১৫:১৮:২১

শিশুখাদ্যে সীসা ও ধানে আর্সেনিকের নতুন নিরাপদ মাত্র নির্ধারণ

শুনুন /

জাতিসংঘের খাদ্য মান বিষয়ক সংস্থা, কোডেক্স অ্যালিমেন্টারিয়াস কমিশন বিশ্বব্যাপী ভোক্তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শিশুখাদ্যে সীসা এবং চালে আর্সেনিকের গ্রহণযোগ্য মাত্রা নির্ধারণ করেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এফ এ ও এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ডাব্লু এইচ ও'র যৌথ পরিচালনায় এই কমিশন পরিচালিত  হয়।

গেলসপ্তাহে কমিশনের বার্ষিকসভায় শিশুখাদ্য এবং চাল ছাড়াও খাদ্য উৎপাদনকারী খামারজাত প্রাণীর ব্যবহার্য্য ওষুধে ব্যবহৃত উপাদানের অবশিষ্টাংশের সীমাও নির্ধারণ করে।একশো সত্তুরটি দেশের সরকার এবং তিরিশটি বেসরকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা এই বৈঠকে অংশ নেন।

কমিশন সচিবালয়ের একজন কর্মকর্তা টম হেইল্যান্ড শিশুখাদ্যে কিভাবে সীসা প্রবেশ করে এবং তা কিভাবে শিশুস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি সৃষ্টি করে তা ব্যাখ্যা করেন।

মি হেইল্যান্ড বলেন যে সামান্য মাত্রায় পাওয়া যায় এমন অন্য অনেক রাসায়নিক পদার্থের মতোই সীসাও পরিবেশগত দূষক পর্দাথ।যেকারণে এটা পানি এবং মাটিতে পাওয়া যাবে। এরপর ঐসব পর্দাথ শিশুখাদ্য তৈরিতে ব্যবহার্য্য মৌলিক উপাদানগুলিতে প্রবেশ করে।একারণেই তার একটা নিরাপদ মাত্রা ঠিক করা খুবই গুরুত্বর্পূণ, যার মানে হচ্ছে সর্ব্বোচ্চ কতোটা সীসা তাতে থাকা গ্রহণযোগ্য , যাতে শিশুদের কোন ক্ষতি না হয়।কেননা, সীসার ক্ষতিকর প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকে একেবারে ছোট শিশু এবং বাচ্চারা।তাদের ওপর মারাত্মক এবং স্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে, বিশেষ করে তাদের মস্তিষ্কের গঠন এবং স্নায়ূতন্ত্রে যা তাদের শিক্ষাগ্রহণের ক্ষমতাকে নষ্ট করে দিতে পারে।

কমিশনের বৈঠকে শিশুখাদ্যে সীসার উপস্থিতি প্রতিকেজিতে সর্ব্বোচ্চ শূণ্য দশমিক শূণ্য এক (০.০১) মিলিগ্রাম নির্ধারণ করা হয়। এই সভায় প্রথমবারের মতো চালেও আর্সেনিকের সর্ব্বোচ্চ মাত্র ঠিক করা হয়। এটি হচ্ছে প্রতি কেজি চালে শূণ্য দশমিক দুই (০.২) মিলিগ্রাম।

 শিশুখাদ্যে সীসার উপস্থিতি প্রতি কেজিতে সর্ব্বোচ্চ সীমা  ০.০১ মিলিগ্রাম; চালের প্রতি কেজিতে ০.২ মিলিগ্রাম।

মি হেইলান্ড বলেন যে আর্সেনিকও সীসার মতোই অত্যন্ত ক্ষতিকর একটি দূষক, যা প্রাকৃতিকভাবে  অনেক দেশেরই মাটি এবং পানিতে উঁচুমাত্রায় উপস্থিত।লাতিন আমেরিকা, এশিয়া এবং আমেরিকার অনেক দেশেই তা রয়েছে।মাটি এবং পানির থেকে তা ফসলে প্রবেশ করলে তা আমাদের খাদ্যচক্রে ঢুকে পড়তে পারে। এখানে সমস্যা হচ্ছে অন্য অনেক ফসলের চেয়ে ক্ষতিকর আর্সেনিক গ্রহণের ক্ষমতা বিশেষভাবে ধানের অনেক বেশি। চাল যেহেতু কোটি কোটি মানুষের প্রধান খাদ্য সেহেতু এর মাধ্যমে এই বিপুলসংখ্যক মানুষ আর্সেনিক দূষণের ঝুঁকির মুখে রয়েছেন। দীর্ঘকালীন আর্সেনিক সংর্স্পশের কারণে ক্যান্সার এবং চর্মরোগ হতে পারে, মানুষের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একইসাথে, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং মস্তিষ্কে স্নায়ূতন্ত্রেরও তা ক্ষতিসাধন করতে পারে।

সেচ এবং কৃষিব্যবস্থায় উন্নয়নের মাধ্যমে আর্সেনিকের দূষণ কমানো ছাড়াও কৃষি এবং খাদ্যপ্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দূষণের মাত্রা মেনে চলার ব্যবস্থাগ্রহণে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়েও কমিশনে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

 

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন