১০:৩০:৩১

মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে পারমাণবিক শক্তি সংস্থা

শুনুন /

ম্যালেরিয়া এবং ডেঙ্গুর মতো অনেক রোগের বিস্তার ঠেকানোর লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী পোকামাকড়ের বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের উপায় অনুসন্ধানে নজর দিয়েছেন জাতিসংঘের বিজ্ঞানীরা।

মশাবাহিত রোগের কারণে বিশ্বে প্রতিবছর দশলাখেরও বেশি লোকের মৃত্যু ঘটছে।

আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আই এ ই এ) বর্তমানে এমন একটি পদ্ধতি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন যাতে পরিবেশে বন্ধ্যা পোকা ছেড়ে দেওয়া হবে। এই কৌশলকে পোকার বন্ধ্যাকরণ কৌশল , ষ্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক ( এস আই টি) বলে অভিহিত করা হচ্ছে।

এসআইটি প্রয়োগের মাধ্যমে আশা করা হচ্ছে যে পোকার বংশবিস্তৃতির হার এমন অবস্থায় নিয়ে আসা সম্ভব হবে যেখানে তা আর মানুষের প্রতি কোন হুমকি তৈরি করবে না।

আই এ ই এতে এই এস আই টি উন্নয়নে কাজ করছে যে বিভাগ তার প্রধান জেরেমি লিওনেল গাইলস বলছেন এসআইটির কৌশল হচ্ছে পোকার দঙ্গল নিয়ন্ত্রণের একটি কৌশল। এখানে পুরুষ পোকার প্রজননক্ষমতা অকার্য্যকর করে দেওয়ার পর সেগুলো পোকার দঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া। জন্মদানে অক্ষম শুক্রাণু পোকার দঙ্গলে ছেড়ে দিলে দঙ্গলের মধ্যে জন্মদানে অক্ষমতার বিস্তৃতি ঘটবে, যার পরিণতিতে তার বংশবৃদ্ধির হার হ্রাস পাবে।

“জন্মদানে অক্ষম শুক্রাণু পোকার দঙ্গলে ছেড়ে দিলে দঙ্গলের মধ্যে জন্মদানে অক্ষমতার বিস্তৃতি ঘটবে, যার পরিণতিতে তার বংশবৃদ্ধির হার হ্রাস পাবে।”

এই কৌশল মশার ক্ষেত্রে কি কাজ করবে? এমন প্রশ্নের জবাবে মি গাইলস বলেন ' আমি বলবো হ্যাঁ, তা কাজ করছে। তবে, এখনও পর্য্যন্ত এটা পরীক্ষাগারে এবং ছোট আকারের পরীক্ষার মধ্যেই সীমিত। এটি যে মশার মধ্যেও কাজ করবে তার অনেক দৃষ্টান্ত অতীতে রয়েছে – সত্তুরের দশকে এবং সাম্প্রতিককালে ব্রাজিলে।তবে, এখনও এটা একটা ছোট আকারের কর্মসূচির মধ্যেই সীমাবদ্ধ।'

মি গাইলস জানান বর্তমানে সুদান এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দুটি উদ্যোগ বাস্তবায়ন চলছে।

বিশ্বের আরো অনেক জায়গায় এধরণের পরীক্ষা চলছে জানিয়ে তিনি বলেন যে শ্রীলংকা, মরিশাস, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো অনেকগুলো দেশেই – ডেঙ্গু এবং চেকনবুনিয়া জীবাণূ বিস্তাররোধের লক্ষ্যে এই এসআইটি প্রয়োগের সম্ভাব্যতা পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তিনি বলেন যে প্রযুক্তিটির ধারণা অনেকদিনের হলেও গত দশবছরে এটির ক্ষেত্রে ভালো অগ্রগতি হয়েছে। এখন আমরা পুরুষ মশার জৈবিক গঠনপ্রকৃতি সম্পর্কে ভালো জানি। আগে তা জানা ছিলো না। আগে নারী মশার জৈবগঠনের ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়েছিলো, কেননা তারাই জন্ম দেয়।

মি গাইলস বলেন যে এই কৌশলের লক্ষ্য মশা নির্মূল নয় বরং তার বিস্তার নিয়ন্ত্রণ। এবং সেকারণেই মশা নিয়ন্ত্রণের অন্যান্য কার্য্যক্রমও অব্যাহত থাকতে হবে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন