১৫:০৯:০৭

অর্ধেকেরও বেশি নারীর খুনী পরিবারেরই কেউ, পুরুষের খুনী অপরিচিত

শুনুন /

বিশ্বব্যাপী হত্যাকান্ডের শিকার নারীদের অর্ধেকেরও বেশি খুন হন তাঁর পরিবারের সদস্য অথবা একান্ত সঙ্গীর হাতে। বিপরীতে, পুরুষরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে খুন হন এমন কারো দ্বারা যাঁর সাথে তাঁর আগে কখনও দেখা হয় নি।

জাতিসংঘের মাদক এবং অপরাধ বিষয়ক দপ্তর ইউ এন ও ডি সি'র সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী হত্যাকান্ডের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

এই পরিসংখ্যানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মধ্যে খুনের হারে ব্যাপক তারতম্য পাওয়া যায়।

ইউএনওডিসি'র অপরাধ পরিসংখ্যান বিভাগের দলনেতা এনরিকো বিসগনোর কাছে জাতিসংঘ রেডিও'র সংবাদদাতা সোফি ওথওয়াইট জানতে চেয়েছিলেন যে এই নতুন পরিসংখ্যান থেকে বিশ্বে অপরাধের গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে কি ধারণা পাওয়া যায়?

মি বিসগোনা বলেন যে পরিস্থিতি আঞ্চলিক বৈচিত্রে ভরা।লাতিন আমেরিকা এবং আফ্রিকার কিছু জায়গায় খুন এবং সহিংসতার হার বেশি, অন্যদিকে, ইউরোপ , এশিয়া ও প্রশান্তমহাসাগরীয় এলাকার কিছু জায়গায় খুনের হার কম এবং তা আরও কমছে।

এই গবেষণায় দেখা যাচ্ছে যে সহিংসতার শিকার এবং অপরাধী উভয় ক্ষেত্রেই নারী এবং পুরুষের মধ্যে বড়ধরণের বৈপরীত্য রয়েছে। এর ব্যাখ্যা কি?

মি বিসগোনা বলছেন অপরাধের শিকার যাঁরা তাঁদের মধ্যে নারী ও পুরুষে বেশ বড় পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। অপরাধসংঘটনকারীর ক্ষেত্রে এই ফারাকটা আরও বেশি।অপরাধীদের মধ্যে পঁচানব্বুই শতাংশই পুরুষ।শারীরিক সহিংসতার ক্ষেত্রে পুরুষদের একচ্ছত্র আধিপত্য দেখা যায়।তবে, অপরাধের শিকার যাঁরা তাঁদের মধ্যে কিছুটা ভারসাম্য পরিলক্ষিত হয়, প্রতি পাঁচজনের মধ্যে চারজনই হলেন পুরুষ, একজন নারী।নারী-পুরুষের পার্থক্যের প্রতিফলন এখানে সুস্পষ্ট।অঞ্চল, সংস্কৃতি, ধর্মনির্বিশেষে পারবারিক পরিসরে নারীরাই সহিংসতার প্রধান লক্ষ্য।

অঞ্চল, সংস্কৃতি, ধর্মনির্বিশেষে পারবারিক পরিসরে নারীরাই সহিংসতার প্রধান লক্ষ্য। -ইউএনওডিসি

বিশ্বে অঞ্চলভেদে খুনের হারে বড়ধরণের পার্থক্য থাকলেও পরিবারের সদস্য বা একান্তসঙ্গীর দ্বারা হত্যার হার বিশ্বব্যাপী প্রায় একইরকম। এটা কিভাবে ঘটছে?

মি বিসগোনা বলছেন যে বাস্তবতা হচ্ছে এই যে, যেসব দেশে অপরাধের হার বেশি আর যেসব দেশে সহিংসতার পরিমাণ বেশি তার মধ্যে কিছুটা পাথর্ক্য থাকলেও পারিবারিক সহিংসতার হার লক্ষ্যণীয়রুপে সবজায়গায় একইরকম।সম্ভবত তাঁরা যেধরণের কার্য্যক্রমে জড়িত সেগুলো নয় বরং তাঁরা যেধরণের সম্পর্কের মধ্যে থাকেন সেকারণেই এমনটি ঘটে। আমরা দেখি যে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার মাত্রা বিশেষ করে পরিবার বা দম্পতিতের মধ্যে এধরণের সহিংসতার ক্ষেত্রে অস্ত্র রাখার অধিকার বিষয়ক আইন সংশোধন, মাদক সংক্রান্ত আইন এগুলোরও প্রভাব পড়ছে।

স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র রাখার আইন কিম্বা মাদকের অপব্যবহার বিষয়ক এসব আইনের সংশোধন নারীর বিরুদ্ধে পারিবারিক ও দাম্পত্য সহিংসতা বন্ধে সহায়ক ভূমিকা রাখছে উল্লেখ করে মি বিসগোনা বলেন যে এক্ষেত্রে নারীদের পুলিশের শরণাপন্ন হওয়া, দাম্পত্য বা পারবারিক নির্যাতনের আলামত চিহ্নিত করা এবং তাঁদেরকে সহায়তা দেওয়ার সামাজিক কর্মসূচি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন