১৩:৫৬:৪৯

বিশ্বে শরণার্থী সংখ্যা পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে গেছে : ইউএনএইচসিআর

শুনুন /

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম বিশ্বে শরণার্থী, রাজনৈতিক আশ্রয়প্রার্থী এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যূত লোকের সংখ্যা পাঁচ কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা, ইউএনএইচসিআর।

সংস্থা বলছে যে ২০১৩ সালের শেষে বিশ্বে জোরর্পূবক বাস্তুচ্যূত হওয়া মানুষের সংখ্যা পাঁচ কোটি বারো লাখে পৌঁছেছে যা ২০১২ সালের তুলনায় ষাট লাখ বেশি।

সংস্থা বলছে যে এই বৃদ্ধির মূল কারণ সিরিয়ার যুদ্ধ যার কারণে গতবছরের শেষনাগাদ সেখানকার শরণার্থী সংখ্যা পঁচিশ লাখে পৌঁছায় এবং অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যূত হয়েছেন আরও পঁয়ষট্টি লক্ষ মানুষ।

এসময়ে আফ্রিকাতেও বৃহৎসংখ্যায় বাস্তুচ্যূতির ঘটনা ঘটেছে যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক এবং দক্ষিণ সুদান।

ক্রমশ বাড়তে থাকা এই শরণার্থীসংখ্যার চাপ ব্যাখ্যা করেন ইউএনএইচসিআর এর প্রধান এন্টোনিও গুটেরাস।

মি গুটেরাস বলেন যে এগুলো সব বিশ্বব্যাপী মানবিক সংস্থাগুলোর ওপর প্রচন্ড চাপ সুষ্টি করছে। যেটুকু সম্পদ পাওয়া যাচ্ছে তা মোটেও যথেষ্ট নয়। যে আর্থিক সহায়তা আমরা পাই তা এতোটা দূর্ভোগের সম্মুখীন মানুষের নাটকীয় চাহিদা মোকাবেলার জন্য মোটেও যথেষ্ট নয়।

জাতিসংঘের নীতি হচ্ছে শরণার্থীদেরকে স্বেচ্ছায় স্বদেশে ফিরতে উৎসাহিত করা। তবে, তৃতীয় দেশে পুর্নবাসন এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সাথে আত্মীকৃত হওয়ার ক্ষেত্রে সহায়তার বিষয়ও বিবেচিত হয়ে থাকে।

ফিলিস্তনী বন্দীদের অনশন  ভাঙ্গতে শক্তিপ্রয়োগের উদ্যোগে জাতিসংঘের উদ্বেগ

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর অনশনরত বন্দীদের জোর করে খাওয়ানোর জন্য অচেতন করার বিষয়টিকে অনুমোদন দিতে ইজরায়েলী আইন সংশোধনের প্রস্তাবে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সোমবার এই সংশোধনী গৃহীত হতে পারে।

সংস্থা বলছে যে প্রশাসনিক আটকাবস্থা বলে পরিচিত ইজরায়েলের বিনা অভিযোগে আটক রাখার প্রথার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে যেসব ফিলিস্তিনী বন্দী অনশন করছেন তাঁদের র প্রতি ঘনিষ্ঠভাবে নজর রাখা হচ্ছে।

বেশ কয়েকজন অনশনকারীর শারীরিক অবস্থা সংকটজনক এবং তার অবনতি ঘটছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি জানিয়েছেন যে জেনেভায় জাতিসংঘে দেশটির স্থায়ী প্রতিনিধিকে চিঠি লিখে হাইকমিশনার তাঁর উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন এবং বলেছেন যে এধরণের আইন করা হলে তা হবে আর্ন্তজাতিক মানের লংঘন।

মহাসচিব বান কি মুন এবং হাইকমিশনার নাভি পিল্লাই আটককৃতদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা নয়তো তাঁদেরকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার আহ্বান জানিয়ে এসেছেন।

যুববেকারত্ব এক মহামারির রুপ নিয়েছে: মহাসচিব বান

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে যুব বেকারত্ব এক মহামারির রুপ নিয়েছে এবং এটি আমাদের সময়ে একটি বড় পরীক্ষা।বুধবার জেনেভায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা – আই এল ও'র সদর দপ্তরে যুব কর্মসংস্থান বিষয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মি বান একথা বলেন।

আই এল ও'র হিসাবমতে বিশ্বব্যাপী বেকার তরুণের সংখ্যা এখন সাত কোটি চল্লিশ লাখ এবং আরও বাইশ কোটি আশি লাখ তরুণ কমমজুরির কাজ অথবা প্রয়োজনের তুলনায় কম কাজের সুযোগ পাচ্ছেন।

সংস্থা বলছে যে আগামী দশকে শ্রমবাজারে নবাগত, যারা প্রধানত তরুণ তাদের জন্য অন্তত চল্লিশ কোটি চাকরির প্রয়োজন হবে।

অসংক্রামক রোগের হুমকি মোকাবেলায় বৈশ্বিক পরিকল্পনা থেরির আহ্বান

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি রাষ্ট্রদূত জন অ্যাশ বলেছেন যে অসংক্রামক রোগের হুমকি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

বৃহস্পতিবার সুশীল সমাজ, বেসরকারী খাত এবং শিক্ষাবিদদের সাথে অসংক্রামক রোগ বা এনসিডি  নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিকারের উপায় নিয়ে আলোচনার সময় মি অ্যাশ বলেন যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতেই এই রোগ থেকে মানুষের মৃত্যুর সম্ভাবনা উন্নত দেশের তুলনায় বেশি।

মি অ্যাশ বলেন যে ত্রিশ থেকে সত্তুর বছর বয়সের মধ্যে প্রধান প্রধান এনসিডি রোগ থেকে মৃত্যুর সম্ভাবনা  উন্নত দেশগুলোতে দশ শতাংশ এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে তা প্রায় ষাট শতাংশ। এই চরম বৈপরীত্য যে শুধু সমস্যাটির গভীরতা এবং তারতম্য তুলে ধরে তাই নয়, বরং একথাও স্মরণ করিয়ে দেয় যে বৈশ্বিক পর্যায়ে এর সমাধানের জন্য স্বার্থসংশ্লিষ্ট সবার সমর্থনের প্রয়োজন।

ক্যান্সার, হৃদরোগ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা এনসিডির অর্ন্তভুক্ত।

নারীর প্রতি বৈষম্য ভারতে উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ

ভারতে জাতিসংঘের র্শীষ প্রতিনিধি বলছেন যে ভারত যেসব উন্নয়ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি তার মধ্যে সবচেয়ে জরুরি একটি বিষয় হচ্ছে নারী-পুরুষের মধ্যে বৈষম্য দূর করা।

জাতিসংঘের লিঙ্গ বৈষম্য সূচকে ১৮৬টি দেশের মধ্যে ভারতের অবস্থান ১৩৬ তম।

ভারতে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী লিসা গ্র্যান্ড বলছেন যে রাজনীতিতে নারী প্রতিনিধিত্বের নিম্নহার, উচ্চহারে নারী বেকারত্ব এবং নারীদের বিরুদ্ধে সমাজের গভীরভাবে প্রোথিত পক্ষপাতমূলক ধারণা মোকাবেলাই হচ্ছে দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন