্রজননস্বাস্থ্যের অগ্রগতিতে তারতম্য বিদ্যমান

জনসংখ্যা বিষয়ে একটি যুগান্তকারী সম্মেলনের কুড়ি বছর পরও বিশ্বব্যাপী জনকল্যাণের ক্ষেত্রে তারতম্য রয়ে গেছে বলে বলছেন জাতিসংঘের একজন জেষ্ঠ্য জনসংখ্যাবিদ।কল্যাণের মাত্রা মূল্যায়নে যেসব বিষয় বিবেচিত হয় তার মধ্যে নারীর প্রজননক্ষমতা এবং শিশুমৃত্যুও অর্ন্তভুক্ত।

১৯৯৪ সালের সেপ্টেম্বরে কায়রোতে অনুষ্ঠিত জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ( আইসিপিডি) তে ব্যাক্তির অধিকারকে সবার আগে স্থান দেওয়ার যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিষয়ক দপ্তরের জনসংখ্যা বিভাগের পরিচালক জন উইলমথ বলছেন যে গত দুই দশকে এক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জিত হলেও তাতে বড়ধরণের অসামঞ্জস্য রয়ে গেছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন