৫:৩৮:৪০

খাদ্য নষ্ট হওয়া বন্ধে জাতিসংঘের ৩ সংস্থার নতুন উদ্যোগ

শুনুন /

মানুষের জন্য বিশ্বে যতোটা খাদ্য উৎপন্ন হয় তার এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ প্রায় একশো ত্রিশ টন খাদ্য যা দিয়ে দুশো কোটি মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব তাই অপচয় হচ্ছে প্রতিবছর।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা – এফ এ ও , আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল, আই এফ এ ডি এবং বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ,ডাব্লু এফ পি যৌথভাবে খাদ্য অপচয়ের সমস্যা মোকাবেলায় এক নতুন প্রকল্পের সূচনা করেছে।

সংস্থা তিনটি সুইস উন্নয়ন সহযোগিতা প্রতিষ্ঠান, এসএডিসির অর্থায়নে সাতাশ লাখ ডলারের এই প্রকল্পটিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ফসল তোলার সময় খাদ্য নষ্ট হওয়ার সমস্যা মোকাবেলায় কাজ করবে।

প্রযুক্তি ও দক্ষতার অভাব কিম্বা পর্য্যাপ্ত অবকাঠামোর অভাবে ফসল আহরণের সময় প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন এবং গুদামজাত করার সময় এই অপচয় ঘটে থাকে।

সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা, এমডিজির আওতায় খাদ্য নিরাপত্তা বাড়ানো এবং এবং ২০১২ সালে জাতিসংঘ মহাসচিবের সূচিত জিরো হাঙ্গার চ্যালেঞ্জ এ এই তিনবছর মেয়াদী কর্মসূচি অবদান রাখবে।

দক্ষিণ সুদানে জাতিসংঘ মিশনের ক্ষমতা বাড়াতে বানের আহ্বান

সংকট অব্যাহত থাকায় দক্ষিণ সুদানের জাতিসংঘ মিশন ( আনমিস) এর ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সোমবার মি বান সাংবাদিকদের বলেন যে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যূত হয়েছেন এবং আনমিসের ঘাঁটিগুলোতে পঁয়তাল্লিশ হাজার মানুষ সুরক্ষা চাইছেন।

মহাসচিব বলেন যে জাতিগতভাবে লক্ষ্য ঠিক করে হত্যাকান্ড পরিচালনার যেসব খবর আসছে তাতে তিনি বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন এবং সেকারণে নবীনতম এই স্বাধীন রাষ্ট্রটির পরিস্থিতিতে জরুরিভিত্তিতে নজর দেওয়া প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।

সংকট মোচনের উদ্যোগের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনের জন্য তিনি আঞ্চলিক নেতাদের সাথে কথা বলবেন বলেও জানান।

মি বান বলেন যে আজই আমি নিরাপত্তা পরিষদের কাছে অতিরিক্ত সৈন্য, পুলিশ এবং প্রয়োজনীয় রসদসহ আনমিসের সুরক্ষা প্রদানের ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমার সুপারিশসম্বলিত চিঠি পাঠাবো।

মি বান বলেন যে নতুন চাহিদা পূরণের জন্য আমরা ইতোমধ্যেই বিভিন্ন দেশের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি।

মি বান বলেন যে আমরা অন্যান্য শান্তিরক্ষা মিশনগুলোতেও নজর দিচ্ছি যে তারা তাদের মিশনের হুমকি মোকাবেলার ক্ষমতা না কমিয়ে সাহায্য করতে পারে কিনা।

গণহত্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় জাতিসংঘের নতুন উদ্যোগ

মানবাধিকার লংঘনের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে জাতিসংঘ ' রাইটস আপ ফ্রন্ট' নামে এক নতুন উদ্যোগের সূচনা করেছে।

জাতিসংঘের উপ-মহাসচিব, ইয়ান এলিয়াসেন, বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে গণহত্যার ঝুঁকি মোকাবেলায় এই ছয়-দফা কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন।

এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে মানবাধিকার উন্নয়নের বিষয়ে জাতিসংঘের কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা মোকাবেলার উপায় সর্ম্পকে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তথ্য সরবরাহ।

মিশরে মানবাধিকাররক্ষীদের গ্রেপ্তারে জাতিসংঘ মানবাধিকার প্রধানের নিন্দা

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এর এক বিবৃতিতে শুক্রবার বলা হয়েছে যে কায়রোতে একটি বেসরকারী মানবাধিকার সংগঠনের কার্য্যালয়ে অভিযান পরিচালনা এবং তাদের ছজন সদস্যকে গ্রেপ্তার মিশরে নাগরিক সমাজের প্রতি হুমকি সৃষ্টি এবং হয়রানি উদ্বেগজনক মাত্রায় বৃদ্ধি পাওয়ার দৃষ্টান্ত।

বিবৃতিতে বলা হয় যে বুধবার রাতে কমপক্ষে পঞ্চাশজন সশস্ত্র ব্যাক্তি বেসামরিক পোশাকে ইজিপশিয়ান সেন্টার ফর ইকনমিক এন্ড সোশ্যাল রাইটস এর দপ্তরে অভিযান চালায়। পরে, তারা নিজেদেরকে পুলিশ এবং নিরাপত্তাবাহিনীর সদস্য হিসাবে পরিচয় দেয়।

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকশিনারের মুখপাত্র রাভিনা সামদাশানি বলেন যে ওই সময়ে সেন্টারে কাজ করছিলেন এমন ছজনকে গ্রেপ্তার করে মারধর করার অভিযোগ রয়েছে এবং সেসময়ে তিনটি ল্যাপটপ এবং নথিপত্র জব্দ করা হয়। দুটি ল্যাপটপ পরে ফেরৎ ওদওয়া হয় এবং আটককৃতদের মধ্যে পাঁচজনকে নয়ঘন্টা আটক রাখার পর ছেড়ে দেওয়া হয়। আটকাবস্থায় তাদের প্রতি দূর্ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। একজন সুপরিচিত মানবাধিকাররক্ষী , এপ্রিল সিক্সথ মুভমেন্টে এর সদস্য, মোহাম্মদ আদেল ফাহমি এখনও আটক আছেন এবং তাঁকে কোথায় রাখা হয়েছে তা অজ্ঞাত।

জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরে একইসাথে বলেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, মানবাধিকাররক্ষী ও আন্দোলনকারীদের ভয় দেখানো অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।

অভিবাসীদের জীবনরক্ষায় জোরালো ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান

১৮ই ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অভিবাসন দিবসে সংকটের মুখে পড়া অভিবাসীদের জীবনরক্ষায় আরও জোরালো ভূমিকা গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

জাতিসংঘের অনুমান উন্নত জীবনের আশায় বিশ্বে ঘরছাড়া হওয়া অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় বত্রিশ কোটি বিশ লাখ।

দিবসটি উপলক্ষ্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বলেছেন যে অভিবাসন দারিদ্র দূরীকরণের একটি শক্তিশালী মাধ্যম। তিনি একইসাথে বিভিন্ন দেশের সরকার এবং জনসাধারণের প্রতি অহেতুক বিদেশীভীতি প্রত্যাখ্যান করে অভিবাসনকে গ্রহণ করার আহ্বান জানান।

অভিবাসনকালে জীবনহানির দিক থেকে ২০১৩ সম্ভবত ছিলো সবচেয়ে প্রাণঘাতি বছর।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম বলছে যে আফ্রিকা থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টাকালেই সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

Loading the player ...

সংযোগ বজায় রাখুন