১৪:০২:৫৮

উন্নয়নের প্রতি হুমকি সৃষ্টিকারী সংঘাতের বিষয়ে বানের হুঁশিয়ারী

শুনুন /

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বিশ্বব্যাপী চলমান সংঘাতসমুহ বহু বছরের উন্নয়নকে নস্যাৎ করার হুমকি সৃষ্টি করছে বলে হুঁশিয়ারী দিয়েছেন।

শুক্রবার ২০১৪ সালের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে মহাসচিব বান তাঁর বক্তব্যে দারিদ্র দূরীকরণ এবং জলবায়ূ পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলোসহ বৈশ্বিক যেসব বিষয় জাতিসংঘের সামনে রয়েছে সেসব বিষয়ে কথা বলেন।

তিনি তিনটি দেশের বিষয়ে তাঁর বিশেষ উদ্বেগের কথা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

মি বান বলেন যে সিরিয়া, দক্ষিণ সুদান এবং সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের পরিস্থিতি খারাপের থেকে আরো খারাপ হয়েছে।

মি বান বলেন যে এসব দূর্ভাগ্যজনক দূর্যোগ এড়ানো যেতো কিন্তু সেগুলোর জন্য লাখ লাখ মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

মি বান বলেন যে গোষ্ঠীগত শত্রুতার বিস্তার এবং সেগুলোর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় আমি বিশেষভাবে শঙ্কিত।

মি বান বলেন যে বহু বছরের উন্নয়ন এখন হুমকির মুখে। তরুণ জনগোষ্ঠীর একটি প্রজন্ম এখন হুমকির মুখে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেন যে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের সময়সীমা ২০১৫ সাল এগিয়ে আসার কারণে ২০১৪ সাল হচ্ছে খুবই গুরুত্বর্পূণ।

তিনি বলেন যে ২০১৫-উত্তর উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সেগুলো বাস্তবায়নে অর্থায়নের ক্ষেত্রে সুস্পষ্ট অগ্রগতি প্রয়োজন।

অষ্ট্রেলিয়ার শরণার্থীবিষয়ক সনদ লংঘনের আশঙ্কা

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা, ইউ এন এইচ সি আর বলছে যে অষ্ট্রেলীয় নৌবাহিনী আশ্যয়প্রার্থীদের বহনকারী নৌযানগুলোকে ইন্দোনেশীয় জলসীমায় ফেরৎ পাঠাচ্ছে বলে পাওয়া খবরে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

অষ্ট্রেলিয়ামূখী নৌযানগুলোকে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে দায়িত্ব ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং এবিষয়ে যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

ইউ এন এইচ সি আর এর মুখপাত্র অ্যাড্রিয়ান এডওর্য়াডস বলেন যে অতীত অভিজ্ঞতা বলে যে এধরণের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন যেমন কঠিন তেমনি এর সাথে জড়িত সবার জন্যও তা ঝুঁকির্পূণ। তিনি বলেন যে এধরণের কৌশল অনেক গুরুত্বর্পূণ প্রশ্নের জন্ম দেয় এবং অষ্ট্রেলিয়াকে শরণার্থী বিষয়ক সনদের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা লংঘনের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে।

হেইতির ভূমিকম্পের চর্তূথবার্ষিকীতে আরও সাহায্যের আবেদন

হেইতিতে জাতিসংঘের বিশেষ মিশন ( মিনুসতাহ) ২০১০ সালে দেশটিতে যে ভূমিকম্প হয়েছিলো তার চর্তূথবার্ষিকী পালন করেছে।

ঐ ভূমিকম্পে জাতিসংঘের একশো দুইজন কর্মীসহ প্রায় দুই লাখ কুড়ি হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিলো। এছাড়া পনেরো লাখ মনিুষ গৃহহীন হওয়ায় তা একটা বড় আকারের মানবিক দূর্যোগ সৃষ্টি করেছিলো।

দিবসটি উপলক্ষ্যে এক বার্তায় মহাসচিব বান কি মুন হেইতিতে সাহায্য বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন যে স্বাস্থ্য এবং শিক্ষাক্ষেত্রে অগ্রগতি অর্জিত হলেও আরো অনেক কিছু করা প্রয়োজন।

তিনি জানান যে এখনও প্রায় দেড় লাখ মানুষ এখনও অস্থায়ী আশ্রয়শিবিরে বসবাস করছেন।

'সিরীয় রাসায়নিক অস্ত্র নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যেই ধ্বংস হবে'

জুন মাসের মধ্যে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রসম্ভার ধ্বংস করার সময়সীমা পূরণ করা সম্ভব বলে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন ঐ কার্য্যক্রম তদারককারী দলের প্রধান, অর্গানাইজেশন ফর দি প্রোহিবিশন অব কেমিক্যাল উইপেন্স ( ওপিসিডাব্লু)'র বিশেষ সমন্বয়কারী সিগরিড কাগ।

মিস কাগ পরে সাংবাদিকদের বলেন যে আমরা নিরাপত্তার সমস্যাগুলোর বিষয়ে কথা বলেছি। আমরা ভবিষ্যত নিয়ে কথা বলেছি এবং অবশ্যই নিরাপত্তা পরিষদ সমন্বিতভাবে আশা প্রকাশ করেছে যে এই অগ্রগতির ধারা বজায় রাখা যাবে, এর গতি দৃশ্যমান হবে এবং সিরীয় আরব প্রজাতন্ত্রের রাসায়নিক অস্ত্র পুরোপুরি ধ্বংসের কাজ ২০১৪ সালের জুন মাসের সময়সীমার মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

তিনি জানান যে সিরীয় কতৃপক্ষ গঠনমূলক সহযোগিতা করছে। তিনি জানান যে কিছু রাসায়নিক অস্ত্রের সরঞ্জাম যুক্তরাষ্ট্রের একটি জাহাজে ধ্বংস করা হবে এবং অন্যগুলো ধ্বংসের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন দেশে পাঠানো হবে।

খাদ্যদ্রব্যের উচ্চমূল্য অব্যাহত আছে : এফ এ ও

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এফ এ ও বলছে যে বিশ্বে খাদ্যের মূল্য বেশি হলেও স্থিতিশীল।

এফ এ ও'র খাদ্য সূচক ডিসেম্বরে গড়ে ২০৬.৭ পয়েন্টে তার আগের মাসের তুলনায় প্রায় অপরিবর্তিত ছিলো।

তবে, এফ এ ও'র জৈষ্ঠ্য অর্থনীতিবিদ আব্দোলরেজা আব্বাসিয়ান সামগ্রিক মূল্যের গড়কে ব্যাখা করার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছেন।

তিনি এক্ষেত্রে খাদ্যশস্য ও চিনির রের্কডমাত্রায় উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধির কারণে ২০১৩ সালে সেগুলোর বড়ধরণের দরপতনের কথা উল্লেখ করেন।

জলবায়ূ পরিবর্তনের বিষয়ে জাতিসংঘের যুব সম্মেলন

জলবায়ূ পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত বিষয়গুলো আলোচনার জন্যে তিনদিনের এক সম্মেলনে অংশ নিতে সুইৎজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘ দপ্তরে  বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সমবেত হয়েছেন প্রায় পাঁচশো ছাত্র-ছাত্রী এবং পঞ্চাশজন শিক্ষক।

আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এই 'দ্য মডেল ইউনাইটেড নেশন্স কনফারেন্স' এর অন্যতম উদ্যোক্তা। আইটিইউ এর ডরিন বগডান সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের স্বাগত জানিয়ে গতবছর কোষ্টারিকায় অনুষ্ঠিত যুব সম্মেলনের কথা স্মরণ করেন।

বৈশ্বিক বিষয়গুলোতে স্কুলের শিক্ষার্থীদের কূটনীতিক এবং জাতিসংঘ কর্তাদের ভূমিকা অনুশীলনের বৈশ্বিক কর্মসূচি হলো এই 'দ্য মডেল ইউনাইটেড নেশন্স কনফারেন্স'।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন