১৭:৫৬:৩২

সংখ্যালঘুরা জাতীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়ন কার্য্যক্রম থেকে বাদ যাচ্ছেন

শুনুন /

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশন

জাতিসংঘের একজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ বলেছেন যে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলো ক্রমবর্ধমান হারে সহিংসতা এবং বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন এবং জাতীয় ও বৈশ্বিক উন্নয়ন কার্য্যক্রম থেকে বাদ পড়ছেন।

জাতিসংঘের সংখ্যালঘু বিষয়ক স্বাধীন বিশেষজ্ঞ, রিতা ইজাক বলছেন যে সংখ্যালঘুরা হচ্ছেন দরিদ্রদের মধ্যে দরিদ্রতম এবং তাঁদের অধিকাংশই তাঁদের বিদ্যমান অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে অক্ষম। তাঁদের উদ্দেশ্যে বিশেষধরণের সহায়তা ছাড়া তাঁরা এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে পারছেন না।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধিবেশনে মিস ইজাক বলেন যে সংখ্যালঘুদের অবস্থার প্রতি বিশেষ দৃষ্টি না দেওয়ার বিষয়টি জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বা মিলেনিয়াম ডেভলেপমেন্ট গোল (এমডিজি) ‘র সবচেয়ে বড় দূর্বলতা।

তিনি বলেন যে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিক, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া এবং মায়ানমারের চলমান সংঘাতগুলোতে সবচেয়ে বেশি সহিংসতার শিকার হচ্ছেন এসব সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীগুলো।

২০১৫-উত্তর উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত এসব সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর চাহিদা পূরণের বিষয়গুলোতে নজর দেওয়ার জন্য মিস ইজাক সব রাষ্ট্র এবং উন্নয়ন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান।

মিস ইজাক বলেন যে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই সংখ্যালঘুদের স্বাস্থ্যই সবচেয়ে খারাপ এবং জনগোষ্ঠীর অন্যান্য অংশের তুলনায় তাঁরাই সবচেয়ে নিম্নমানের স্বাস্থ্যসেবা পেয়ে থাকেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা সহসাই অল্পবয়সে মারা যান, রোগভোগের হারও তাঁদের মধ্যে বেশি এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার জন্য তাঁদেরকে অনেক বেশি কষ্ট করতে হয়।

মিস ইজাক বলেন যে সংখ্যালঘুদের ওপর যেকোন সংঘাতে, এমনকি সেসব সংঘাতে তাঁদের কোন সর্ম্পক না থাকলেও তাদের ওপর একইভাবে তার বিধ্বংসী প্রভাব পড়ে থাকে।এসব প্রভাবের মধ্যে আছে হত্যা, নির্যাতন, বাস্তুচ্যূতি এবং গণহারে বহিষ্কারের মতো ঘটনা।

মিস ইজাক বলেন যে সংখ্যালঘুদের প্রতি পদ্ধতিগত অবিচার, প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য থেকে শুরু করে একটি দেশের বিভিন্ন অহ্চলের মধ্যে সামাজিক খাতে বিনিয়োগের মতো বিষয়গুলো উন্নয়নের নতুন লক্ষ্যমাত্রায় উপেক্ষা করা যাবে না।

মিস ইজাক বলেন যে সব সামাজিক এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রান্তিক অঞ্চল এবং গোষ্ঠীগুলোসহ সংখ্যালঘুদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক সেবাব্যবস্থায় নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক ইতিবাচক পদক্ষেপ ও নীতিমালা প্রয়োজন।

তিনি বৈশ্বিক পর্যায়ে বৈষম্যের মাত্রা কমানোর লক্ষ্যে বিশেষ উদ্যোগগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে বলেন যে এই বৈষম্যই সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোকে প্রান্তিকপর্যায়ে ঠেলে দেওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন